কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে গড়ে তোলা একটি চুনাপাথর কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কারখানার তিনটি চুল্লি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে মজুত থাকা চুনাপাথর জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংযোগ দেওয়ার সময় পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলে গ্যাস নির্গমন শুরু হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা জানান, কারখানাটি এখনো চালু হয়নি। তবে সেখানে তিনটি চুল্লি নির্মাণ এবং বিপুল পরিমাণ চুনাপাথর মজুত করা হয়েছিল। অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে কারখানা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও সংযোগ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটায় বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি আর চালু করা না যায়, সে জন্য চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জব্দ করা চুনাপাথর ও চুল্লির ইট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনের লিকেজ মেরামতের কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। জমির মালিকও অবৈধভাবে কারখানা স্থাপনের জন্য জমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কারখানা পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কারখানা স্থাপনের আগে তার কাছ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি কিংবা তাকে অবহিত করা হয়নি। গ্যাস লিকেজের ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি এটি একটি অবৈধ কারখানা বলে নিশ্চিত হন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহকারী প্রধান উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে তখনও গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। প্রথমে পানিতে বুদবুদ দেখে স্থানীয়রা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও পরে বুদবুদের পরিমাণ বেড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তদন্তে নেমে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি শনাক্ত করে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ধারণা, উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে চুরি করে নবনির্মিত চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সময়ই পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে লিকেজ বন্ধে মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় তিতাস গ্যাসের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে গড়ে তোলা একটি চুনাপাথর কারখানায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কারখানার তিনটি চুল্লি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে মজুত থাকা চুনাপাথর জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আড়িয়াল খাঁ নদের তলদেশ দিয়ে যাওয়া তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে একটি চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংযোগ দেওয়ার সময় পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলে গ্যাস নির্গমন শুরু হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা জানান, কারখানাটি এখনো চালু হয়নি। তবে সেখানে তিনটি চুল্লি নির্মাণ এবং বিপুল পরিমাণ চুনাপাথর মজুত করা হয়েছিল। অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে কারখানা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও সংযোগ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটায় বিষয়টি ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি আর চালু করা না যায়, সে জন্য চুল্লিগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জব্দ করা চুনাপাথর ও চুল্লির ইট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পাইপলাইনের লিকেজ মেরামতের কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। জমির মালিকও অবৈধভাবে কারখানা স্থাপনের জন্য জমি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কারখানা পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমোদন বা লাইসেন্স ছিল না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কারখানা স্থাপনের আগে তার কাছ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়নি কিংবা তাকে অবহিত করা হয়নি। গ্যাস লিকেজের ঘটনা জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি এটি একটি অবৈধ কারখানা বলে নিশ্চিত হন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী থেকে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহকারী প্রধান উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে তখনও গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। প্রথমে পানিতে বুদবুদ দেখে স্থানীয়রা বিষয়টিকে স্বাভাবিক মনে করলেও পরে বুদবুদের পরিমাণ বেড়ে গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ তদন্তে নেমে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি শনাক্ত করে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ধারণা, উচ্চচাপের পাইপলাইন থেকে চুরি করে নবনির্মিত চুনাপাথর কারখানায় গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সময়ই পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে লিকেজ বন্ধে মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন