দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় অর্পিত সম্পত্তি ও সরকারি খতিয়ানভুক্ত বিপুল পরিমাণ জমি-পুকুর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইজারা, উন্মুক্ত টেন্ডার কিংবা বৈধ বন্দোবস্ত ছাড়াই কোটি টাকার সরকারি এসব সম্পত্তি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ভোগদখল করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় অন্তত ৫০টিরও বেশি অর্পিত পুকুর এবং সরকারি খাস জমি বর্তমানে বেদখল অবস্থায় রয়েছে। মির্জাপুর, চকপাড়া, পূর্ব জগন্নাথপুর, দক্ষিণ শাহাবাজপুর, বেলপুকুর, শৌলান, জোদমাদব, খিয়ার রামকৃষ্ণপুর ও বড় গোপালপুরসহ একাধিক মৌজার সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পূর্ব জগন্নাথপুর মৌজার একটি পুকুরের বন্দোবস্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের পুকুর এবং জোদমাদব ও খিয়ার রামকৃষ্ণপুর এলাকার কয়েকটি সরকারি জমিও প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলা ১৪৩৩ সনের খাস সম্পত্তি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রচার ও সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ইজারা দেওয়ার পরিবর্তে গোপনে একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথির একটি অংশ উপজেলা পর্যায়ে সংরক্ষিত নেই অথবা হারিয়ে গেছে। এতে সম্পত্তিগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীনের দপ্তরের দায়িত্ব সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে দলিলের চেয়ে বেশি জমি নামজারি এবং ভুয়া ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে নামজারির অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীন বলেন, “অর্পিত ও সরকারি খাস সম্পত্তির দেখভাল আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট এখনো হাতে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জানে আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেদখল সরকারি ও অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা গেলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে জনস্বার্থও সুরক্ষিত হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় অর্পিত সম্পত্তি ও সরকারি খতিয়ানভুক্ত বিপুল পরিমাণ জমি-পুকুর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইজারা, উন্মুক্ত টেন্ডার কিংবা বৈধ বন্দোবস্ত ছাড়াই কোটি টাকার সরকারি এসব সম্পত্তি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ভোগদখল করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় অন্তত ৫০টিরও বেশি অর্পিত পুকুর এবং সরকারি খাস জমি বর্তমানে বেদখল অবস্থায় রয়েছে। মির্জাপুর, চকপাড়া, পূর্ব জগন্নাথপুর, দক্ষিণ শাহাবাজপুর, বেলপুকুর, শৌলান, জোদমাদব, খিয়ার রামকৃষ্ণপুর ও বড় গোপালপুরসহ একাধিক মৌজার সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পূর্ব জগন্নাথপুর মৌজার একটি পুকুরের বন্দোবস্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের পুকুর এবং জোদমাদব ও খিয়ার রামকৃষ্ণপুর এলাকার কয়েকটি সরকারি জমিও প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলা ১৪৩৩ সনের খাস সম্পত্তি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রচার ও সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে ইজারা দেওয়ার পরিবর্তে গোপনে একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথির একটি অংশ উপজেলা পর্যায়ে সংরক্ষিত নেই অথবা হারিয়ে গেছে। এতে সম্পত্তিগুলোর প্রকৃত অবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীনের দপ্তরের দায়িত্ব সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে দলিলের চেয়ে বেশি জমি নামজারি এবং ভুয়া ওয়ারিশ সনদের মাধ্যমে নামজারির অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীন বলেন, “অর্পিত ও সরকারি খাস সম্পত্তির দেখভাল আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট এখনো হাতে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. জানে আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য জানতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বেদখল সরকারি ও অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বন্দোবস্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা গেলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে জনস্বার্থও সুরক্ষিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন