সকালের শিশিরভেজা ঘাস আর কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীতের আমেজ শুরু হতেই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত ও রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পদ্মার অপার সৌন্দর্যে মোড়ানো ঈশ্বরদী উপজেলা খেজুর রসের জন্য বিখ্যাত।
প্রতি বছর নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুতেই এখানকার গাছ থেকে সুমিষ্ট খেজুর রস পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে অধিকাংশ গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অনেক গাছ থেকে রস সংগ্রহও শুরু হয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ঈশ্বরদী কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই মৌসুমে সংগৃহীত রস থেকে খেজুর গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও চাঙা করবে। পাবনা জেলার মধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলাতেই খেজুর গাছের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খেজুর গাছ প্রস্তুতের কাজ চলছে। সকাল হলেই ঠুঙ্গি, বাইলধারা, দড়ি ও দা হাতে গাছিরা ছুটে যাচ্ছেন মাঠের দিকে। তাঁরা নিপুণ হাতে খেজুর গাছের মাথা পরিষ্কার করছেন। মাথা পরিষ্কারের পর গাছে দুই সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে শীতের আগমনে খেজুর রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিকে ঘিরে গাছিদের চোখে-মুখে এখন স্বপ্ন আর আশার ঝিলিক।
ঈশ্বরদী এলাকার চাষি রেজাউল বলেন, "আমার প্রায় শতাধিক খেজুর গাছ আছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক গাছ থেকে ইতোমধ্যে রস সংগ্রহ শুরু করেছি। বাকি গাছগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে, খুব শিগগিরই সেগুলোতেও রস সংগ্রহ শুরু হবে।"
তিনি আরও বলেন, গত শীত মৌসুমে এই গাছগুলো থেকে গুড় তৈরি করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেছিলেন। এ বছরও বাজারে গুড়ের দাম ভালো থাকলে আরও বেশি লাভের আশা করছেন।
গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছি আবু সামা বলেন, "নভেম্বরের শেষ থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত আমরা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। একজন গাছি প্রতিদিন ২০-২৫টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারেন।"
শীত মৌসুমে খেজুর রস ও গুড়কে ঘিরে গাছিদের মাঝে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫
সকালের শিশিরভেজা ঘাস আর কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। শীতের আমেজ শুরু হতেই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত ও রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পদ্মার অপার সৌন্দর্যে মোড়ানো ঈশ্বরদী উপজেলা খেজুর রসের জন্য বিখ্যাত।
প্রতি বছর নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বরের শুরুতেই এখানকার গাছ থেকে সুমিষ্ট খেজুর রস পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে অধিকাংশ গাছ রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অনেক গাছ থেকে রস সংগ্রহও শুরু হয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
ঈশ্বরদী কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই মৌসুমে সংগৃহীত রস থেকে খেজুর গুড় উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও চাঙা করবে। পাবনা জেলার মধ্যে ঈশ্বরদী উপজেলাতেই খেজুর গাছের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে খেজুর গাছ প্রস্তুতের কাজ চলছে। সকাল হলেই ঠুঙ্গি, বাইলধারা, দড়ি ও দা হাতে গাছিরা ছুটে যাচ্ছেন মাঠের দিকে। তাঁরা নিপুণ হাতে খেজুর গাছের মাথা পরিষ্কার করছেন। মাথা পরিষ্কারের পর গাছে দুই সপ্তাহের বিশ্রাম দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে শীতের আগমনে খেজুর রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরিকে ঘিরে গাছিদের চোখে-মুখে এখন স্বপ্ন আর আশার ঝিলিক।
ঈশ্বরদী এলাকার চাষি রেজাউল বলেন, "আমার প্রায় শতাধিক খেজুর গাছ আছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক গাছ থেকে ইতোমধ্যে রস সংগ্রহ শুরু করেছি। বাকি গাছগুলোও প্রস্তুত করা হয়েছে, খুব শিগগিরই সেগুলোতেও রস সংগ্রহ শুরু হবে।"
তিনি আরও বলেন, গত শীত মৌসুমে এই গাছগুলো থেকে গুড় তৈরি করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেছিলেন। এ বছরও বাজারে গুড়ের দাম ভালো থাকলে আরও বেশি লাভের আশা করছেন।
গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছি আবু সামা বলেন, "নভেম্বরের শেষ থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত আমরা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। একজন গাছি প্রতিদিন ২০-২৫টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারেন।"
শীত মৌসুমে খেজুর রস ও গুড়কে ঘিরে গাছিদের মাঝে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়।

আপনার মতামত লিখুন