ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যমুনার তীব্র স্রোতে টাঙ্গাইলে বাঁধ ধস, বিকল্প পথে চলাচলে বাড়ছে ভোগান্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬

যমুনার তীব্র স্রোতে টাঙ্গাইলে বাঁধ ধস, বিকল্প পথে চলাচলে বাড়ছে ভোগান্তি
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদী রক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে। এতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, আশপাশের বসতবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রোববার (১৯ জুলাই) থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নদীর তীব্র স্রোতে সড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে সড়কের পাশের বড় বড় গাছ কেটে গুঁড়িগুলো নদীতে ফেলা হচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর থেকে শ্রমিকরা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলছেন। প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চললেও স্থানীয়দের মতে, এটি কেবল সাময়িক সমাধান। তারা বলছেন, স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতি বছরই একই সংকট ফিরে আসবে।

সড়ক বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সালিম আহমেদ বলেন, "কয়েকদিন ধরেই যমুনার স্রোত অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নদী নতুন নতুন এলাকা গিলে খাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি নদী শাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তাই দ্রুত টেকসই নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


যমুনার তীব্র স্রোতে টাঙ্গাইলে বাঁধ ধস, বিকল্প পথে চলাচলে বাড়ছে ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদী রক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশে আকস্মিক ধস দেখা দিয়েছে। এতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক, আশপাশের বসতবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রোববার (১৯ জুলাই) থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

নদীর তীব্র স্রোতে সড়কের একাধিক অংশ ভাঙনের মুখে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে। পাশাপাশি নদীর স্রোতের আঘাত কমাতে সড়কের পাশের বড় বড় গাছ কেটে গুঁড়িগুলো নদীতে ফেলা হচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর থেকে শ্রমিকরা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলছেন। প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চললেও স্থানীয়দের মতে, এটি কেবল সাময়িক সমাধান। তারা বলছেন, স্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতি বছরই একই সংকট ফিরে আসবে।

সড়ক বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সালিম আহমেদ বলেন, "কয়েকদিন ধরেই যমুনার স্রোত অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নদী নতুন নতুন এলাকা গিলে খাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি নদী শাসনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তাই দ্রুত টেকসই নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ