ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

লাঞ্চ বিরতির পর রহস্যজনক অসুস্থতা : টঙ্গীতে হামিম গ্রুপের শতাধিক শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫

লাঞ্চ বিরতির পর রহস্যজনক অসুস্থতা : টঙ্গীতে হামিম গ্রুপের শতাধিক শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি

গাজীপুরের টঙ্গীর মিল গেট এলাকায় হামিম গ্রুপের কারখানায় গতকাল শনিবার দুপুরে খাবারের বিরতির পর হঠাৎ করেই একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে শতাধিক শ্রমিক অচেতন, মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও মুখ দিয়ে লালা বের হওয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। অসুস্থতার খবর শুনে স্থানীয় বিএনপি নেতা সরকার শাহিনুর ইসলাম রনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে কয়েক মিনিটের মধ্যে কারখানার ভেতর বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং শ্রমিকরা একে অপরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছুটোছুটি শুরু করেন।

অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে দেখা দেয় তীব্র চাপ। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শহরের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালেও পাঠানো হয়। হাসপাতালে একযোগে এত রোগী আসায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. রোমানা আক্তার বলেন, দুপুরের পর হঠাৎ করেই অসংখ্য শ্রমিককে অচেতন অথবা অর্ধচেতন অবস্থায় আনা হচ্ছে। কারো মুখ দিয়ে লালা বেরোচ্ছে, কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে অসুস্থ হওয়ার কারণ এখনো নির্ণয় করা যায়নি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে হামিম গ্রুপের প্রধান ফটকের সামনে এবং টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শত শত শ্রমিক, স্বজন ও এলাকাবাসী ভিড় করছেন। বিভিন্ন জনের মুখে খাবারের বিষক্রিয়া, কারখানার ভেতর গ্যাস ছড়িয়ে পড়া, কিংবা কোনো অজানা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু বলতে পারছে না। শ্রমিকদের অনেকেই জানান, লাঞ্চ শেষে কয়েকজন প্রথমে মাথা ঘোরা অনুভব করেন। পরে তারা একে একে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খুব দ্রুত সংখ্যাটি বাড়তে থাকলে পুরো কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, শিল্প পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় কাউন্সিল প্রতিনিধিরা হাসপাতালে এবং কারখানা এলাকায় উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশিদ বলেন, তাঁরা ঘটনার তদন্ত করছেন। শ্রমিকরা কীভাবে অসুস্থ হলেন, এর পেছনে কোনো দুর্ঘটনা, খাদ্যদূষণ বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা চলছে এবং বর্তমানে এলাকায় শোক, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার পরিবেশ বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


লাঞ্চ বিরতির পর রহস্যজনক অসুস্থতা : টঙ্গীতে হামিম গ্রুপের শতাধিক শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

গাজীপুরের টঙ্গীর মিল গেট এলাকায় হামিম গ্রুপের কারখানায় গতকাল শনিবার দুপুরে খাবারের বিরতির পর হঠাৎ করেই একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে শতাধিক শ্রমিক অচেতন, মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও মুখ দিয়ে লালা বের হওয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। অসুস্থতার খবর শুনে স্থানীয় বিএনপি নেতা সরকার শাহিনুর ইসলাম রনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে কয়েক মিনিটের মধ্যে কারখানার ভেতর বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং শ্রমিকরা একে অপরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছুটোছুটি শুরু করেন।

অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে দেখা দেয় তীব্র চাপ। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শহরের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালেও পাঠানো হয়। হাসপাতালে একযোগে এত রোগী আসায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. রোমানা আক্তার বলেন, দুপুরের পর হঠাৎ করেই অসংখ্য শ্রমিককে অচেতন অথবা অর্ধচেতন অবস্থায় আনা হচ্ছে। কারো মুখ দিয়ে লালা বেরোচ্ছে, কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একসঙ্গে অসুস্থ হওয়ার কারণ এখনো নির্ণয় করা যায়নি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে হামিম গ্রুপের প্রধান ফটকের সামনে এবং টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শত শত শ্রমিক, স্বজন ও এলাকাবাসী ভিড় করছেন। বিভিন্ন জনের মুখে খাবারের বিষক্রিয়া, কারখানার ভেতর গ্যাস ছড়িয়ে পড়া, কিংবা কোনো অজানা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা নিয়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু বলতে পারছে না। শ্রমিকদের অনেকেই জানান, লাঞ্চ শেষে কয়েকজন প্রথমে মাথা ঘোরা অনুভব করেন। পরে তারা একে একে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খুব দ্রুত সংখ্যাটি বাড়তে থাকলে পুরো কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, শিল্প পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় কাউন্সিল প্রতিনিধিরা হাসপাতালে এবং কারখানা এলাকায় উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশিদ বলেন, তাঁরা ঘটনার তদন্ত করছেন। শ্রমিকরা কীভাবে অসুস্থ হলেন, এর পেছনে কোনো দুর্ঘটনা, খাদ্যদূষণ বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা চলছে এবং বর্তমানে এলাকায় শোক, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার পরিবেশ বিরাজ করছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ