ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ফেলে যাওয়া শিশুর মুখে ফিরল হাসি, দায়িত্ব নিল এক দম্পতি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬

ফেলে যাওয়া শিশুর মুখে ফিরল হাসি, দায়িত্ব নিল এক দম্পতি
ছবি: সংগৃহীত

জন্মের পর একটি শিশুর প্রথম আশ্রয় হওয়ার কথা মায়ের বুক। প্রথম স্পর্শ, প্রথম উষ্ণতা আর প্রথম নিরাপত্তার অনুভূতি পাওয়ার কথা সেই মমতার কোলেই। কিন্তু হবিগঞ্জের মাধবপুরে জন্ম নেওয়া এক নবজাতক কন্যাশিশুর ভাগ্যে জুটেছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। পৃথিবীর আলো দেখার পরই তাকে ফেলে যাওয়া হয়েছিল রাস্তার ধারে, একা ও অসহায় অবস্থায়।

তবে সেই নির্মমতার মধ্যেও হারিয়ে যায়নি মানবতা। অচেনা মানুষের ভালোবাসা আর সহমর্মিতাই শেষ পর্যন্ত বদলে দিয়েছে শিশুটির ভাগ্য।

সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে মাধবপুর উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় শায়েস্তাগঞ্জ-জগদীশপুর জেলা পরিষদ সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কান্নার শব্দ শুনে থেমে যান কয়েকজন পথচারী। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, একটি নবজাতক কন্যাশিশু পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শিশুটির শরীরে তখনও হাসপাতালের স্যালাইনের ক্যানুলা লাগানো ছিল। দৃশ্যটি দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয়রা। জন্মের পরই কে বা কারা এমন নিষ্ঠুরভাবে শিশুটিকে ফেলে গেছে, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে সবার মনে।

খবর পেয়ে বাঘাসুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মাধবপুরের ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে একটি সেফ হোমে নেওয়া হয়, যাতে নিরাপদ পরিবেশে তার পরিচর্যা নিশ্চিত করা যায়।

ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। অসহায় এই নবজাতকের খবর জেনে অনেকেই তাকে দত্তক নেওয়ার এবং নিজের সন্তানের মতো লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই শেষে উত্তর শাহপুর (নোয়াপাড়া) এলাকার ব্যবসায়ী জাবেদ আলী (৩০) ও তার স্ত্রীর কাছে আপাতত শিশুটির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, শিশুটির সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত নিরাপদ পরিবেশে লালন-পালনের জন্য শিশুটিকে জাবেদ আলী দম্পতির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

নবজাতকটিকে বুকে জড়িয়ে আবেগাপ্লুত হন জাবেদ আলী ও তার স্ত্রী। তাদের ভাষায়, শিশুটি কখনোই তাদের কাছে পর হবে না। নিজেদের সন্তানের মতোই ভালোবাসা, স্নেহ, শিক্ষা ও নিরাপত্তা দিয়ে তাকে বড় করে তুলবেন তারা।

একটি নির্মম পরিত্যাগের গল্প শেষ পর্যন্ত মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্তে রূপ নিয়েছে। যে শিশুটি জন্মের পরই হারিয়েছিল আপনজনের স্নেহ, সে-ই এখন পেয়েছে একটি নতুন পরিবার, নতুন পরিচয় এবং ভালোবাসায় ভরা একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফেলে যাওয়া শিশুর মুখে ফিরল হাসি, দায়িত্ব নিল এক দম্পতি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

জন্মের পর একটি শিশুর প্রথম আশ্রয় হওয়ার কথা মায়ের বুক। প্রথম স্পর্শ, প্রথম উষ্ণতা আর প্রথম নিরাপত্তার অনুভূতি পাওয়ার কথা সেই মমতার কোলেই। কিন্তু হবিগঞ্জের মাধবপুরে জন্ম নেওয়া এক নবজাতক কন্যাশিশুর ভাগ্যে জুটেছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতা। পৃথিবীর আলো দেখার পরই তাকে ফেলে যাওয়া হয়েছিল রাস্তার ধারে, একা ও অসহায় অবস্থায়।

তবে সেই নির্মমতার মধ্যেও হারিয়ে যায়নি মানবতা। অচেনা মানুষের ভালোবাসা আর সহমর্মিতাই শেষ পর্যন্ত বদলে দিয়েছে শিশুটির ভাগ্য।

সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে মাধবপুর উপজেলার উত্তর শাহপুর এলাকায় শায়েস্তাগঞ্জ-জগদীশপুর জেলা পরিষদ সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কান্নার শব্দ শুনে থেমে যান কয়েকজন পথচারী। কাছে গিয়ে তারা দেখতে পান, একটি নবজাতক কন্যাশিশু পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শিশুটির শরীরে তখনও হাসপাতালের স্যালাইনের ক্যানুলা লাগানো ছিল। দৃশ্যটি দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয়রা। জন্মের পরই কে বা কারা এমন নিষ্ঠুরভাবে শিশুটিকে ফেলে গেছে, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে সবার মনে।

খবর পেয়ে বাঘাসুরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মাধবপুরের ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় শিশুটি সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে একটি সেফ হোমে নেওয়া হয়, যাতে নিরাপদ পরিবেশে তার পরিচর্যা নিশ্চিত করা যায়।

ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। অসহায় এই নবজাতকের খবর জেনে অনেকেই তাকে দত্তক নেওয়ার এবং নিজের সন্তানের মতো লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই শেষে উত্তর শাহপুর (নোয়াপাড়া) এলাকার ব্যবসায়ী জাবেদ আলী (৩০) ও তার স্ত্রীর কাছে আপাতত শিশুটির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, শিশুটির সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত নিরাপদ পরিবেশে লালন-পালনের জন্য শিশুটিকে জাবেদ আলী দম্পতির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

নবজাতকটিকে বুকে জড়িয়ে আবেগাপ্লুত হন জাবেদ আলী ও তার স্ত্রী। তাদের ভাষায়, শিশুটি কখনোই তাদের কাছে পর হবে না। নিজেদের সন্তানের মতোই ভালোবাসা, স্নেহ, শিক্ষা ও নিরাপত্তা দিয়ে তাকে বড় করে তুলবেন তারা।

একটি নির্মম পরিত্যাগের গল্প শেষ পর্যন্ত মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্তে রূপ নিয়েছে। যে শিশুটি জন্মের পরই হারিয়েছিল আপনজনের স্নেহ, সে-ই এখন পেয়েছে একটি নতুন পরিবার, নতুন পরিচয় এবং ভালোবাসায় ভরা একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ