ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় মা-ছেলে-মেয়ের কারাদণ্ড


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫

প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় মা-ছেলে-মেয়ের কারাদণ্ড

প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে আনা তিন মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই রায় প্রদান করেন, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়; উল্লেখ্য, রায় পড়া শুরু হয়েছিল সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে।

আদালত সূত্র জানায়, গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই সন্তানের বিচার শুরু হয়, যেখানে শেখ হাসিনাসহ ১২ জন আসামির মামলায় ২৯ জন, জয়সহ ১৭ জনের মামলায় ৩২ জন এবং পুতুলসহ ১৮ জনের মামলায় ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম (কারাগারে আটক), সদস্য কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন ও সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

পলাতক থাকায় আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি, তবে একমাত্র কারাবন্দি আসামি খুরশীদ আলম গত ১৭ নভেম্বর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার কূটনৈতিক জোনে ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেন, যদিও তাঁরা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না; আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৬১/১৬৩/১৬৪/৪০৯/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে এবং জানতে পারে যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের এই প্লটগুলো শেখ হাসিনা (১০ কাঠা, প্লট নং ০০৯), তাঁর ছেলে জয় (১০ কাঠা, প্লট নং ০১৫), মেয়ে পুতুল (১০ কাঠা, প্লট নং ০১৭), ছোট বোন শেখ রেহানা (১০ কাঠা, প্লট নং ০১৩), রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (১০ কাঠা, প্লট নং ০১১) এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের (১০ কাঠা, প্লট নং ০১৯) নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে;

তন্মধ্যে শেখ হাসিনার বরাদ্দপত্রটি ২০২২ সালের ৩ আগস্ট, জয়-এরটি ২৪ অক্টোবর (১০ নভেম্বর রেজিস্ট্রি সম্পন্ন) এবং পুতুলেরটি ওই বছরের ২ নভেম্বর দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে চলতি বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করে দুদক, যার মধ্যে জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান, পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে উপপরিচালক সালাহউদ্দিন মামলা করেন এবং পরে তদন্ত শেষে যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় মা-ছেলে-মেয়ের কারাদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে আনা তিন মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এই রায় প্রদান করেন, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড এবং তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়; উল্লেখ্য, রায় পড়া শুরু হয়েছিল সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে।

আদালত সূত্র জানায়, গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ শেখ হাসিনা ও তাঁর দুই সন্তানের বিচার শুরু হয়, যেখানে শেখ হাসিনাসহ ১২ জন আসামির মামলায় ২৯ জন, জয়সহ ১৭ জনের মামলায় ৩২ জন এবং পুতুলসহ ১৮ জনের মামলায় ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম (কারাগারে আটক), সদস্য কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন ও সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

পলাতক থাকায় আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি, তবে একমাত্র কারাবন্দি আসামি খুরশীদ আলম গত ১৭ নভেম্বর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং গত ২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার কূটনৈতিক জোনে ছয়টি প্লট বরাদ্দ নেন, যদিও তাঁরা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না; আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৬১/১৬৩/১৬৪/৪০৯/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে এবং জানতে পারে যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের এই প্লটগুলো শেখ হাসিনা (১০ কাঠা, প্লট নং ০০৯), তাঁর ছেলে জয় (১০ কাঠা, প্লট নং ০১৫), মেয়ে পুতুল (১০ কাঠা, প্লট নং ০১৭), ছোট বোন শেখ রেহানা (১০ কাঠা, প্লট নং ০১৩), রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (১০ কাঠা, প্লট নং ০১১) এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের (১০ কাঠা, প্লট নং ০১৯) নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে;

তন্মধ্যে শেখ হাসিনার বরাদ্দপত্রটি ২০২২ সালের ৩ আগস্ট, জয়-এরটি ২৪ অক্টোবর (১০ নভেম্বর রেজিস্ট্রি সম্পন্ন) এবং পুতুলেরটি ওই বছরের ২ নভেম্বর দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে চলতি বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করে দুদক, যার মধ্যে জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান, পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে উপপরিচালক সালাহউদ্দিন মামলা করেন এবং পরে তদন্ত শেষে যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ