ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রবল বর্ষণে বিচ্ছিন্ন সাজেক, আটকা ৬০০ পর্যটক


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬

প্রবল বর্ষণে বিচ্ছিন্ন সাজেক, আটকা ৬০০ পর্যটক
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন কেন্দ্র কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সেখানে অবস্থানরত ছয় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও সাজেক পর্যটন কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টিতে দীঘিনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের অন্তত চারটি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, মাচালং সড়কে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ি সদরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রুম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।

সমিতির সভাপতি সুপর্ণদেব বর্মণ জানান, আকস্মিকভাবে আটকে পড়া পর্যটকদের আর্থিক চাপ কমাতে রিসোর্ট ও কটেজের কক্ষ ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে রিসোর্ট মালিকরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মার্জান বলেন, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে উপজেলার বাঘাইহাট ও মাচালং বাজার এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সড়কের পানি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী রাঙামাটিতে টানা ভারি বর্ষণের ফলে ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছে। তাই পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। এ সময় সাজেকের সব পর্যটন স্পট, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


প্রবল বর্ষণে বিচ্ছিন্ন সাজেক, আটকা ৬০০ পর্যটক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন কেন্দ্র কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সেখানে অবস্থানরত ছয় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও সাজেক পর্যটন কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতের প্রবল বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টিতে দীঘিনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের অন্তত চারটি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, মাচালং সড়কে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ি সদরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত রুম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।

সমিতির সভাপতি সুপর্ণদেব বর্মণ জানান, আকস্মিকভাবে আটকে পড়া পর্যটকদের আর্থিক চাপ কমাতে রিসোর্ট ও কটেজের কক্ষ ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে রিসোর্ট মালিকরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মার্জান বলেন, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে উপজেলার বাঘাইহাট ও মাচালং বাজার এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সড়কের পানি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী রাঙামাটিতে টানা ভারি বর্ষণের ফলে ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়েছে। তাই পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। এ সময় সাজেকের সব পর্যটন স্পট, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ