ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের ভাইভায় চরম ভোগান্তির শিকার হাজারো চাকরিপ্রার্থী



চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের ভাইভায় চরম ভোগান্তির শিকার হাজারো চাকরিপ্রার্থী
ছবি: বালাদুল আমিন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে চালুকৃত ‘ফ্যামিলি কার্ড-২৬’ প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী ও তথ্য সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এই মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল পরিকল্পনার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন উপস্থিত হাজারো চাকরিপ্রার্থী।

উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের বিপরীতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে  এক হাজারের মতো চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। গত ২৪ জুলাই আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ ছিল। আবেদন শেষ হওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ ২৫ জুলাই সকাল ১০টায় প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য আহ্বান জানায় স্থানীয় সমাজসেবা অধিদপ্তর।

তবে এক হাজার প্রার্থীর বিপরীতে উপজেলা পরিষদে মাত্র একটি ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা না থাকায় সকাল থেকেই প্রার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। যদিও ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ ধাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রতিকূল আবহাওয়া ও আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাঙ্গণে অপরিষ্কার ও ঝোপঝাড়র থাকার কারণে মশামাছির উপদ্রবের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হন পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা দিতে আসা একাধিক চাকরিপ্রার্থী অধিদপ্তরের এমন আয়োজনে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রার্থীরা জানান, কোনো ধরনের প্রাথমিক বাছাই বা লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই হাজারো মানুষকে একসাথে ভাইভায় ডাকার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, "হাজার হাজার মানুষকে এভাবে একসাথে ডেকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রিলিমিনারি বাছাই করে উত্তীর্ণদের ভাইভায় ডাকলে যেমন সুশৃঙ্খল পরিবেশ থাকত, তেমনি প্রকৃত মেধাবীদেরও খুঁজে পাওয়া সহজ হতো।"

প্রচণ্ড গরমে ও বৈরী আবহাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর এক একজন প্রার্থী ভাইভা দিতে সক্ষম হন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরীক্ষা শেষ করে অনেককেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা যায়। জানা যায় সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া মৌখিক পরীক্ষা চলেছে সন্ধা পর্যন্ত। 

 মৌখিক পরীক্ষা শেষে বর্তমানে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মাঠপর্যায়ে মূল তথ্য সংগ্রহ ও শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা যায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের ভাইভায় চরম ভোগান্তির শিকার হাজারো চাকরিপ্রার্থী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে চালুকৃত ‘ফ্যামিলি কার্ড-২৬’ প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকারী ও তথ্য সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এই মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল পরিকল্পনার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন উপস্থিত হাজারো চাকরিপ্রার্থী।

উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের বিপরীতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে  এক হাজারের মতো চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। গত ২৪ জুলাই আবেদনের শেষ সময় নির্ধারণ ছিল। আবেদন শেষ হওয়ার পরদিনই, অর্থাৎ ২৫ জুলাই সকাল ১০টায় প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য আহ্বান জানায় স্থানীয় সমাজসেবা অধিদপ্তর।

তবে এক হাজার প্রার্থীর বিপরীতে উপজেলা পরিষদে মাত্র একটি ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা না থাকায় সকাল থেকেই প্রার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। যদিও ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ ধাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রতিকূল আবহাওয়া ও আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাঙ্গণে অপরিষ্কার ও ঝোপঝাড়র থাকার কারণে মশামাছির উপদ্রবের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে চরম দুর্ভোগের শিকার হন পরীক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা দিতে আসা একাধিক চাকরিপ্রার্থী অধিদপ্তরের এমন আয়োজনে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রার্থীরা জানান, কোনো ধরনের প্রাথমিক বাছাই বা লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই হাজারো মানুষকে একসাথে ভাইভায় ডাকার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, "হাজার হাজার মানুষকে এভাবে একসাথে ডেকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রিলিমিনারি বাছাই করে উত্তীর্ণদের ভাইভায় ডাকলে যেমন সুশৃঙ্খল পরিবেশ থাকত, তেমনি প্রকৃত মেধাবীদেরও খুঁজে পাওয়া সহজ হতো।"

প্রচণ্ড গরমে ও বৈরী আবহাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর এক একজন প্রার্থী ভাইভা দিতে সক্ষম হন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরীক্ষা শেষ করে অনেককেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা যায়। জানা যায় সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া মৌখিক পরীক্ষা চলেছে সন্ধা পর্যন্ত। 

 মৌখিক পরীক্ষা শেষে বর্তমানে চাকরিপ্রার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আগামী ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ডের জন্য মাঠপর্যায়ে মূল তথ্য সংগ্রহ ও শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা যায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ