ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কায়েমপুর মধ্যপাড়া বাইতুল হারাম জামে মসজিদে টানা ৪৪ বছর ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন হাফেজ মাওলানা বশির আহমেদ। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সংবর্ধনা ও আবেগঘন বিদায় জানায় মসজিদ কমিটি এবং এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৭ জুন) জুমার নামাজের আগে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে জুমার নামাজ শেষে ফুলে সাজানো একটি গাড়িতে করে তাকে বিদায় জানানো হয়। এ সময় সম্মাননা হিসেবে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোবারক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কায়েমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সরকার, মসজিদ কমিটির সভাপতি শামসুল হক, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মন মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, ভূইয়া বাড়ি সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রউফ, বর্ণমালা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইমন হাসান বিজয়, মাসুদ রানা ভূইয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, "মাওলানা বশির আহমেদ প্রায় ৪৪ বছর ধরে আমাদের মসজিদে ইমামতি করেছেন। তিনি শুধু একজন ইমাম নন, আমার শৈশবের শিক্ষকও। তার নিষ্ঠা, সততা ও ধর্মীয় নেতৃত্ব আমাদের জন্য অনুকরণীয়। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।"
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য হাসেম মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "ইমাম সাহেব বয়সে আমার ছোট হলেও প্রায় চার যুগ ধরে আমাদের মসজিদে ইমামতি করেছেন। একই মসজিদে একজন ইমামের এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা সত্যিই বিরল। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।"
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মাওলানা বশির আহমেদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিদায়ের মুহূর্তে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের প্রিয় ইমামকে বিদায় জানাতে উপস্থিত মানুষের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা এবং বিচ্ছেদের বেদনা।
বিষয় : ব্রাহ্মণবাড়িয়া

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কায়েমপুর মধ্যপাড়া বাইতুল হারাম জামে মসজিদে টানা ৪৪ বছর ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন হাফেজ মাওলানা বশির আহমেদ। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সংবর্ধনা ও আবেগঘন বিদায় জানায় মসজিদ কমিটি এবং এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৭ জুন) জুমার নামাজের আগে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে জুমার নামাজ শেষে ফুলে সাজানো একটি গাড়িতে করে তাকে বিদায় জানানো হয়। এ সময় সম্মাননা হিসেবে নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোবারক হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কায়েমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সরকার, মসজিদ কমিটির সভাপতি শামসুল হক, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম লিটন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মন মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, ভূইয়া বাড়ি সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রউফ, বর্ণমালা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইমন হাসান বিজয়, মাসুদ রানা ভূইয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, "মাওলানা বশির আহমেদ প্রায় ৪৪ বছর ধরে আমাদের মসজিদে ইমামতি করেছেন। তিনি শুধু একজন ইমাম নন, আমার শৈশবের শিক্ষকও। তার নিষ্ঠা, সততা ও ধর্মীয় নেতৃত্ব আমাদের জন্য অনুকরণীয়। আমরা তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।"
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য হাসেম মিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "ইমাম সাহেব বয়সে আমার ছোট হলেও প্রায় চার যুগ ধরে আমাদের মসজিদে ইমামতি করেছেন। একই মসজিদে একজন ইমামের এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা সত্যিই বিরল। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।"
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মাওলানা বশির আহমেদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও নেক হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বিদায়ের মুহূর্তে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের প্রিয় ইমামকে বিদায় জানাতে উপস্থিত মানুষের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা এবং বিচ্ছেদের বেদনা।

আপনার মতামত লিখুন