ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

'ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে শেখ হাসিনা পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন'


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

'ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে শেখ হাসিনা পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন'

সাবেক বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া দাবি করেছেন যে, ভারতের স্বার্থ রক্ষা এবং নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের মূল বার্তা ছিল, কোনো সেনাকর্মকর্তা যদি ভারতবিরোধী হন, তাহলে তাঁদের পরিণতি পিলখানার মতো হবে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাওয়া ক্লাবে 'বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে ও নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে, তাঁরা বিচার থেকে সরবেন না। রিপোর্টে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করতে হবে সরকারকে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মীরজাফরদের বিচার করতে হবে, না হলে আরও একটি পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রথমত দেশের মীরজাফরদের দিয়ে শুরু করতে হবে; সেনাবাহিনীর যেসকল কর্মকর্তা তাঁর বাবাসহ সাতান্ন জন অফিসারের সঙ্গে বেইমানি করেছেন, তাঁদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "যদি এই মীরজাফরদের বিচার না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও একটা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানোর সুযোগ রয়ে যাবে। গত ষোলো বছর এতিম হয়ে ঘুরেছি, শরীরে সেনা রক্ত, এখানে কোনো আপস হবে না। এদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে।"

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদ কর্নেল কুদরত-এ-এলাহী রহমান শফিকের ছেলে অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান বলেন, তাঁরা আশা করেছিলেন কমিশন তাঁদের রিপোর্টের সামারাইজ ভার্সন দেবে। তিনি মনে করেন, দেশবাসীও কমিশনের কাছে একটি মোটামুটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রত্যাশা করছিল। তবে সম্পূর্ণ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সব বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। মূল সমন্বয়কারী ফজলে নূর তাপসের বিষয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে সাকিব রহমান বলেন, তাপসের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এমনকি তৎকালীন সময়ের পত্র-পত্রিকার সংবাদেও এসেছে যে, তাপস বিভিন্ন সময়ে পিলখানার ভিতরে গিয়েছেন এবং তাঁর বাসায় মিটিং হতো। তাঁর যুক্ত থাকার বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। উনার বিরুদ্ধে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, লিস্ট ধরে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

জনসম্মুখে প্রকাশ করার আগে তাঁদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব রহমান বলেন, এর আগে প্রকাশ করা হলে এই ঝুঁকিটা থেকে যায় যে তাঁরা পালিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, সার্ভিং ও এক্স অফিসার যাঁরা জড়িত এবং যাঁরা ইন্টারনেটে হুমকি দিচ্ছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি প্রসিকিউশনের হাতে না পড়া পর্যন্ত সে বিষয়ে মন্তব্য করা বা তাঁদের নাম বলা উচিত নয়। তবে তাঁদের কাছে প্রতিটা বিষয়ের প্রমাণ আছে। তৎকালীন সময়ে সেনা অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের থেকে অফিসারদের কার কী ভূমিকা ছিল, সেটার ডকুমেন্ট আছে, তবে টেকনিক্যাল কারণে তাঁরা এই বিষয়ে কিছু বলতে পারেন না। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সব সময় একটা সিকিউরিটি থ্রেট এসেছে। যাঁদের নাম এখনো আসেনি, ভবিষ্যতে যদি আসে, সেখান থেকেও তাঁদের একটা হুমকি আছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে ভারতের ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে—এ বিষয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মন্তব্য জানতে চাইলে সাকিব রহমান বলেন, সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাওয়ার আগে তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে এ প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া পুনরায় বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করার জন্য তিনটি উপাদান কাজ করেছিল। এর মধ্যে একটি ছিল ফরেন এলিমেন্ট, যেটি ভারত। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে কমিশন বলেছে যে, ওই সময় পিলখানায় ভারতীয় নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল, সেটার প্রমাণ তারা পেয়েছে। আরেকটি ছিল পলিটিক্যাল এলিমেন্ট, যা হলো শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের লোকজন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


'ভারতের স্বার্থ রক্ষা ও ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে শেখ হাসিনা পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন'

প্রকাশের তারিখ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

সাবেক বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া দাবি করেছেন যে, ভারতের স্বার্থ রক্ষা এবং নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের মূল বার্তা ছিল, কোনো সেনাকর্মকর্তা যদি ভারতবিরোধী হন, তাহলে তাঁদের পরিণতি পিলখানার মতো হবে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাওয়া ক্লাবে 'বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে ও নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে, তাঁরা বিচার থেকে সরবেন না। রিপোর্টে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করতে হবে সরকারকে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মীরজাফরদের বিচার করতে হবে, না হলে আরও একটি পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রথমত দেশের মীরজাফরদের দিয়ে শুরু করতে হবে; সেনাবাহিনীর যেসকল কর্মকর্তা তাঁর বাবাসহ সাতান্ন জন অফিসারের সঙ্গে বেইমানি করেছেন, তাঁদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "যদি এই মীরজাফরদের বিচার না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও একটা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটানোর সুযোগ রয়ে যাবে। গত ষোলো বছর এতিম হয়ে ঘুরেছি, শরীরে সেনা রক্ত, এখানে কোনো আপস হবে না। এদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতেই হবে।"

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শহীদ কর্নেল কুদরত-এ-এলাহী রহমান শফিকের ছেলে অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান বলেন, তাঁরা আশা করেছিলেন কমিশন তাঁদের রিপোর্টের সামারাইজ ভার্সন দেবে। তিনি মনে করেন, দেশবাসীও কমিশনের কাছে একটি মোটামুটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ প্রত্যাশা করছিল। তবে সম্পূর্ণ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত সব বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। মূল সমন্বয়কারী ফজলে নূর তাপসের বিষয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে সাকিব রহমান বলেন, তাপসের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। এমনকি তৎকালীন সময়ের পত্র-পত্রিকার সংবাদেও এসেছে যে, তাপস বিভিন্ন সময়ে পিলখানার ভিতরে গিয়েছেন এবং তাঁর বাসায় মিটিং হতো। তাঁর যুক্ত থাকার বিষয়টি একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। উনার বিরুদ্ধে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানান, লিস্ট ধরে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

জনসম্মুখে প্রকাশ করার আগে তাঁদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব রহমান বলেন, এর আগে প্রকাশ করা হলে এই ঝুঁকিটা থেকে যায় যে তাঁরা পালিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, সার্ভিং ও এক্স অফিসার যাঁরা জড়িত এবং যাঁরা ইন্টারনেটে হুমকি দিচ্ছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি প্রসিকিউশনের হাতে না পড়া পর্যন্ত সে বিষয়ে মন্তব্য করা বা তাঁদের নাম বলা উচিত নয়। তবে তাঁদের কাছে প্রতিটা বিষয়ের প্রমাণ আছে। তৎকালীন সময়ে সেনা অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের থেকে অফিসারদের কার কী ভূমিকা ছিল, সেটার ডকুমেন্ট আছে, তবে টেকনিক্যাল কারণে তাঁরা এই বিষয়ে কিছু বলতে পারেন না। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সব সময় একটা সিকিউরিটি থ্রেট এসেছে। যাঁদের নাম এখনো আসেনি, ভবিষ্যতে যদি আসে, সেখান থেকেও তাঁদের একটা হুমকি আছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে ভারতের ভূমিকার বিষয়টি উঠে এসেছে—এ বিষয়ে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মন্তব্য জানতে চাইলে সাকিব রহমান বলেন, সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাওয়ার আগে তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে এ প্রশ্নের জবাবে মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া পুনরায় বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করার জন্য তিনটি উপাদান কাজ করেছিল। এর মধ্যে একটি ছিল ফরেন এলিমেন্ট, যেটি ভারত। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে কমিশন বলেছে যে, ওই সময় পিলখানায় ভারতীয় নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল, সেটার প্রমাণ তারা পেয়েছে। আরেকটি ছিল পলিটিক্যাল এলিমেন্ট, যা হলো শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের লোকজন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ