ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সেতু আছে, সংযোগ সড়ক নেই: সুন্দরগঞ্জে ভোগান্তির শেষ নেই


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬

সেতু আছে, সংযোগ সড়ক নেই: সুন্দরগঞ্জে ভোগান্তির শেষ নেই
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের একটি খালের ওপর প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো ব্যবহার করতে পারছেন না এলাকাবাসী। বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন তারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে বাড়াইকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়কের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে গভীর গর্ত ও অসমতল জায়গা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি পথচারীদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থীকে সাইকেল কাঁধে নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সম্পন্ন না করেই বিল তুলে নিয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর মূল কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়কে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বাড়াইকান্দি খালের ওপর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় রামিম এন্টারপ্রাইজ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। প্রকল্পে সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণেরও উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, "কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু ওঠার রাস্তা নেই। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যায়।"

কলেজশিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, "বর্ষায় সাঁকো আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে এই সেতুর কোনো সুফল আমরা পাব না।"

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রামিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সেতু আছে, সংযোগ সড়ক নেই: সুন্দরগঞ্জে ভোগান্তির শেষ নেই

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের একটি খালের ওপর প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি সেতু। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো ব্যবহার করতে পারছেন না এলাকাবাসী। বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন তারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে বাড়াইকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে সংযোগ সড়কের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে গভীর গর্ত ও অসমতল জায়গা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি পথচারীদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থীকে সাইকেল কাঁধে নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সম্পন্ন না করেই বিল তুলে নিয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর মূল কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়কে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে বাড়াইকান্দি খালের ওপর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় রামিম এন্টারপ্রাইজ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়ে জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। প্রকল্পে সেতুর উভয় পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণেরও উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, "কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু ওঠার রাস্তা নেই। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যায়।"

কলেজশিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, "বর্ষায় সাঁকো আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে এই সেতুর কোনো সুফল আমরা পাব না।"

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রামিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ