ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হাইকোর্টের আদেশে রংপুর প্রেসক্লাবে সদস্যভুক্তি নিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫

হাইকোর্টের আদেশে রংপুর প্রেসক্লাবে সদস্যভুক্তি নিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত

রংপুর প্রেসক্লাবে প্রশাসকের মাধ্যমে নতুন সদস্যভুক্তি নিয়ে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর সেন্ট্রাল কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে প্রেসক্লাব মামলার আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম, মাহে আলম ও মোকছেদ বাহলুল এই তথ্য জানান। তাঁরা বলেন, নিবন্ধন নিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রেসক্লাবে প্রশাসক নিয়োগ এবং সেই প্রশাসকের কার্যক্রম বাতিল করতে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালের ইন্ধনে প্রেসক্লাবের তর্কিত প্রশাসক আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সদস্যভুক্তি করেছেন।

আইনজীবীরা জানান, সদস্যভুক্তি নিয়ে একটি মিস কেস করা হলে আদালত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন সদস্য নেওয়া হলো তা প্রশাসকসহ প্রতিপক্ষের কাছে জানতে চায়। অপরদিকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত সদস্যভুক্তি নিয়ে নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব কমিটি উচ্চ আদালতে আবেদন করলে গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মাহমুদুল হক রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিতসহ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। এই আদেশের মাধ্যমে তর্কিত প্রশাসকের নেওয়া ১০৫ জন নতুন সদস্যভুক্তি নিয়ে প্রশাসকের সকল কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। আইনজীবীরা জানান, দ্রুতই উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়ে রংপুর প্রেসক্লাবের ওপর সমাজসেবা অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপ নিরসন হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোনাব্বর হোসেন মনা, সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলী, সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রেসক্লাব মামলার আইনজীবী মোকছেদ বাহালুল বলেন, পূর্বের কমিটির বহিষ্কৃত সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অবস্থায় বড় অংকের টাকা দুর্নীতি করেছে। এর বিরুদ্ধে বর্তমান কমিটির করা মামলায় তারা প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে টোটাল সিস্টেমকে উল্টে দেওয়ার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রেসক্লাবে প্রশাসক নিয়োগ, সদস্যভুক্তি করাসহ নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় আজ শেখ হাসিনা পালিয়েছে, কিন্তু প্রেসক্লাবের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় ফ্যাসিস্ট আমলের মতো আমাদের আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে উচ্চ আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে তাঁদের প্রাথমিক বিজয় এসেছে।

অপর আইনজীবী মাহে আলম বলেন, তর্কিত প্রশাসকের মাধ্যমে প্রেসক্লাবে সদস্যভুক্তি নিয়ে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থায় থাকার আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু তর্কিত প্রশাসক আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করে প্রেসক্লাবে ১০৫ জন নতুন সদস্য নিয়েছে। সাবেক ডিসি রবিউল ফয়সাল সেই বিজ্ঞপ্তি তাঁর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে আদালতে ভায়োলেশন মামলা চলমান রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতে এত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করার পরেও রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রেসক্লাব নিয়ে যে রায় দিয়েছে, তাঁরা মনে করেন তা ম্যানুপুলেট করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিনিধি যদি গণমাধ্যমের গলা চেপে ধরে, তাহলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকে না এবং প্রশাসনের থাবার নিচে থেকে সাংবাদিকতা হতে পারে না।

প্রেসক্লাব মামলার আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম বলেন, প্রেসক্লাবে তর্কিত প্রশাসকের সদস্যভুক্তি নিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, সদস্য নেওয়ার ব্যাপারে পূর্বে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত নিম্ন আদালতের যে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছিল, সেই আদেশ স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত। এর মাধ্যমে প্রেসক্লাবে সদস্যভুক্তির কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসকের মাধ্যমে কমিটি করারও কোনো সুযোগ নেই এবং প্রেসক্লাবে তাদের বসানোরও কোনো সুযোগ নেই।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলী বলেন, তাঁর আমলেই প্রেসক্লাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যক পেশাদার সাংবাদিককে সদস্য করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আগামীতেও গঠনতন্ত্র মেনে সকল পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী রংপুর প্রেসক্লাব এ জেলার মানুষের সম্পদ। এটা নিয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে কোনো দুর্নীতিবাজরা ষড়যন্ত্র করবে তা সাংবাদিকসহ সচেতনরা মেনে নেবে না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হাইকোর্টের আদেশে রংপুর প্রেসক্লাবে সদস্যভুক্তি নিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত

প্রকাশের তারিখ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

রংপুর প্রেসক্লাবে প্রশাসকের মাধ্যমে নতুন সদস্যভুক্তি নিয়ে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর সেন্ট্রাল কনভেনশন সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে প্রেসক্লাব মামলার আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম, মাহে আলম ও মোকছেদ বাহলুল এই তথ্য জানান। তাঁরা বলেন, নিবন্ধন নিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রেসক্লাবে প্রশাসক নিয়োগ এবং সেই প্রশাসকের কার্যক্রম বাতিল করতে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালের ইন্ধনে প্রেসক্লাবের তর্কিত প্রশাসক আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সদস্যভুক্তি করেছেন।

আইনজীবীরা জানান, সদস্যভুক্তি নিয়ে একটি মিস কেস করা হলে আদালত নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন সদস্য নেওয়া হলো তা প্রশাসকসহ প্রতিপক্ষের কাছে জানতে চায়। অপরদিকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত সদস্যভুক্তি নিয়ে নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব কমিটি উচ্চ আদালতে আবেদন করলে গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মাহমুদুল হক রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিতসহ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন। এই আদেশের মাধ্যমে তর্কিত প্রশাসকের নেওয়া ১০৫ জন নতুন সদস্যভুক্তি নিয়ে প্রশাসকের সকল কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। আইনজীবীরা জানান, দ্রুতই উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়ে রংপুর প্রেসক্লাবের ওপর সমাজসেবা অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপ নিরসন হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোনাব্বর হোসেন মনা, সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলী, সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

প্রেসক্লাব মামলার আইনজীবী মোকছেদ বাহালুল বলেন, পূর্বের কমিটির বহিষ্কৃত সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অবস্থায় বড় অংকের টাকা দুর্নীতি করেছে। এর বিরুদ্ধে বর্তমান কমিটির করা মামলায় তারা প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে টোটাল সিস্টেমকে উল্টে দেওয়ার অপচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রেসক্লাবে প্রশাসক নিয়োগ, সদস্যভুক্তি করাসহ নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় আজ শেখ হাসিনা পালিয়েছে, কিন্তু প্রেসক্লাবের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় ফ্যাসিস্ট আমলের মতো আমাদের আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে উচ্চ আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে তাঁদের প্রাথমিক বিজয় এসেছে।

অপর আইনজীবী মাহে আলম বলেন, তর্কিত প্রশাসকের মাধ্যমে প্রেসক্লাবে সদস্যভুক্তি নিয়ে রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত উভয়পক্ষকে স্থিতাবস্থায় থাকার আদেশ দিয়েছিল। কিন্তু তর্কিত প্রশাসক আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করে প্রেসক্লাবে ১০৫ জন নতুন সদস্য নিয়েছে। সাবেক ডিসি রবিউল ফয়সাল সেই বিজ্ঞপ্তি তাঁর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছেন। এ নিয়ে আদালতে ভায়োলেশন মামলা চলমান রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতে এত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করার পরেও রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রেসক্লাব নিয়ে যে রায় দিয়েছে, তাঁরা মনে করেন তা ম্যানুপুলেট করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিনিধি যদি গণমাধ্যমের গলা চেপে ধরে, তাহলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকে না এবং প্রশাসনের থাবার নিচে থেকে সাংবাদিকতা হতে পারে না।

প্রেসক্লাব মামলার আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম বলেন, প্রেসক্লাবে তর্কিত প্রশাসকের সদস্যভুক্তি নিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, সদস্য নেওয়ার ব্যাপারে পূর্বে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত নিম্ন আদালতের যে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছিল, সেই আদেশ স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত। এর মাধ্যমে প্রেসক্লাবে সদস্যভুক্তির কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসকের মাধ্যমে কমিটি করারও কোনো সুযোগ নেই এবং প্রেসক্লাবে তাদের বসানোরও কোনো সুযোগ নেই।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরিনা লাভলী বলেন, তাঁর আমলেই প্রেসক্লাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যক পেশাদার সাংবাদিককে সদস্য করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আগামীতেও গঠনতন্ত্র মেনে সকল পেশাদার সাংবাদিকদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী রংপুর প্রেসক্লাব এ জেলার মানুষের সম্পদ। এটা নিয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করে কোনো দুর্নীতিবাজরা ষড়যন্ত্র করবে তা সাংবাদিকসহ সচেতনরা মেনে নেবে না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ