চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় সদর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ক্লাব এবং অসহায়-দরিদ্র মানুষের মাঝে বাইসাইকেল, ঢেউটিন, ফুটবল ও জার্সি বিতরণ করা হয়েছে। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে মঞ্চের ব্যানারে দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দুই সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।
অনুষ্ঠান শুরুর সময় চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও মঞ্চে টানানো ব্যানারে তাঁদের নাম না থাকায় উপস্থিত জনতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘিরে বাকবিতণ্ডার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে দুই সংসদ সদস্য পরিস্থিতি শান্ত করেন।
উপস্থিত ব্যক্তিদের একাংশের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র এ ঘটনায় গাফিলতি করেছেন এবং সংসদ সদস্যদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। এ ঘটনায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ইউএনও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ সময় পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা এডিপি প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল ও ক্রীড়া সামগ্রী এবং দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, অতিথি হিসেবে দুইজন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ব্যানারে তাঁদের নাম না থাকা চরম অবহেলার পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চেয়ারে বসলে ইউএনও তিথি মিত্র ক্ষুব্ধ হন। এ সময় তিনি উপস্থিত স্টাফদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমার চেয়ারে উনি বসলেন কেন?"
পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সাইকেল, ফুটবল, জার্সি এবং অসহায় মানুষের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা সাইকেল ও ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। একইভাবে হতদরিদ্র পরিবারগুলো ঢেউটিন পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সুধীজন।
অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র বলেন, "চেয়ারে বসা নিয়ে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমপি সাহেব এসে বসেছিলেন। তবে প্রশাসনিক প্রটোকল অনুযায়ী ইউএনওর নির্ধারিত চেয়ারে সংসদ সদস্য বসতে পারেন না। ওই আসনে শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রটোকলের কর্মকর্তারাই বসেন।"
ব্যানারে দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, "বিষয়টি আমার নলেজে ছিল না। ব্যানারটি ছোট ছিল। ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের কথাও অনুষ্ঠানের সময় আমরা বলেছিলাম।"

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় সদর পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ক্লাব এবং অসহায়-দরিদ্র মানুষের মাঝে বাইসাইকেল, ঢেউটিন, ফুটবল ও জার্সি বিতরণ করা হয়েছে। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে মঞ্চের ব্যানারে দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দুই সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।
অনুষ্ঠান শুরুর সময় চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও মঞ্চে টানানো ব্যানারে তাঁদের নাম না থাকায় উপস্থিত জনতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘিরে বাকবিতণ্ডার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে দুই সংসদ সদস্য পরিস্থিতি শান্ত করেন।
উপস্থিত ব্যক্তিদের একাংশের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র এ ঘটনায় গাফিলতি করেছেন এবং সংসদ সদস্যদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি। এ ঘটনায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ইউএনও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
এ সময় পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল বলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা এডিপি প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে সাইকেল ও ক্রীড়া সামগ্রী এবং দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের ব্যানারে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, অতিথি হিসেবে দুইজন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ব্যানারে তাঁদের নাম না থাকা চরম অবহেলার পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চেয়ারে বসলে ইউএনও তিথি মিত্র ক্ষুব্ধ হন। এ সময় তিনি উপস্থিত স্টাফদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমার চেয়ারে উনি বসলেন কেন?"
পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সাইকেল, ফুটবল, জার্সি এবং অসহায় মানুষের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা সাইকেল ও ক্রীড়া সামগ্রী পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। একইভাবে হতদরিদ্র পরিবারগুলো ঢেউটিন পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন, সদর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সুধীজন।
অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র বলেন, "চেয়ারে বসা নিয়ে তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমপি সাহেব এসে বসেছিলেন। তবে প্রশাসনিক প্রটোকল অনুযায়ী ইউএনওর নির্ধারিত চেয়ারে সংসদ সদস্য বসতে পারেন না। ওই আসনে শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রটোকলের কর্মকর্তারাই বসেন।"
ব্যানারে দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, "বিষয়টি আমার নলেজে ছিল না। ব্যানারটি ছোট ছিল। ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের কথাও অনুষ্ঠানের সময় আমরা বলেছিলাম।"

আপনার মতামত লিখুন