ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দীর্ঘদিন বন্ধের পর অবশেষে খুলেছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাব



দীর্ঘদিন বন্ধের পর অবশেষে খুলেছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাব

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাবটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার ও পরবর্তীতে বিগত সরকারের পতনের সময় অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানটি সংস্কারের মধ্য দিয়ে আবার সচল করার কার্যক্রম শুরু করেছেন ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।


নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ক্লাবের পদাধিকারবলে সভাপতি মো. রায়হান কবিরের অনুমতি পাওয়ার পর শুরু হয়েছে ভবনটির ধোয়া-মোছা ও আংশিক সংস্কারকাজ।নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত এ ক্লাবটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শুটিং ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটি মূলত বিতর্কিত রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার সময় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তাঁর সমর্থকদের এ ক্লাবটি ব্যবহার করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এটি তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা ক্লাবটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।


বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের এই সক্রিয় সদস্যটির নিবন্ধন ও ক্রীড়া পরিবেশ রক্ষা করতেই জেলা প্রশাসন স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক শুটার এম এ সাত্তার ভুট্টু বলেন,

"আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি ক্লাবটি পরিষ্কার করে কার্যক্রম শুরুর পরামর্শ দিয়েছেন। এটি মূলত কোনো রাজনৈতিক ক্লাব নয়, একটি স্পোর্টস ক্লাব। ১৯৭৮ সাল থেকে আমি এর সঙ্গে জড়িত। একসময় রাজনৈতিক প্রভাবে এটিকে সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল, আমরা আসতে পারতাম না। আশা করছি এবার এটি আগের চেয়েও ভালোভাবে পরিচালিত হবে।"


ক্লাবটির একটি অংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমিতে অবস্থিত। সওজের সাথে সেনাবাহিনীর জমি বিনিময়ের চুক্তি অনুযায়ী ওই অংশটি বাদ দেওয়া হবে।


এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, ক্লাবের যে অংশে সংস্কারকাজ চলছে, সেটি তাদের নিজস্ব জায়গা। সওজের অংশটি বাদ দিয়ে নিজস্ব জমিতেই আপাতত অস্থায়ীভাবে প্রাথমিক কার্যক্রম চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন,

"২০২৪ সালের সংঘাতের পর ক্লাবটির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। তবে শুটিং ফেডারেশনের সদস্যপদ ধরে রাখতে এবং তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে এটি চালু করা জরুরি। প্রধানত স্কুলের শিক্ষার্থী এবং যারা শুটিং চর্চায় আগ্রহী, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে অস্থায়ীভাবে প্র্যাকটিস শুরু করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাবের জন্য স্থায়ী জমিরও সন্ধান চলছে।"

নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ক্রীড়ামোদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুতই প্রতিষ্ঠানটি তার কলঙ্কিত রাজনৈতিক পরিচিতি মুছে আবার দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সুনাম ফিরিয়ে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দীর্ঘদিন বন্ধের পর অবশেষে খুলেছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাব

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী রাইফেল ক্লাবটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার ও পরবর্তীতে বিগত সরকারের পতনের সময় অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এই ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানটি সংস্কারের মধ্য দিয়ে আবার সচল করার কার্যক্রম শুরু করেছেন ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।


নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ক্লাবের পদাধিকারবলে সভাপতি মো. রায়হান কবিরের অনুমতি পাওয়ার পর শুরু হয়েছে ভবনটির ধোয়া-মোছা ও আংশিক সংস্কারকাজ।নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত এ ক্লাবটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শুটিং ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটি মূলত বিতর্কিত রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার সময় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তাঁর সমর্থকদের এ ক্লাবটি ব্যবহার করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এটি তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা ক্লাবটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।


বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের এই সক্রিয় সদস্যটির নিবন্ধন ও ক্রীড়া পরিবেশ রক্ষা করতেই জেলা প্রশাসন স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক শুটার এম এ সাত্তার ভুট্টু বলেন,

"আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি ক্লাবটি পরিষ্কার করে কার্যক্রম শুরুর পরামর্শ দিয়েছেন। এটি মূলত কোনো রাজনৈতিক ক্লাব নয়, একটি স্পোর্টস ক্লাব। ১৯৭৮ সাল থেকে আমি এর সঙ্গে জড়িত। একসময় রাজনৈতিক প্রভাবে এটিকে সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছিল, আমরা আসতে পারতাম না। আশা করছি এবার এটি আগের চেয়েও ভালোভাবে পরিচালিত হবে।"


ক্লাবটির একটি অংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমিতে অবস্থিত। সওজের সাথে সেনাবাহিনীর জমি বিনিময়ের চুক্তি অনুযায়ী ওই অংশটি বাদ দেওয়া হবে।


এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জানান, ক্লাবের যে অংশে সংস্কারকাজ চলছে, সেটি তাদের নিজস্ব জায়গা। সওজের অংশটি বাদ দিয়ে নিজস্ব জমিতেই আপাতত অস্থায়ীভাবে প্রাথমিক কার্যক্রম চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন,

"২০২৪ সালের সংঘাতের পর ক্লাবটির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। তবে শুটিং ফেডারেশনের সদস্যপদ ধরে রাখতে এবং তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করতে এটি চালু করা জরুরি। প্রধানত স্কুলের শিক্ষার্থী এবং যারা শুটিং চর্চায় আগ্রহী, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে অস্থায়ীভাবে প্র্যাকটিস শুরু করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্লাবের জন্য স্থায়ী জমিরও সন্ধান চলছে।"

নারায়ণগঞ্জের সাধারণ ক্রীড়ামোদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুতই প্রতিষ্ঠানটি তার কলঙ্কিত রাজনৈতিক পরিচিতি মুছে আবার দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সুনাম ফিরিয়ে আনবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ