ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। ক্লাইড নদীর ওপর ভাসছে হালকা কুয়াশা। শহরের বিভিন্ন ক্রীড়া ভেন্যুর সামনে জমতে শুরু করেছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ক্রীড়াবিদ, কর্মকর্তা ও দর্শকদের ভিড়। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও গলায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড, আবার কেউ এসেছেন বহুদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে। সেই বৈচিত্র্যময় ভিড়েই দৃশ্যমান বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। সদস্য সংখ্যা ছোট হলেও স্বপ্নে কোনো ঘাটতি নেই।
কমনওয়েলথ গেমস মানেই পদকের লড়াই। তবে কিছু দেশের গল্প শুরু হয় সাফল্যের মঞ্চে নয়, অদম্য সাহস আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের যাত্রাও ঠিক তেমনই। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, নানা প্রতিকূলতা এবং প্রবল আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এবার গ্লাসগোয় লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ১৫ ক্রীড়াবিদ।
গ্লাসগো এখন উৎসবের নগরী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে একে একে এসে পৌঁছাচ্ছেন অ্যাথলেটরা। বাংলাদেশের দলও ধীরে ধীরে পূর্ণতা পেয়েছে। মঙ্গলবার গ্লাসগোয় পৌঁছেছে সাঁতার ও বক্সিং দল, বুধবার এসেছে শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকস দল। আর বৃহস্পতিবার যোগ দেবে অ্যাথলেটিকস দল। চারটি ডিসিপ্লিনের এই ছোট্ট বহরই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রত্যাশার প্রতীক।
এবার বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে চারটি ডিসিপ্লিনে। এগুলো হলো অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, বক্সিং ও শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকস। মাত্র ১৫ জন ক্রীড়াবিদের কাঁধে এখন ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা। প্রথম দিনই তিনটি ডিসিপ্লিনে মাঠে নামবেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্সে পানিতে নামবেন সোনিয়া আক্তার, সামিউল ইসলাম রাফি ও সুকুমার রাজবংশী। সোনিয়া অংশ নেবেন মেয়েদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে, রাফি পুরুষদের ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে এবং সুকুমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহনের দায়িত্ব পেয়েছেন সামিউল ইসলাম রাফি। অন্যদিকে কিংস ব্যাটন বহনের বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন সোনিয়া আক্তার।
একই দিনে স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসে (এসইসি) রিংয়ে নামবেন বাংলাদেশের একমাত্র বক্সার রাকিব হোসেন। পুরুষদের ৫৫ কেজি বেন্টামওয়েট বিভাগে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজের সেরাটা দেওয়াই তার লক্ষ্য।
স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম অ্যান্ড অ্যারেনায় শুরু হবে বাংলাদেশের শৈল্পিক জিমন্যাস্টদের লড়াই। শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি দলগত ও ব্যক্তিগত দুই ইভেন্টেই অংশ নেবেন। ভারসাম্য, দক্ষতা ও শৈল্পিক নৈপুণ্যের পরীক্ষায় নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা তুলে ধরার অপেক্ষায় তারা।
গ্লাসগোর ট্র্যাক, টোলক্রসের নীল জল, এসইসির বক্সিং রিং কিংবা স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোমের আলোকিত মঞ্চ, সব জায়গাতেই উচ্চারিত হবে বাংলাদেশের নাম। হয়তো সবার গলায় পদক উঠবে না, হয়তো ইতিহাসের পাতায় সবার নামও লেখা থাকবে না। তবু প্রতিটি স্ট্রোক, প্রতিটি ঘুষি, প্রতিটি লাফ আর প্রতিটি দৌড়ে তারা বহন করবেন একটি দেশের আশা, সাহস এবং অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক।
কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি কখনোই শুধু পদকের হিসাব নয়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা। সেই অদম্য বিশ্বাস নিয়েই গ্লাসগোয় শুরু হচ্ছে লাল-সবুজের আরেকটি স্বপ্নযাত্রা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। ক্লাইড নদীর ওপর ভাসছে হালকা কুয়াশা। শহরের বিভিন্ন ক্রীড়া ভেন্যুর সামনে জমতে শুরু করেছে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ক্রীড়াবিদ, কর্মকর্তা ও দর্শকদের ভিড়। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও গলায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড, আবার কেউ এসেছেন বহুদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে। সেই বৈচিত্র্যময় ভিড়েই দৃশ্যমান বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। সদস্য সংখ্যা ছোট হলেও স্বপ্নে কোনো ঘাটতি নেই।
কমনওয়েলথ গেমস মানেই পদকের লড়াই। তবে কিছু দেশের গল্প শুরু হয় সাফল্যের মঞ্চে নয়, অদম্য সাহস আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের যাত্রাও ঠিক তেমনই। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, নানা প্রতিকূলতা এবং প্রবল আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে এবার গ্লাসগোয় লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ১৫ ক্রীড়াবিদ।
গ্লাসগো এখন উৎসবের নগরী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে একে একে এসে পৌঁছাচ্ছেন অ্যাথলেটরা। বাংলাদেশের দলও ধীরে ধীরে পূর্ণতা পেয়েছে। মঙ্গলবার গ্লাসগোয় পৌঁছেছে সাঁতার ও বক্সিং দল, বুধবার এসেছে শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকস দল। আর বৃহস্পতিবার যোগ দেবে অ্যাথলেটিকস দল। চারটি ডিসিপ্লিনের এই ছোট্ট বহরই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রত্যাশার প্রতীক।
এবার বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে চারটি ডিসিপ্লিনে। এগুলো হলো অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, বক্সিং ও শৈল্পিক জিমন্যাস্টিকস। মাত্র ১৫ জন ক্রীড়াবিদের কাঁধে এখন ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা। প্রথম দিনই তিনটি ডিসিপ্লিনে মাঠে নামবেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টোলক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং কমপ্লেক্সে পানিতে নামবেন সোনিয়া আক্তার, সামিউল ইসলাম রাফি ও সুকুমার রাজবংশী। সোনিয়া অংশ নেবেন মেয়েদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে, রাফি পুরুষদের ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে এবং সুকুমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন পুরুষদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহনের দায়িত্ব পেয়েছেন সামিউল ইসলাম রাফি। অন্যদিকে কিংস ব্যাটন বহনের বিশেষ সম্মান অর্জন করেছেন সোনিয়া আক্তার।
একই দিনে স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসে (এসইসি) রিংয়ে নামবেন বাংলাদেশের একমাত্র বক্সার রাকিব হোসেন। পুরুষদের ৫৫ কেজি বেন্টামওয়েট বিভাগে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজের সেরাটা দেওয়াই তার লক্ষ্য।
স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোম অ্যান্ড অ্যারেনায় শুরু হবে বাংলাদেশের শৈল্পিক জিমন্যাস্টদের লড়াই। শিশির আহমেদ, রাজীব চাকমা ও আবু সাঈদ রাফি দলগত ও ব্যক্তিগত দুই ইভেন্টেই অংশ নেবেন। ভারসাম্য, দক্ষতা ও শৈল্পিক নৈপুণ্যের পরীক্ষায় নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা তুলে ধরার অপেক্ষায় তারা।
গ্লাসগোর ট্র্যাক, টোলক্রসের নীল জল, এসইসির বক্সিং রিং কিংবা স্যার ক্রিস হয় ভেলোড্রোমের আলোকিত মঞ্চ, সব জায়গাতেই উচ্চারিত হবে বাংলাদেশের নাম। হয়তো সবার গলায় পদক উঠবে না, হয়তো ইতিহাসের পাতায় সবার নামও লেখা থাকবে না। তবু প্রতিটি স্ট্রোক, প্রতিটি ঘুষি, প্রতিটি লাফ আর প্রতিটি দৌড়ে তারা বহন করবেন একটি দেশের আশা, সাহস এবং অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক।
কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি কখনোই শুধু পদকের হিসাব নয়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা। সেই অদম্য বিশ্বাস নিয়েই গ্লাসগোয় শুরু হচ্ছে লাল-সবুজের আরেকটি স্বপ্নযাত্রা।

আপনার মতামত লিখুন