ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভরা মৌসুমেও মনপুরার মেঘনায় ইলিশের আকাল


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬

ভরা মৌসুমেও মনপুরার মেঘনায় ইলিশের আকাল
ছবি: সংগৃহীত

ভরা মৌসুম চললেও ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ। দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন হাজারো জেলে। অনেকেই প্রায় খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন, ফলে জেলে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

গত দুই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার রামনেওয়াজ মাছঘাট, হাজিরহাট মৎস্যঘাট, দক্ষিণ সাকুচিয়ার জনতা বাজার মৎস্যঘাট, মাঝেরঘাট এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খালের মৎস্যঘাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাছের আশায় প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলছেন তারা। কিন্তু আগের মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না। কেউ অল্প কিছু মাছ নিয়ে ফিরছেন, আবার অনেকেই ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। এতে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে নৌকার জ্বালানি, বরফ ও শ্রমিকের খরচও তুলতে পারছেন না তারা।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরঘাট এলাকার জেলে আব্দুল করিম বলেন, "প্রতিদিন নদীতে যাই, কিন্তু মাছ খুব কম পাই। আগে এক জালে যত ইলিশ উঠত, এখন কয়েকবার জাল ফেলেও তত মাছ পাওয়া যায় না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"

জনতা বাজার মৎস্যঘাটের জেলে মো. সেলিম বলেন, "তেল, বরফ ও খাবারের খরচ অনেক বেড়েছে। নদীতে গিয়ে যদি মাছই না পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব? এখন আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।"

মাছের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মৎস্যঘাট ও আড়তগুলোতেও। ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটের ব্যবসায়ী মো. নাহিদ জানান, ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে। একই কথা জানিয়ে মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ ঘাটের ব্যবসায়ী মমিন তালুকদার বলেন, "ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাট ইলিশে ভরে থাকে। এবার সেই তুলনায় মাছ অনেক কম আসছে। ফলে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে।"

জেলেদের অভিযোগ, অনেকেই ধার-দেনা কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। দিন দিন বাড়ছে আর্থিক চাপ।

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বণিক বলেন, ইলিশের চলাচল মূলত নদীর পরিবেশ, জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে তারা আশাবাদী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভরা মৌসুমেও মনপুরার মেঘনায় ইলিশের আকাল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

ভরা মৌসুম চললেও ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ। দিনের পর দিন নদীতে জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন হাজারো জেলে। অনেকেই প্রায় খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন, ফলে জেলে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

গত দুই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার রামনেওয়াজ মাছঘাট, হাজিরহাট মৎস্যঘাট, দক্ষিণ সাকুচিয়ার জনতা বাজার মৎস্যঘাট, মাঝেরঘাট এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের খারির খালের মৎস্যঘাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাছের আশায় প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীতে জাল ফেলছেন তারা। কিন্তু আগের মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না। কেউ অল্প কিছু মাছ নিয়ে ফিরছেন, আবার অনেকেই ফিরছেন প্রায় খালি হাতে। এতে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে নৌকার জ্বালানি, বরফ ও শ্রমিকের খরচও তুলতে পারছেন না তারা।

দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরঘাট এলাকার জেলে আব্দুল করিম বলেন, "প্রতিদিন নদীতে যাই, কিন্তু মাছ খুব কম পাই। আগে এক জালে যত ইলিশ উঠত, এখন কয়েকবার জাল ফেলেও তত মাছ পাওয়া যায় না। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"

জনতা বাজার মৎস্যঘাটের জেলে মো. সেলিম বলেন, "তেল, বরফ ও খাবারের খরচ অনেক বেড়েছে। নদীতে গিয়ে যদি মাছই না পাই, তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব? এখন আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি।"

মাছের সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় মৎস্যঘাট ও আড়তগুলোতেও। ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়েছেন।

রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটের ব্যবসায়ী মো. নাহিদ জানান, ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে। একই কথা জানিয়ে মনপুরা ইউনিয়নের রামনেওয়াজ ঘাটের ব্যবসায়ী মমিন তালুকদার বলেন, "ভরা মৌসুমে সাধারণত ঘাট ইলিশে ভরে থাকে। এবার সেই তুলনায় মাছ অনেক কম আসছে। ফলে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে।"

জেলেদের অভিযোগ, অনেকেই ধার-দেনা কিংবা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে নামছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। দিন দিন বাড়ছে আর্থিক চাপ।

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল বণিক বলেন, ইলিশের চলাচল মূলত নদীর পরিবেশ, জোয়ার-ভাটা ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। মৌসুম এখনো শেষ হয়নি। অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে আগামী দিনগুলোতে ইলিশের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে তারা আশাবাদী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ