১৯৭০-এর দশকে বাবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। সেখান থেকে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ, আবার অবিশ্বাস্য পতনের মুখে দেশ ছেড়ে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয় ভারতে। গত বছর জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। তাঁর অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করতে তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা। এরইমধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় জানিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান মন্তব্য করেন, ‘গণরোষ থেকে বাঁচতে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। তিনি ভারতে লুকিয়ে আছেন আর তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলো। এটি সত্যিই এক ব্যতিক্রমী গল্প।’
নির্বাসনের জীবন শেষে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরে শেখ হাসিনা প্রতিকূল রাজনৈতিক পথে এক দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের মধ্যে তিনি গৃহবন্দিত্ব ও দমন–পীড়ন মোকাবিলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয় লাভ করলে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।
ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনা এক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার পর পরবর্তী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার কাছে পরাজিত হন। কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি যখন আবার ক্ষমতায় ফেরেন, তখন তাঁকে এক বদলে যাওয়া নেত্রী হিসেবে দেখা যায়— যিনি ছিলেন আরও দৃঢ়, কম বিশ্বাসী এবং নিজের অবস্থান চিরস্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করতে বদ্ধপরিকর। পরবর্তী ১৫ বছর তিনি কঠোরতার সঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেন এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যুগের সূচনা করেন। একইসঙ্গে তিনি ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেন; অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে নয়াদিল্লির হাতকে শক্তিশালী করেন, যা পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বৈরিতা টেনে আনে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল যে, তিনি ও তাঁর সরকার একদলীয় ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। সমালোচকেরা রাজনৈতিক সহিংসতার বাড়বাড়ন্ত, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং গণমাধ্যম ও বিরোধী মতের ব্যক্তিত্বদের হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে শেখ হাসিনা ও কামালের দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগে বিচার হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে পাঁচটি অভিযোগগুলো হলো: গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো। ভুক্তভোগী একজনের বাবা আবদুর রব বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই রায় আমাদের মনে কিছুটা হলেও শান্তি এনেছে। কিন্তু তার গলায় জল্লাদের দড়ি দেখলেই আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হব।’
ভারতেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে। দেশটি একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে রায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের কথা জানায় এবং বাংলাদেশের ‘সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকার’ অঙ্গীকার করেছে। শেখ হাসিনার পরিবার তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লির প্রশংসা করেছে। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘ভারত সব সময়ই ভালো বন্ধু ছিল। এই সংকটের মুহূর্তে ভারতই মূলত আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে।’
এক দশকের বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা ছিলেন ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই তিনি নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এখন তাঁর পতনে ভারত উদ্বিগ্ন যে, অঞ্চলে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুণায়েত বলেন, নয়াদিল্লি শেখ হাসিনাকে কারাজীবন বা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে, সে বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যদিও শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি ভারতকে এমন একটি সম্ভাব্য ভিত্তি তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ভারতের প্রত্যর্পণ আইন, সেইসাথে বাংলাদেশের সাথে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে 'রাজনৈতিক অপরাধ'-এর ক্ষেতে ব্যতিক্রম রয়েছে, যা এই ধরণের পরিস্থিতির জন্যই তৈরি করা হয়েছে। অপরাধ রাজনৈতিক প্রকৃতির হলে একটি রাষ্ট্র প্রত্যর্পণ আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। অনিল ত্রিগুণায়েত বলেন, ‘ভারতকে এটিকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে, মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে নয়, যেগুলোর জন্য তাঁকে সেখানে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’
তবে ত্রিগুণায়েত উল্লেখ করেছেন যে হাসিনা এখনও সব আইনি প্রতিকার শেষ করেননি। তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন এবং তারপর সম্ভবত হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও যেতে পারেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু সব প্রতিকার শেষ হয়নি, তাই ভারত তাঁকে পাঠানোর জন্য তাড়াহুড়ো করবে না।’ যেদিন শেখ হাসিনাকে সাজা দেওয়া হয়, সেদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতকে শেখ হাসিনাকে ‘অবিলম্বে’ হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছিল। মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এটি ভারতের দায়িত্ব।’

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫
১৯৭০-এর দশকে বাবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। সেখান থেকে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ, আবার অবিশ্বাস্য পতনের মুখে দেশ ছেড়ে তাঁকে আশ্রয় নিতে হয় ভারতে। গত বছর জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। তাঁর অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করতে তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা। এরইমধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরাতে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় জানিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান মন্তব্য করেন, ‘গণরোষ থেকে বাঁচতে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। তিনি ভারতে লুকিয়ে আছেন আর তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলো। এটি সত্যিই এক ব্যতিক্রমী গল্প।’
নির্বাসনের জীবন শেষে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরে শেখ হাসিনা প্রতিকূল রাজনৈতিক পথে এক দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের মধ্যে তিনি গৃহবন্দিত্ব ও দমন–পীড়ন মোকাবিলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয় লাভ করলে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।
ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনা এক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার পর পরবর্তী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার কাছে পরাজিত হন। কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি যখন আবার ক্ষমতায় ফেরেন, তখন তাঁকে এক বদলে যাওয়া নেত্রী হিসেবে দেখা যায়— যিনি ছিলেন আরও দৃঢ়, কম বিশ্বাসী এবং নিজের অবস্থান চিরস্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করতে বদ্ধপরিকর। পরবর্তী ১৫ বছর তিনি কঠোরতার সঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেন এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যুগের সূচনা করেন। একইসঙ্গে তিনি ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেন; অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে নয়াদিল্লির হাতকে শক্তিশালী করেন, যা পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বৈরিতা টেনে আনে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল যে, তিনি ও তাঁর সরকার একদলীয় ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। সমালোচকেরা রাজনৈতিক সহিংসতার বাড়বাড়ন্ত, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং গণমাধ্যম ও বিরোধী মতের ব্যক্তিত্বদের হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। এছাড়া, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে শেখ হাসিনা ও কামালের দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের অভিযোগে বিচার হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে পাঁচটি অভিযোগগুলো হলো: গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো। ভুক্তভোগী একজনের বাবা আবদুর রব বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই রায় আমাদের মনে কিছুটা হলেও শান্তি এনেছে। কিন্তু তার গলায় জল্লাদের দড়ি দেখলেই আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হব।’
ভারতেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে। দেশটি একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে রায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের কথা জানায় এবং বাংলাদেশের ‘সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকার’ অঙ্গীকার করেছে। শেখ হাসিনার পরিবার তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লির প্রশংসা করেছে। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘ভারত সব সময়ই ভালো বন্ধু ছিল। এই সংকটের মুহূর্তে ভারতই মূলত আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে।’
এক দশকের বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা ছিলেন ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই তিনি নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এখন তাঁর পতনে ভারত উদ্বিগ্ন যে, অঞ্চলে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক কূটনীতিক অনিল ত্রিগুণায়েত বলেন, নয়াদিল্লি শেখ হাসিনাকে কারাজীবন বা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে, সে বিষয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যদিও শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি ভারতকে এমন একটি সম্ভাব্য ভিত্তি তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ভারতের প্রত্যর্পণ আইন, সেইসাথে বাংলাদেশের সাথে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে 'রাজনৈতিক অপরাধ'-এর ক্ষেতে ব্যতিক্রম রয়েছে, যা এই ধরণের পরিস্থিতির জন্যই তৈরি করা হয়েছে। অপরাধ রাজনৈতিক প্রকৃতির হলে একটি রাষ্ট্র প্রত্যর্পণ আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে। অনিল ত্রিগুণায়েত বলেন, ‘ভারতকে এটিকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে, মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে নয়, যেগুলোর জন্য তাঁকে সেখানে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’
তবে ত্রিগুণায়েত উল্লেখ করেছেন যে হাসিনা এখনও সব আইনি প্রতিকার শেষ করেননি। তিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন এবং তারপর সম্ভবত হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও যেতে পারেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু সব প্রতিকার শেষ হয়নি, তাই ভারত তাঁকে পাঠানোর জন্য তাড়াহুড়ো করবে না।’ যেদিন শেখ হাসিনাকে সাজা দেওয়া হয়, সেদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতকে শেখ হাসিনাকে ‘অবিলম্বে’ হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছিল। মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এটি ভারতের দায়িত্ব।’

আপনার মতামত লিখুন