কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের হাইব্রিড বীজ ব্যবহার করে অসময়ের তরমুজ চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। একসময় অনাবাদি কিংবা জলাবদ্ধ পড়ে থাকা জমিতে এখন মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাজারে অফ-সিজনে বেশি দামের কারণে প্রতি বিঘা জমি থেকে দেড় লাখ টাকারও বেশি নিট লাভ করছেন তারা।
উপজেলার চণ্ডিপাশা, এগারসিন্দুর, আঙ্গিয়াদী ও ষাইটকাহনসহ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাচার নিচে সারিবদ্ধভাবে ঝুলছে শত শত তরমুজ। কৃষকরা জানান, আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি ও উন্নত মানের হাইব্রিড বীজ ব্যবহারের ফলে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ও ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি থাকলেও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে পাকিজা, আস্থা ও সুইট ব্ল্যাক জাতের তরমুজ বেশি আবাদ হচ্ছে। এসব জাত ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয় এবং প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৮ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করায় আগাছা কম জন্মায়, মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়। পাশাপাশি মাচা পদ্ধতিতে ফল ঝুলিয়ে রাখার কারণে ফলের গুণগত মান ভালো থাকে। রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে ফেরোমন ট্র্যাপ ও ইয়েলো ট্র্যাপ ব্যবহার করায় উৎপাদিত তরমুজ তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে জানান কৃষকরা।
চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রথমবার অসময়ে তরমুজ চাষ নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি সফল হয়েছেন। প্রায় এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরমুজ বিক্রি করেছেন। পুরো মৌসুম শেষে দেড় লাখ টাকারও বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, মালচিং, মাচা নির্মাণ, পরিচর্যা ও শ্রমিকসহ মোট ব্যয় হয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে অফ-সিজনে বাজারে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় নিট লাভ হয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত তরমুজের বাজার চাহিদা অনেক বেশি। তাই তারা সরাসরি কৃষকদের ক্ষেত থেকেই তরমুজ সংগ্রহ করছেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় অসময়ের তরমুজ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করছে। উন্নত বীজ নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ খাতের আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং মানসম্মত বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে পাকুন্দিয়া ভবিষ্যতে দেশের অফ-সিজন তরমুজ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের হাইব্রিড বীজ ব্যবহার করে অসময়ের তরমুজ চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। একসময় অনাবাদি কিংবা জলাবদ্ধ পড়ে থাকা জমিতে এখন মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাজারে অফ-সিজনে বেশি দামের কারণে প্রতি বিঘা জমি থেকে দেড় লাখ টাকারও বেশি নিট লাভ করছেন তারা।
উপজেলার চণ্ডিপাশা, এগারসিন্দুর, আঙ্গিয়াদী ও ষাইটকাহনসহ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাচার নিচে সারিবদ্ধভাবে ঝুলছে শত শত তরমুজ। কৃষকরা জানান, আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি ও উন্নত মানের হাইব্রিড বীজ ব্যবহারের ফলে প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা ও ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি থাকলেও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে পাকিজা, আস্থা ও সুইট ব্ল্যাক জাতের তরমুজ বেশি আবাদ হচ্ছে। এসব জাত ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে পরিপক্ব হয় এবং প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৮ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করায় আগাছা কম জন্মায়, মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হয়। পাশাপাশি মাচা পদ্ধতিতে ফল ঝুলিয়ে রাখার কারণে ফলের গুণগত মান ভালো থাকে। রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে ফেরোমন ট্র্যাপ ও ইয়েলো ট্র্যাপ ব্যবহার করায় উৎপাদিত তরমুজ তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে জানান কৃষকরা।
চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রথমবার অসময়ে তরমুজ চাষ নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি সফল হয়েছেন। প্রায় এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরমুজ বিক্রি করেছেন। পুরো মৌসুম শেষে দেড় লাখ টাকারও বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, মালচিং, মাচা নির্মাণ, পরিচর্যা ও শ্রমিকসহ মোট ব্যয় হয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে অফ-সিজনে বাজারে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় নিট লাভ হয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত তরমুজের বাজার চাহিদা অনেক বেশি। তাই তারা সরাসরি কৃষকদের ক্ষেত থেকেই তরমুজ সংগ্রহ করছেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় অসময়ের তরমুজ চাষে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করছে। উন্নত বীজ নির্বাচন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এ খাতের আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং মানসম্মত বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে পাকুন্দিয়া ভবিষ্যতে দেশের অফ-সিজন তরমুজ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন