ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সান্তাহারে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনতার বিস্ফোরণ : চার আবাসিক হোটেলে তালা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

সান্তাহারে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনতার বিস্ফোরণ : চার আবাসিক হোটেলে তালা
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার শহরের স্টেশন রোডের অর্ধডজন আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা চারটি হোটেলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয়দের সংগঠিত বিক্ষোভে পলাশ বোর্ডিং, মাসুসিতা হোটেল, সান্তাহার বোর্ডিং এবং শুভ বোর্ডিং এই চার প্রতিষ্ঠানের দরজায় তালা লাগানো হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা ও উদাসীনতার সুযোগে এসব হোটেলে দিনের পর দিন দেহ ব্যবসা, মাদক ও জুয়ার আসরসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, চার হোটেলে প্রতিদিন দিন-রাত অবাধে দেহ ব্যবসা চলে। ম্যানেজার আজাদ, বাবু, ফরিদ ও এমদাদসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। একই সঙ্গে মাদক সেবন, মাদক কারবার ও জুয়ার আসরও চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, স্টেশন রোড এখন ‘মিনি পতিতালয়’-এ পরিণত হয়েছে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুব সমাজ।
অভিযোগ আছে ট্রেনযাত্রীদের বিভিন্ন অজুহাতে হোটেলে নিয়ে গিয়ে কখনও ভয়ভীতি দেখিয়ে, কখনও চক্রান্ত করে তাদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী ঘটনাটি প্রকাশও করেন না।
কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ হোটেলগুলোর পাশ দিয়েই সান্তাহার সরকারি কলেজের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে। এলাকাবাসীর দাবি, হোটেলের কর্মচারীরা প্রায়ই কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে থাকে। এ নিয়ে পূর্বেও বহুবার অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের বিব্রতকর পরিস্থিতি স্টেশন রোডের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে সান্তাহার প্রেসক্লাব থাকায় সাংবাদিকরা প্রায়ই এলাকাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু হোটেলগুলোর অশালীন পরিবেশে তাদেরও বিব্রত হতে হয়। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
এলাকার কয়েকজন দোকানদার অভিযোগ করেছেন, সান্তাহার শহর পুলিশের নিয়োগপ্রাপ্ত সুনিল নামের এক ব্যক্তি প্রতিদিন এই হোটেলগুলো থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। স্থানীয়দের দাবি তার কারণেই হোটেলগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মালশন গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, হোটেলগুলোর অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বহুবার পুলিশকে জানিয়েছি। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং দেখেও না দেখার ভান করেছে তারা। বাধ্য হয়েই জনতা তালা দিয়েছে।
নাগরিক কমিটির কঠোর প্রতিক্রিয়া সান্তাহার নাগরিক কমিটির সদস্য ও সাবেক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন নোংরামি লজ্জাজনক। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। পুলিশের অবস্থান বিষয়টি জানতে সান্তাহার টাউন পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সান্তাহারে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনতার বিস্ফোরণ : চার আবাসিক হোটেলে তালা

প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার শহরের স্টেশন রোডের অর্ধডজন আবাসিক হোটেল দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা চারটি হোটেলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থানীয়দের সংগঠিত বিক্ষোভে পলাশ বোর্ডিং, মাসুসিতা হোটেল, সান্তাহার বোর্ডিং এবং শুভ বোর্ডিং এই চার প্রতিষ্ঠানের দরজায় তালা লাগানো হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা ও উদাসীনতার সুযোগে এসব হোটেলে দিনের পর দিন দেহ ব্যবসা, মাদক ও জুয়ার আসরসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, চার হোটেলে প্রতিদিন দিন-রাত অবাধে দেহ ব্যবসা চলে। ম্যানেজার আজাদ, বাবু, ফরিদ ও এমদাদসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। একই সঙ্গে মাদক সেবন, মাদক কারবার ও জুয়ার আসরও চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, স্টেশন রোড এখন ‘মিনি পতিতালয়’-এ পরিণত হয়েছে, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুব সমাজ।
অভিযোগ আছে ট্রেনযাত্রীদের বিভিন্ন অজুহাতে হোটেলে নিয়ে গিয়ে কখনও ভয়ভীতি দেখিয়ে, কখনও চক্রান্ত করে তাদের টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সম্মানের ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী ঘটনাটি প্রকাশও করেন না।
কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ হোটেলগুলোর পাশ দিয়েই সান্তাহার সরকারি কলেজের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে। এলাকাবাসীর দাবি, হোটেলের কর্মচারীরা প্রায়ই কলেজগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে থাকে। এ নিয়ে পূর্বেও বহুবার অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের বিব্রতকর পরিস্থিতি স্টেশন রোডের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে সান্তাহার প্রেসক্লাব থাকায় সাংবাদিকরা প্রায়ই এলাকাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু হোটেলগুলোর অশালীন পরিবেশে তাদেরও বিব্রত হতে হয়। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
এলাকার কয়েকজন দোকানদার অভিযোগ করেছেন, সান্তাহার শহর পুলিশের নিয়োগপ্রাপ্ত সুনিল নামের এক ব্যক্তি প্রতিদিন এই হোটেলগুলো থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। স্থানীয়দের দাবি তার কারণেই হোটেলগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মালশন গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, হোটেলগুলোর অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বহুবার পুলিশকে জানিয়েছি। কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং দেখেও না দেখার ভান করেছে তারা। বাধ্য হয়েই জনতা তালা দিয়েছে।
নাগরিক কমিটির কঠোর প্রতিক্রিয়া সান্তাহার নাগরিক কমিটির সদস্য ও সাবেক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন নোংরামি লজ্জাজনক। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। পুলিশের অবস্থান বিষয়টি জানতে সান্তাহার টাউন পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ