নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সোহাসা মৌজার একটি সরকারি খাস পুকুর লিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পুকুরটির নামে ৯৩ হাজার টাকা নেওয়া হলেও তার কোনো সরকারি রশিদ দেওয়া হয়নি এবং অর্থটি সরকারি কোষাগারেও জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সরকারি রাজস্ব আদায়, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোহাসা মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ১৩৮২ নম্বর দাগভুক্ত ১ একর ৬৩ শতাংশ আয়তনের সরকারি খাস পুকুরটি এখনো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ দেওয়া হয়নি। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, লিজ ছাড়া কোনো ব্যক্তি সরকারি খাস পুকুর ভোগদখল বা ব্যবহার করতে পারেন না। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রদল ও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি দখলে রেখে মাছ চাষ করে আসছেন। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন বদলগাছী ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিল হোসেন এবং সোহাসা গ্রামের সাফিন, হাসিম, নুরুজ্জামান (ধলু), রনি ও আরও কয়েকজন। ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পুকুরটি খাস আদায়ের আওতায় আনতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামান (ধলু) বলেন, "পুকুরটির লিজ না থাকায় আমরা কয়েকজন ছাত্রদলের কর্মী এক বছরের জন্য খাস আদায়ের উদ্দেশ্যে ৯৩ হাজার টাকা ভূমি অফিসের তৎকালীন নাজির আফরিন জাহানের কাছে জমা দিয়েছি। টাকা দেওয়ার পর থেকেই আমরা পুকুরে মাছ চাষ করছি। কিন্তু আমাদের কোনো সরকারি রশিদ দেওয়া হয়নি।" তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অন্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বদলগাছী উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক নাজির আফরিন জাহান দাবি করেন, "ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমি টাকা নিয়েছিলাম। তবে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। বদলি হওয়ার সময় আমি অফিসে ওই টাকা বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি।" তবে কোন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি অর্থ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম প্রকাশ করেননি। উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি খাস পুকুরের নামে কীভাবে সরকারি রশিদ ছাড়া ৯৩ হাজার টাকা নেওয়া হলো, সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হলো না কেন এবং বৈধ লিজ ছাড়াই কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, খাস পুকুর ইজারা বা খাস আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি চালান ও রশিদ ছাড়া কোনো অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সরকারি আর্থিক বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দীন বলেন, "পুকুরটি কারও নামে লিজ দেওয়া হয়নি। লিজ ছাড়া সরকারি খাস পুকুরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে মাছ চাষ করতে পারেন না। টাকা নেওয়ার বিষয়ে কেউ দাবি করলে তাকে রশিদ দেখাতে হবে। পুকুরটির সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তহসিলদারের। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সোহাসা মৌজার একটি সরকারি খাস পুকুর লিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পুকুরটির নামে ৯৩ হাজার টাকা নেওয়া হলেও তার কোনো সরকারি রশিদ দেওয়া হয়নি এবং অর্থটি সরকারি কোষাগারেও জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সরকারি রাজস্ব আদায়, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোহাসা মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ১৩৮২ নম্বর দাগভুক্ত ১ একর ৬৩ শতাংশ আয়তনের সরকারি খাস পুকুরটি এখনো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে লিজ দেওয়া হয়নি। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, লিজ ছাড়া কোনো ব্যক্তি সরকারি খাস পুকুর ভোগদখল বা ব্যবহার করতে পারেন না। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রদল ও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি দখলে রেখে মাছ চাষ করে আসছেন। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন বদলগাছী ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাকিল হোসেন এবং সোহাসা গ্রামের সাফিন, হাসিম, নুরুজ্জামান (ধলু), রনি ও আরও কয়েকজন। ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পুকুরটি খাস আদায়ের আওতায় আনতে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামান (ধলু) বলেন, "পুকুরটির লিজ না থাকায় আমরা কয়েকজন ছাত্রদলের কর্মী এক বছরের জন্য খাস আদায়ের উদ্দেশ্যে ৯৩ হাজার টাকা ভূমি অফিসের তৎকালীন নাজির আফরিন জাহানের কাছে জমা দিয়েছি। টাকা দেওয়ার পর থেকেই আমরা পুকুরে মাছ চাষ করছি। কিন্তু আমাদের কোনো সরকারি রশিদ দেওয়া হয়নি।" তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত অন্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বদলগাছী উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক নাজির আফরিন জাহান দাবি করেন, "ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমি টাকা নিয়েছিলাম। তবে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। বদলি হওয়ার সময় আমি অফিসে ওই টাকা বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি।" তবে কোন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি অর্থ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম প্রকাশ করেননি। উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি খাস পুকুরের নামে কীভাবে সরকারি রশিদ ছাড়া ৯৩ হাজার টাকা নেওয়া হলো, সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হলো না কেন এবং বৈধ লিজ ছাড়াই কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, খাস পুকুর ইজারা বা খাস আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি চালান ও রশিদ ছাড়া কোনো অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই। ফলে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সরকারি আর্থিক বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দীন বলেন, "পুকুরটি কারও নামে লিজ দেওয়া হয়নি। লিজ ছাড়া সরকারি খাস পুকুরে কেউ ব্যক্তিগতভাবে মাছ চাষ করতে পারেন না। টাকা নেওয়ার বিষয়ে কেউ দাবি করলে তাকে রশিদ দেখাতে হবে। পুকুরটির সার্বিক দেখভালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তহসিলদারের। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন