ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অতীত নয়, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬

অতীত নয়, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় সরকার। তাঁর ভাষায়, অতীতে কী ভালো বা মন্দ হয়েছে, সেই বিতর্কে সময় নষ্ট না করে এখন দেশের মানুষ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুনতে চায়।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে এখন প্রয়োজন ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া। দেশের স্বার্থেই সবাইকে সামনের দিকে তাকাতে হবে।

এবারের বাজেটকে তিনি সরকারি দলের পক্ষ থেকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেটকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো বাজেটই সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারে না। তবে সরকারের সর্বোচ্চ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেচনার ভিত্তিতে এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি পায়।

তিনি জানান, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে বাজেট ঘোষণার আগে ও পরে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি, যা অতীতে প্রায় নিয়মিত ঘটনা ছিল। সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ছিল দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের সংকটে বহু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েছেন। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়, টাকার বিনিময় হার প্রায় ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয় এবং আয়বিহীন বিভিন্ন ‘ভ্যানিটি প্রকল্পে’ নেওয়া দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা এখনও বহন করতে হচ্ছে।

এসব সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটকে অজুহাতও বানাতে চায় না সরকার। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বাস্তবসম্মত নীতি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার কাজ করেছে। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


অতীত নয়, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় সরকার। তাঁর ভাষায়, অতীতে কী ভালো বা মন্দ হয়েছে, সেই বিতর্কে সময় নষ্ট না করে এখন দেশের মানুষ ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুনতে চায়।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেটের ওপর আলোচনায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে এখন প্রয়োজন ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়া। দেশের স্বার্থেই সবাইকে সামনের দিকে তাকাতে হবে।

এবারের বাজেটকে তিনি সরকারি দলের পক্ষ থেকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাজেটকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো বাজেটই সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারে না। তবে সরকারের সর্বোচ্চ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেচনার ভিত্তিতে এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি পায়।

তিনি জানান, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে বাজেট ঘোষণার আগে ও পরে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি, যা অতীতে প্রায় নিয়মিত ঘটনা ছিল। সরকারের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ছিল দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারের সংকটে বহু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েছেন। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায়, টাকার বিনিময় হার প্রায় ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয় এবং আয়বিহীন বিভিন্ন ‘ভ্যানিটি প্রকল্পে’ নেওয়া দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা এখনও বহন করতে হচ্ছে।

এসব সংকটকে সরকার অস্বীকার করছে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটকে অজুহাতও বানাতে চায় না সরকার। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বাস্তবসম্মত নীতি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার কাজ করেছে। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ