ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালুর দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালুর দাবি
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু, চলমান বেসরকারিকরণ নীতি স্থগিত এবং ইতোমধ্যে সম্পন্ন লিজ চুক্তি পর্যালোচনার দাবিতে মতবিনিময় সভা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সংগঠনটির নেতারা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর বর্তমান অবস্থা, বেসরকারিকরণের প্রভাব, কর্মসংস্থানের সংকট, উৎপাদন পরিস্থিতি এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো দেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর বিনিয়োগের অভাবে এ শিল্প খাত পিছিয়ে পড়েছে। ২০২০ সালের ২ জুলাই তৎকালীন সরকার উৎপাদন বন্ধ করে পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও তাদের দাবি পূরণ হয়নি এবং অনেকের বকেয়া পাওনাও এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি।

তাদের দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পাটকল পুনরায় চালুর প্রত্যাশা তৈরি হলেও বর্তমান সরকারও আগের নীতির ধারাবাহিকতায় বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও চিনিকল চালুর জন্য টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তবে সে উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিখাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি পাটকল ৩০ বছরের জন্য বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে এবং ৯টি উৎপাদনে ফিরলেও আগের তুলনায় শ্রমিক নিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেক মিলে হাজারো শ্রমিকের পরিবর্তে মাত্র কয়েকশ শ্রমিক দিয়ে উৎপাদন চলছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা, পিস-রেট বা স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং মজুরিও আগের তুলনায় কম।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, কিছু লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান পাটপণ্য উৎপাদনের পরিবর্তে গুদাম, লজিস্টিকস বা অন্য বাণিজ্যিক কাজে মিলের অবকাঠামো ব্যবহার করছে। ফলে পাটচাষি, শ্রমিক এবং স্থানীয় অর্থনীতি প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তাদের মতে, পাটকলগুলোর লোকসানের জন্য শ্রমিক দায়ী নন। বরং পুরোনো যন্ত্রপাতি, মৌসুমে সময়মতো কাঁচা পাট কিনতে না পারা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, বিপণনের সীমাবদ্ধতা, আধুনিকায়নের অভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর কৌশলের ঘাটতিই প্রধান কারণ। বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের চাহিদা বাড়লেও রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

সভায় পাটকল আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি স্থাপন, আবর্তক তহবিল গঠন, মৌসুমের শুরুতেই কাঁচা পাট সংগ্রহ, বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একটি পাটকল আধুনিকায়নের সম্ভাব্য ব্যয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়।

মতবিনিময় সভা থেকে সরকারের প্রতি চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, চলমান বেসরকারিকরণ নীতি স্থগিত করে সব লিজ চুক্তি তদন্ত ও পর্যালোচনা, পূর্ববর্তী সরকারের লিজ প্রক্রিয়া বাতিল, পেশাদার টেক্সটাইল প্রকৌশলী, পাট বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ শতভাগ বাস্তবায়ন।

বক্তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় সরকারি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আবারও উৎপাদনে ফিরতে পারে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, পাটচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পের অবদান আরও জোরালো হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালুর দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু, চলমান বেসরকারিকরণ নীতি স্থগিত এবং ইতোমধ্যে সম্পন্ন লিজ চুক্তি পর্যালোচনার দাবিতে মতবিনিময় সভা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল রক্ষা পরিষদ।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সংগঠনটির নেতারা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর বর্তমান অবস্থা, বেসরকারিকরণের প্রভাব, কর্মসংস্থানের সংকট, উৎপাদন পরিস্থিতি এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো দেশের মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর বিনিয়োগের অভাবে এ শিল্প খাত পিছিয়ে পড়েছে। ২০২০ সালের ২ জুলাই তৎকালীন সরকার উৎপাদন বন্ধ করে পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও তাদের দাবি পূরণ হয়নি এবং অনেকের বকেয়া পাওনাও এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি।

তাদের দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পাটকল পুনরায় চালুর প্রত্যাশা তৈরি হলেও বর্তমান সরকারও আগের নীতির ধারাবাহিকতায় বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও চিনিকল চালুর জন্য টাস্কফোর্স গঠনের কথা বলা হলেও বাস্তবে সে উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসহ ৪৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিখাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি পাটকল ৩০ বছরের জন্য বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে এবং ৯টি উৎপাদনে ফিরলেও আগের তুলনায় শ্রমিক নিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেক মিলে হাজারো শ্রমিকের পরিবর্তে মাত্র কয়েকশ শ্রমিক দিয়ে উৎপাদন চলছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের দৈনিক হাজিরা, পিস-রেট বা স্বল্পমেয়াদি চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং মজুরিও আগের তুলনায় কম।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, কিছু লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান পাটপণ্য উৎপাদনের পরিবর্তে গুদাম, লজিস্টিকস বা অন্য বাণিজ্যিক কাজে মিলের অবকাঠামো ব্যবহার করছে। ফলে পাটচাষি, শ্রমিক এবং স্থানীয় অর্থনীতি প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তাদের মতে, পাটকলগুলোর লোকসানের জন্য শ্রমিক দায়ী নন। বরং পুরোনো যন্ত্রপাতি, মৌসুমে সময়মতো কাঁচা পাট কিনতে না পারা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি, বিপণনের সীমাবদ্ধতা, আধুনিকায়নের অভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর কৌশলের ঘাটতিই প্রধান কারণ। বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের চাহিদা বাড়লেও রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

সভায় পাটকল আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি স্থাপন, আবর্তক তহবিল গঠন, মৌসুমের শুরুতেই কাঁচা পাট সংগ্রহ, বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একটি পাটকল আধুনিকায়নের সম্ভাব্য ব্যয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও উপস্থাপন করা হয়।

মতবিনিময় সভা থেকে সরকারের প্রতি চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, চলমান বেসরকারিকরণ নীতি স্থগিত করে সব লিজ চুক্তি তদন্ত ও পর্যালোচনা, পূর্ববর্তী সরকারের লিজ প্রক্রিয়া বাতিল, পেশাদার টেক্সটাইল প্রকৌশলী, পাট বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ শতভাগ বাস্তবায়ন।

বক্তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় সরকারি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আবারও উৎপাদনে ফিরতে পারে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, পাটচাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পরিবেশবান্ধব পাটশিল্পের অবদান আরও জোরালো হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ