ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার মায়ের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়েও তিনি মরদেহ দেখতে কিংবা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে পুলিশ প্রভাসের বাড়িতে গিয়ে তার মৃত্যুর খবর জানায়। একই সঙ্গে পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) চেয়ে পরিবারের সদস্যদের মরদেহ শনাক্ত করতে আসার অনুরোধও জানানো হয়। তবে প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ছেলের মুখ দেখতে চান না, এমনকি মরদেহও গ্রহণ করবেন না।
সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, “ও যা করেছে, তার ফল পেয়েছে। ভালোই হয়েছে। আমি ওর লাশ আনতে যাব না, মুখও দেখতে চাই না।”
তিনি আরও জানান, পুলিশ যখন তার কাছে জানতে চায়, ‘আপনার ছেলে প্রভাস মণ্ডল?’ তখন তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন। এরপর পুলিশ জানায়, তার ছেলে মারা গেছে এবং মরদেহ দেখতে চান কি না। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে না বলে দেন।
মায়ের দাবি, প্রভাস দীর্ঘদিন ধরেই তার কথা শুনত না এবং মাদকাসক্ত ছিল। নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে ছেলের নাম জড়ানোর পর থেকেই পরিবার চরম মানসিক অস্বস্তির মধ্যে ছিল বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে তদন্তের প্রয়োজনে প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় সে এক পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে রোববার প্রভাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই মামলায় আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং আরও এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তদন্তে প্রভাসই শিশুটির মরদেহ কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই স্থান দেখিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি শুরু হয় গত শনিবার, যখন বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম শিশু নিখোঁজ হয়। পরদিন স্থানীয় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে প্রভাসের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পুরো ঘটনাটি সন্দেহজনক এবং জনরোষ সামাল দিতেই তড়িঘড়ি করে ‘এনকাউন্টার’ দেখানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার মায়ের প্রতিক্রিয়া ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছেলে নিহত হওয়ার খবর পেয়েও তিনি মরদেহ দেখতে কিংবা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে পুলিশ প্রভাসের বাড়িতে গিয়ে তার মৃত্যুর খবর জানায়। একই সঙ্গে পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) চেয়ে পরিবারের সদস্যদের মরদেহ শনাক্ত করতে আসার অনুরোধও জানানো হয়। তবে প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল সাফ জানিয়ে দেন, তিনি ছেলের মুখ দেখতে চান না, এমনকি মরদেহও গ্রহণ করবেন না।
সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, “ও যা করেছে, তার ফল পেয়েছে। ভালোই হয়েছে। আমি ওর লাশ আনতে যাব না, মুখও দেখতে চাই না।”
তিনি আরও জানান, পুলিশ যখন তার কাছে জানতে চায়, ‘আপনার ছেলে প্রভাস মণ্ডল?’ তখন তিনি ‘হ্যাঁ’ বলেন। এরপর পুলিশ জানায়, তার ছেলে মারা গেছে এবং মরদেহ দেখতে চান কি না। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে না বলে দেন।
মায়ের দাবি, প্রভাস দীর্ঘদিন ধরেই তার কথা শুনত না এবং মাদকাসক্ত ছিল। নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে ছেলের নাম জড়ানোর পর থেকেই পরিবার চরম মানসিক অস্বস্তির মধ্যে ছিল বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে তদন্তের প্রয়োজনে প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় সে এক পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে রোববার প্রভাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই মামলায় আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং আরও এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তদন্তে প্রভাসই শিশুটির মরদেহ কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল, সেই স্থান দেখিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি শুরু হয় গত শনিবার, যখন বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম শিশু নিখোঁজ হয়। পরদিন স্থানীয় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে প্রভাসের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পুরো ঘটনাটি সন্দেহজনক এবং জনরোষ সামাল দিতেই তড়িঘড়ি করে ‘এনকাউন্টার’ দেখানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

আপনার মতামত লিখুন