ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তথ্য গোপন করে দুই পদে চাকরি, বেতনও তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬

তথ্য গোপন করে দুই পদে চাকরি, বেতনও তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে একই সময়ে দুটি সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে দুই জায়গা থেকেই বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুরের এমপিওভুক্ত দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার (বর্তমানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত) এবং চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব এখলাছপুর সাব-পোস্ট অফিসের অতিরিক্ত বিভাগীয় (ইডিএ) পোস্টমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা ইকরাম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। সম্প্রতি তার একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহের অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হন। বর্তমানে সুপারের দায়িত্বে না থাকলেও সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই তিনি পোস্টমাস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে গত জুন মাসের বেতন গ্রহণের তথ্য সামনে আনা হলে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করায় ওই মাসের বেতন নিয়েছিলেন। পরে আবার দাবি করেন, সেই অর্থ ফেরত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পোস্টমাস্টার আনিছুর রহমান বলেন, মাদ্রাসায় চাকরির বিষয়টি গোপন রেখে ইকরাম হোসেন হামিদ ইডিএ পোস্টমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জুন মাসের বেতনও গ্রহণ করেছেন। পরে বিষয়টি জানার পর ওই অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে। তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি। তবে জেলা পোস্ট পরিদর্শকের নির্দেশে আপাতত তার বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পোস্টমাস্টারদের বেতন বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেওয়া হলেও আইবাস++ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। সেই ব্যবস্থায় বেতন গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ইকরাম হোসেন হামিদ জমা দিয়েছেন।

চাঁদপুর জেলা পোস্ট পরিদর্শক ফারুক খান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। একটি পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাস থেকে তার নামে আর বেতনের বিল পাঠানো হবে না।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি চাকরিতে থাকতে পারেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইকরাম হোসেন হামিদ ৩০ এপ্রিল তারিখের একটি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তবে ওই কপিতে কোনো গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর বা রিসিভিং সিল নেই।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


তথ্য গোপন করে দুই পদে চাকরি, বেতনও তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে একই সময়ে দুটি সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে দুই জায়গা থেকেই বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ উপজেলার পূর্ব এখলাছপুরের এমপিওভুক্ত দারুল এখলাছ আমেনা (রা.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার (বর্তমানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত) এবং চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব এখলাছপুর সাব-পোস্ট অফিসের অতিরিক্ত বিভাগীয় (ইডিএ) পোস্টমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা ইকরাম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুখিয়া পূর্ব ইউনিয়ন শাখার সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। সম্প্রতি তার একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহের অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হন। বর্তমানে সুপারের দায়িত্বে না থাকলেও সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ইকরাম হোসেন হামিদ দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই তিনি পোস্টমাস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে গত জুন মাসের বেতন গ্রহণের তথ্য সামনে আনা হলে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করায় ওই মাসের বেতন নিয়েছিলেন। পরে আবার দাবি করেন, সেই অর্থ ফেরত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পোস্টমাস্টার আনিছুর রহমান বলেন, মাদ্রাসায় চাকরির বিষয়টি গোপন রেখে ইকরাম হোসেন হামিদ ইডিএ পোস্টমাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জুন মাসের বেতনও গ্রহণ করেছেন। পরে বিষয়টি জানার পর ওই অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে। তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি। তবে জেলা পোস্ট পরিদর্শকের নির্দেশে আপাতত তার বেতন স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পোস্টমাস্টারদের বেতন বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেওয়া হলেও আইবাস++ ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। সেই ব্যবস্থায় বেতন গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ইকরাম হোসেন হামিদ জমা দিয়েছেন।

চাঁদপুর জেলা পোস্ট পরিদর্শক ফারুক খান বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। একটি পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী মাস থেকে তার নামে আর বেতনের বিল পাঠানো হবে না।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী একই ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি চাকরিতে থাকতে পারেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইকরাম হোসেন হামিদ ৩০ এপ্রিল তারিখের একটি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তবে ওই কপিতে কোনো গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর বা রিসিভিং সিল নেই।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ