একবার হোঁচট খেয়েই থমকে যাননি তিনি।
ব্রয়লার মুরগির খামারে বড় অংকের লোকসান গুনেও মনোবল হারাননি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ মুজাহিদ ইসলাম। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনায় কোয়েল পাখি পালন করে তিনি এখন শুধু ক্ষতিই পুষিয়ে নেননি, বরং হয়ে উঠেছেন উপজেলার একজন সফল ও স্বাবলম্বী খামারি। তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এখন এলাকার বেকার যুবকদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুজাহিদ ইসলাম পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই কিছু করার তাগিদ থেকে গড়ে তুলেছিলেন ব্রয়লার মুরগির খামার। কিন্তু পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য, মুরগির রোগবালাই এবং বাজারদরের অস্থিতিশীলতার কারণে লাভের মুখ দেখার আগেই বড় ধরনের লোকসানের কবলে পড়েন তিনি। পুঁজি হারিয়ে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। তবে হতাশায় ভেঙে না পড়ে মুজাহিদ বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন।
ব্রয়লার খামারের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, ব্রয়লারের তুলনায় কোয়েল পাখি পালন অনেক বেশি লাভজনক এবং ঝুঁকিমুক্ত। অল্প জায়গায় ও কম খরচে কোয়েল পালন করে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব—এই ভাবনা থেকেই নতুন করে পথচলা শুরু করেন তিনি। মুজাহিদের এই পরিবর্তন ও সাফল্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন স্থানীয় অন্য খামারিরাও।
তালুক কানুপুর ইউনিয়নের আরেক খামারি লুৎফর রহমান বলেন, “মুজাহিদ প্রথমে ব্রয়লার মুরগি পালন করে বেশ লোকসানে পড়েছিল। কিন্তু সে হাল ছাড়েনি। কোয়েল পালনের সিদ্ধান্তটি তার জন্য সঠিক ছিল। এখন সে অনেক ভালো করছে। তার এই সফলতা দেখে আমাদের এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন খামার করার ব্যাপারে নতুন করে আশার আলো দেখছে।”
মুজাহিদ জানান, ব্রয়লার খামারের পরিত্যক্ত শেডটিকেই তিনি কোয়েল পালনের উপযোগী করে তোলেন। প্রথমে অল্প কিছু কোয়েল পাখি দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তাঁর খামারে শত শত কোয়েল রয়েছে। কোয়েল পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং খাবার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় দ্রুতই তিনি এর সুফল পেতে শুরু করেন। প্রতিদিন খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করছেন তিনি, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে।
নিজের সফলতার বিষয়ে মোহাম্মদ মুজাহিদ ইসলাম বলেন, “ব্রয়লার মুরগি পালন করে আমি বড় আর্থিক ধাক্কা খেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল সব শেষ। কিন্তু কোয়েল পাখি আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে এখন আমার হাতে ভালো অঙ্কের টাকা থাকছে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমি যতটুকু করেছি, তাতে আমি স্বাবলম্বী। তবে সরকারিভাবে কোনো আর্থিক সহযোগিতা বা সহজ শর্তে ঋণ পেলে খামারটি আরও বড় পরিসরে করার চিন্তা-ভাবনা আছে। এতে এলাকার আরও কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, মুজাহিদের মতো লড়াকু তরুণরা যদি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পান, তবে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রাখবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
একবার হোঁচট খেয়েই থমকে যাননি তিনি।
ব্রয়লার মুরগির খামারে বড় অংকের লোকসান গুনেও মনোবল হারাননি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ মুজাহিদ ইসলাম। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনায় কোয়েল পাখি পালন করে তিনি এখন শুধু ক্ষতিই পুষিয়ে নেননি, বরং হয়ে উঠেছেন উপজেলার একজন সফল ও স্বাবলম্বী খামারি। তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এখন এলাকার বেকার যুবকদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুক কানুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুজাহিদ ইসলাম পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই কিছু করার তাগিদ থেকে গড়ে তুলেছিলেন ব্রয়লার মুরগির খামার। কিন্তু পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য, মুরগির রোগবালাই এবং বাজারদরের অস্থিতিশীলতার কারণে লাভের মুখ দেখার আগেই বড় ধরনের লোকসানের কবলে পড়েন তিনি। পুঁজি হারিয়ে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন এই তরুণ উদ্যোক্তা। তবে হতাশায় ভেঙে না পড়ে মুজাহিদ বিকল্প পথ খুঁজতে থাকেন।
ব্রয়লার খামারের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জানতে পারেন যে, ব্রয়লারের তুলনায় কোয়েল পাখি পালন অনেক বেশি লাভজনক এবং ঝুঁকিমুক্ত। অল্প জায়গায় ও কম খরচে কোয়েল পালন করে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব—এই ভাবনা থেকেই নতুন করে পথচলা শুরু করেন তিনি। মুজাহিদের এই পরিবর্তন ও সাফল্য গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন স্থানীয় অন্য খামারিরাও।
তালুক কানুপুর ইউনিয়নের আরেক খামারি লুৎফর রহমান বলেন, “মুজাহিদ প্রথমে ব্রয়লার মুরগি পালন করে বেশ লোকসানে পড়েছিল। কিন্তু সে হাল ছাড়েনি। কোয়েল পালনের সিদ্ধান্তটি তার জন্য সঠিক ছিল। এখন সে অনেক ভালো করছে। তার এই সফলতা দেখে আমাদের এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন খামার করার ব্যাপারে নতুন করে আশার আলো দেখছে।”
মুজাহিদ জানান, ব্রয়লার খামারের পরিত্যক্ত শেডটিকেই তিনি কোয়েল পালনের উপযোগী করে তোলেন। প্রথমে অল্প কিছু কোয়েল পাখি দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তাঁর খামারে শত শত কোয়েল রয়েছে। কোয়েল পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং খাবার খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় দ্রুতই তিনি এর সুফল পেতে শুরু করেন। প্রতিদিন খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করছেন তিনি, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে।
নিজের সফলতার বিষয়ে মোহাম্মদ মুজাহিদ ইসলাম বলেন, “ব্রয়লার মুরগি পালন করে আমি বড় আর্থিক ধাক্কা খেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল সব শেষ। কিন্তু কোয়েল পাখি আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে এখন আমার হাতে ভালো অঙ্কের টাকা থাকছে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমি যতটুকু করেছি, তাতে আমি স্বাবলম্বী। তবে সরকারিভাবে কোনো আর্থিক সহযোগিতা বা সহজ শর্তে ঋণ পেলে খামারটি আরও বড় পরিসরে করার চিন্তা-ভাবনা আছে। এতে এলাকার আরও কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, মুজাহিদের মতো লড়াকু তরুণরা যদি সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পান, তবে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন