চুয়াডাঙ্গায় আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা ও মামলার রায় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা সাগর আহমেদ (ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহৃত নাম এ. এস. এম. সাগর আহমেদ), যিনি নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের মকবুল হোসেন, যিনি নিজেকে ওই আইনজীবীর সহকারী (মহরার) হিসেবে পরিচয় দিতেন।
আইনজীবী সমিতি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং উচ্চ আদালতে চলমান মামলার রায় পক্ষে এনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। এভাবে তাঁরা একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত দুজনকে চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হলে আইনজীবী সমিতির সদস্যরা তাঁদের আটক করেন এবং পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেন।
প্রতারণার খবর পেয়ে একাধিক ভুক্তভোগী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁদের ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা জানান। প্রতারণার শিকার উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামের মিরাজ হাসান বলেন, "হাইকোর্টে আমার ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে একটি মামলা চলছে। কিছু দিন আগে অভিযুক্তরা আমার বাড়িতে লোক পাঠিয়ে শুনানির মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। আমি সরল বিশ্বাসে তাঁদের কয়েক ধাপে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দিই। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকে তাঁরা মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দেন। আজকে তাঁদের আটকের খবর পেয়ে থানায় এসে অভিযুক্তদের শনাক্ত করি।"
অপর এক ভুক্তভোগী জানান, গত মে মাসে সাগর আহমেদ নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্ত সাগর নিজের শ্বশুরবাড়ি দামুড়হুদার মজলিসপুর গ্রামে জানিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন এবং জমি সংক্রান্ত মামলার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর কাজ না করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
এছাড়াও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে এরশাদপুর গ্রামের কুমার আলীর ছেলে বিপ্লব আলী" তিনি অভিযোগ করেন প্রতারক সাগর আলী তার হয়ে মামলা করে দিবে বলে ২৬/০৫/২০২৬ তারিখে তার নিকট হইতে ৯০,০০০/- টাকা ১৭/০৫/২০২৩ ইং ১৩,০০০/- সহ কয়েকধাপে ১,০৩,০০০/- আত্মসাৎ করেন। উক্ত টাকা আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করেছেন। সাগরে আহমেদ প্রকৃতপক্ষে আইনজীবী কি না, সে পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বর্তমানে অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি ও তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
চুয়াডাঙ্গায় আইনজীবী পরিচয়ে প্রতারণা ও মামলার রায় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা সাগর আহমেদ (ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহৃত নাম এ. এস. এম. সাগর আহমেদ), যিনি নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মজলিসপুর গ্রামের মকবুল হোসেন, যিনি নিজেকে ওই আইনজীবীর সহকারী (মহরার) হিসেবে পরিচয় দিতেন।
আইনজীবী সমিতি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং উচ্চ আদালতে চলমান মামলার রায় পক্ষে এনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। এভাবে তাঁরা একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্ত দুজনকে চুয়াডাঙ্গা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হলে আইনজীবী সমিতির সদস্যরা তাঁদের আটক করেন এবং পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেন।
প্রতারণার খবর পেয়ে একাধিক ভুক্তভোগী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় উপস্থিত হয়ে তাঁদের ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা জানান। প্রতারণার শিকার উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামের মিরাজ হাসান বলেন, "হাইকোর্টে আমার ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে একটি মামলা চলছে। কিছু দিন আগে অভিযুক্তরা আমার বাড়িতে লোক পাঠিয়ে শুনানির মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। আমি সরল বিশ্বাসে তাঁদের কয়েক ধাপে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দিই। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকে তাঁরা মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দেন। আজকে তাঁদের আটকের খবর পেয়ে থানায় এসে অভিযুক্তদের শনাক্ত করি।"
অপর এক ভুক্তভোগী জানান, গত মে মাসে সাগর আহমেদ নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্ত সাগর নিজের শ্বশুরবাড়ি দামুড়হুদার মজলিসপুর গ্রামে জানিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেন এবং জমি সংক্রান্ত মামলার সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে দেড় লাখ টাকা নেন। টাকা নেওয়ার পর কাজ না করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
এছাড়াও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে এরশাদপুর গ্রামের কুমার আলীর ছেলে বিপ্লব আলী" তিনি অভিযোগ করেন প্রতারক সাগর আলী তার হয়ে মামলা করে দিবে বলে ২৬/০৫/২০২৬ তারিখে তার নিকট হইতে ৯০,০০০/- টাকা ১৭/০৫/২০২৩ ইং ১৩,০০০/- সহ কয়েকধাপে ১,০৩,০০০/- আত্মসাৎ করেন। উক্ত টাকা আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা আটক দুই ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করেছেন। সাগরে আহমেদ প্রকৃতপক্ষে আইনজীবী কি না, সে পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বর্তমানে অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি ও তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন