ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মতিঝিলে ‘ছাতা বোমা’র উপকরণ পরীক্ষা ও উৎসের তদন্ত হচ্ছে


প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬

মতিঝিলে ‘ছাতা বোমা’র উপকরণ পরীক্ষা ও উৎসের তদন্ত হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী পাইপ বোমার উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে জোরালো তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বোমাটির বিভিন্ন উপাদানের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে, কারা এবং কখন এটি সেখানে রেখে গেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকটির সঙ্গে আগে বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার হওয়া বোমার কোনো মিল রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও কুমিল্লার সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করেই ছাতার ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে বোমাটি রাখা হয়েছিল। জিআই পাইপ দিয়ে তৈরি এই আইইডিতে (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ব্যাটারি, সার্কিট এবং বিপুলসংখ্যক বিয়ারিং বল সংযুক্ত ছিল। কেউ ছাতার বোতাম চাপলেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের কর্মকর্তারা।

ঘটনার দিন রথযাত্রা যখন মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন পুলিশ কৌশলে এলাকাটি ঘিরে রাখে। জনমনে আতঙ্ক এড়াতে ‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট’-এর অজুহাতে রথযাত্রার অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ পথে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রথযাত্রা শেষ হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপদে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বেআইনিভাবে বিস্ফোরক প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বহন এবং নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, ছাতার সঙ্গে এমনভাবে বিস্ফোরকটি সংযুক্ত করা হয়েছিল যে, কেউ কৌতূহলবশত খুলতে গেলেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এটি রেখেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত করছে।

সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরকটিতে ব্যবহৃত উপকরণ ও প্রযুক্তি শনাক্তে আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া এত শক্তিশালী আইইডি তৈরি করা সহজ নয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রথযাত্রার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সার্জেন্ট মেট্রোরেলের নিচে একটি ছাতা দেখতে পান, যেখানে লাল রঙের আলো জ্বলছিল। খবর পেয়ে মতিঝিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহজনক বস্তুটি ঘিরে রাখে এবং পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেয়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সফলভাবে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে।

ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে জিআই পাইপের অংশ, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক সার্কিট এবং বিপুলসংখ্যক বিয়ারিং বল। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরকটির ভেতরে প্রায় দেড় কেজি বিস্ফোরক পদার্থ ছিল, যা বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

এদিকে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মতিঝিলে ‘ছাতা বোমা’র উপকরণ পরীক্ষা ও উৎসের তদন্ত হচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া শক্তিশালী পাইপ বোমার উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে জোরালো তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বোমাটির বিভিন্ন উপাদানের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। একই সঙ্গে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে, কারা এবং কখন এটি সেখানে রেখে গেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকটির সঙ্গে আগে বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার হওয়া বোমার কোনো মিল রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ ও কুমিল্লার সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশের ধারণা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করেই ছাতার ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে বোমাটি রাখা হয়েছিল। জিআই পাইপ দিয়ে তৈরি এই আইইডিতে (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ব্যাটারি, সার্কিট এবং বিপুলসংখ্যক বিয়ারিং বল সংযুক্ত ছিল। কেউ ছাতার বোতাম চাপলেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের কর্মকর্তারা।

ঘটনার দিন রথযাত্রা যখন মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখন পুলিশ কৌশলে এলাকাটি ঘিরে রাখে। জনমনে আতঙ্ক এড়াতে ‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট’-এর অজুহাতে রথযাত্রার অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ পথে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রথযাত্রা শেষ হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপদে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বেআইনিভাবে বিস্ফোরক প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বহন এবং নাশকতার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, ছাতার সঙ্গে এমনভাবে বিস্ফোরকটি সংযুক্ত করা হয়েছিল যে, কেউ কৌতূহলবশত খুলতে গেলেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারত। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এটি রেখেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত করছে।

সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরকটিতে ব্যবহৃত উপকরণ ও প্রযুক্তি শনাক্তে আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া এত শক্তিশালী আইইডি তৈরি করা সহজ নয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রথযাত্রার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সার্জেন্ট মেট্রোরেলের নিচে একটি ছাতা দেখতে পান, যেখানে লাল রঙের আলো জ্বলছিল। খবর পেয়ে মতিঝিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহজনক বস্তুটি ঘিরে রাখে এবং পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেয়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সফলভাবে বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে।

ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে জিআই পাইপের অংশ, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক সার্কিট এবং বিপুলসংখ্যক বিয়ারিং বল। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরকটির ভেতরে প্রায় দেড় কেজি বিস্ফোরক পদার্থ ছিল, যা বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

এদিকে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ