ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অবৈধ সার জব্দে গিয়ে ইউএনও'র আইন প্রয়োগে শিথিলতা!


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

অবৈধ সার জব্দে গিয়ে ইউএনও'র আইন প্রয়োগে শিথিলতা!
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবৈধভাবে বিপুল পরিমানে সার মজুদের অভিযোগে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে উপজেলা লক্ষীর হাট বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তিনটি গোডাউনে বিভিন্ন প্রকারের ২ হাজার ১৫১ বস্তা সারের সন্ধান মেলে। এর মধ্যে একটি গোডাউনের প্রবেশপথে মেসার্স শিখামনি ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখতে পাওয়া যায়। জব্দকৃত সারের বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ২১ লাখ টাকা। গোডাউন তিনটিতে মজুদকৃত সারের মালিক সহিদুল ইসলাম বাবুল ওরফে বাবুল ডাক্তার।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে অংশ নেয় কৃষি বিভাগ, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যগণ। অভিযানে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল ইসলাম অভিযুক্ত সহিদুল ইসলামকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ এর ধারা ১২ অনুযায়ী ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। সেই সাথে জব্দকৃত সার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে সমুদয় টাকা সহিদুল ইসলামকে প্রদানসহ তার নিজস্ব জমিতে ব্যবহারের জন্য ২৪০ বস্তা সার প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এত বিপুল পরিমাণ সার জব্দের পরও দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনী পদক্ষেপ গ্রহণে শিথিলতা দেখিয়েছেন। সারের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে সরকার সার (ব্যবস্থাপনা) (সংশোধন) আইন ২০১৮ এ শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
যেখানে ২০০৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইনের ধারা ৮ সংশোধন করে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের পরিবর্তে দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের শাস্তি রাখা হয়। এই ধারায় নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হতে নিবন্ধন গ্রহণ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তি সার উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিতরণ, বিপণন, পরিবহন করতে পারবেন না বলা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুযোগ থাকা স্বত্বেও এই ধারা অনুসরণ না করে অপেক্ষাকৃত যে ধারায় লঘু শাস্তি প্রদান করা যায় তা অনুসরণ করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক সিরাতুল মোস্তাকিম, আজকে যে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে তা অনিয়মকে উৎসাহ প্রদান করবে। কৃষকরা অনেক সময় বাড়তি মূল্যে সার কিনলেও প্রশাসনের নজরদারি থাকে না। আবার অবৈধ সার মজুদের খবর দিলে প্রশাসন এসে নাম মাত্র অভিযান চালিয়ে চলে যায়। আইন প্রয়োগে কঠোরতা না থাকলে এমন অনিয়ম ঘটতে থাকবে।
এই সাংবাদিক আরো বলেন, গত বছর ২৯ নভেম্বর উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে হাছেন আলী নামে এক ব্যক্তি ২ হাজার ৩৭৭ বস্তা সার মজুদ ও বেশি দামে সার বিক্রি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন তৎকালীন এসি ল্যাণ্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুরাব আলী। সেই অভিযানে ইউএনও মাহমুদুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন। অথচ এবার একই রকম অপরাধে মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েই অভিযুক্ত পার পেলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, যিনি ২০-২২ লাখ টাকার সার গুদামজাত করতে পারেন তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দণ্ড সাধারণ ব্যাপার। বিচারের নামে প্রহসন হলে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। অভিযুক্তের পরিবার রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ইউএনও নমনীয়তা দেখিয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে ইউএনও মাহমুদুল হাসান এবং জেলা প্রশাসক কাজী মো: সায়েমুজ্জামানের মুঠোফোনে কল দিলেও তারা রিসিভ করেনি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অবৈধ সার জব্দে গিয়ে ইউএনও'র আইন প্রয়োগে শিথিলতা!

প্রকাশের তারিখ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে অবৈধভাবে বিপুল পরিমানে সার মজুদের অভিযোগে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। যৌথ বাহিনীর অভিযানে উপজেলা লক্ষীর হাট বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার তিনটি গোডাউনে বিভিন্ন প্রকারের ২ হাজার ১৫১ বস্তা সারের সন্ধান মেলে। এর মধ্যে একটি গোডাউনের প্রবেশপথে মেসার্স শিখামনি ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখতে পাওয়া যায়। জব্দকৃত সারের বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ২১ লাখ টাকা। গোডাউন তিনটিতে মজুদকৃত সারের মালিক সহিদুল ইসলাম বাবুল ওরফে বাবুল ডাক্তার।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে অংশ নেয় কৃষি বিভাগ, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যগণ। অভিযানে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল ইসলাম অভিযুক্ত সহিদুল ইসলামকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ এর ধারা ১২ অনুযায়ী ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। সেই সাথে জব্দকৃত সার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করে সমুদয় টাকা সহিদুল ইসলামকে প্রদানসহ তার নিজস্ব জমিতে ব্যবহারের জন্য ২৪০ বস্তা সার প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, এত বিপুল পরিমাণ সার জব্দের পরও দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনী পদক্ষেপ গ্রহণে শিথিলতা দেখিয়েছেন। সারের অবৈধ মজুদ ঠেকাতে সরকার সার (ব্যবস্থাপনা) (সংশোধন) আইন ২০১৮ এ শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
যেখানে ২০০৬ সালের সার ব্যবস্থাপনা আইনের ধারা ৮ সংশোধন করে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের পরিবর্তে দুই বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের শাস্তি রাখা হয়। এই ধারায় নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হতে নিবন্ধন গ্রহণ ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তি সার উৎপাদন, আমদানি, সংরক্ষণ, বিতরণ, বিপণন, পরিবহন করতে পারবেন না বলা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুযোগ থাকা স্বত্বেও এই ধারা অনুসরণ না করে অপেক্ষাকৃত যে ধারায় লঘু শাস্তি প্রদান করা যায় তা অনুসরণ করেছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক সিরাতুল মোস্তাকিম, আজকে যে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে তা অনিয়মকে উৎসাহ প্রদান করবে। কৃষকরা অনেক সময় বাড়তি মূল্যে সার কিনলেও প্রশাসনের নজরদারি থাকে না। আবার অবৈধ সার মজুদের খবর দিলে প্রশাসন এসে নাম মাত্র অভিযান চালিয়ে চলে যায়। আইন প্রয়োগে কঠোরতা না থাকলে এমন অনিয়ম ঘটতে থাকবে।
এই সাংবাদিক আরো বলেন, গত বছর ২৯ নভেম্বর উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে হাছেন আলী নামে এক ব্যক্তি ২ হাজার ৩৭৭ বস্তা সার মজুদ ও বেশি দামে সার বিক্রি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন তৎকালীন এসি ল্যাণ্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তুরাব আলী। সেই অভিযানে ইউএনও মাহমুদুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন। অথচ এবার একই রকম অপরাধে মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েই অভিযুক্ত পার পেলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক কৃষক বলেন, যিনি ২০-২২ লাখ টাকার সার গুদামজাত করতে পারেন তার কাছে ৩০ হাজার টাকা দণ্ড সাধারণ ব্যাপার। বিচারের নামে প্রহসন হলে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। অভিযুক্তের পরিবার রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ইউএনও নমনীয়তা দেখিয়েছেন।
এই বিষয়ে জানতে ইউএনও মাহমুদুল হাসান এবং জেলা প্রশাসক কাজী মো: সায়েমুজ্জামানের মুঠোফোনে কল দিলেও তারা রিসিভ করেনি।

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ