ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় এডিপির অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক, ব্যানারে এমপিদের নাম না থাকায় ক্ষোভ



চুয়াডাঙ্গায় এডিপির অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক, ব্যানারে এমপিদের নাম না থাকায় ক্ষোভ
ছবি: প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠন ও অসহায় মানুষের মধ্যে বাইসাইকেল, ঢেউটিন, ফুটবল ও জার্সি বিতরণ করা হয়েছে। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে মঞ্চের ব্যানারে দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দুই সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

অনুষ্ঠান শুরুর সময় দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও মঞ্চের ব্যানারে তাঁদের নাম উল্লেখ না থাকায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পরিস্থিতি তৈরি হলেও দুই সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

উপস্থিত কয়েকজনের অভিযোগ, ব্যানারে সংসদ সদস্যদের নাম উল্লেখ না করা এবং প্রয়োজনীয় প্রটোকল অনুসরণে গাফিলতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইউএনও তিথি মিত্র পরে দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানা যায়।

পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল বলেন, এডিপির আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও ব্যানারে তাঁদের নাম না থাকা দুঃখজনক এবং এটি দায়িত্বে অবহেলার পরিচায়ক।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্ধারিত চেয়ারে বসলে ইউএনও তিথি মিত্র আপত্তি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনা হয়।

পরে সদর উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল, ফুটবল ও জার্সি এবং অসহায় পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়। সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থী ও উপকারভোগীরা সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, চেয়ার নিয়ে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনিক প্রটোকল অনুযায়ী ইউএনওর নির্ধারিত আসন প্রশাসনের জন্য সংরক্ষিত থাকায় বিষয়টি সে অনুযায়ী দেখা হয়েছে।

ব্যানারে দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে ছিল না। ব্যানারটি ছোট হওয়ায় ভুলটি হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


চুয়াডাঙ্গায় এডিপির অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক, ব্যানারে এমপিদের নাম না থাকায় ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠন ও অসহায় মানুষের মধ্যে বাইসাইকেল, ঢেউটিন, ফুটবল ও জার্সি বিতরণ করা হয়েছে। তবে অনুষ্ঠান শুরুর আগে মঞ্চের ব্যানারে দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে দুই সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।

অনুষ্ঠান শুরুর সময় দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও মঞ্চের ব্যানারে তাঁদের নাম উল্লেখ না থাকায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পরিস্থিতি তৈরি হলেও দুই সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

উপস্থিত কয়েকজনের অভিযোগ, ব্যানারে সংসদ সদস্যদের নাম উল্লেখ না করা এবং প্রয়োজনীয় প্রটোকল অনুসরণে গাফিলতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইউএনও তিথি মিত্র পরে দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানা যায়।

পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল বলেন, এডিপির আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দুই সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকলেও ব্যানারে তাঁদের নাম না থাকা দুঃখজনক এবং এটি দায়িত্বে অবহেলার পরিচায়ক।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্ধারিত চেয়ারে বসলে ইউএনও তিথি মিত্র আপত্তি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনা হয়।

পরে সদর উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে বাইসাইকেল, ফুটবল ও জার্সি এবং অসহায় পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়। সহায়তা পেয়ে শিক্ষার্থী ও উপকারভোগীরা সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, চেয়ার নিয়ে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনিক প্রটোকল অনুযায়ী ইউএনওর নির্ধারিত আসন প্রশাসনের জন্য সংরক্ষিত থাকায় বিষয়টি সে অনুযায়ী দেখা হয়েছে।

ব্যানারে দুই সংসদ সদস্যের নাম না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে ছিল না। ব্যানারটি ছোট হওয়ায় ভুলটি হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ