সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত মোট ৫১টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।
এসব ফ্লাইটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব জানা গেছে।
এর আগে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ২৮টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।
তবে নতুন হিসাবে সরাসরি ও ট্রানজিট—উভয় ধরনের বিঘ্নিত ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫১টি ফ্লাইটের মধ্যে ১২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি এবং ফ্লাই দুবাইয়ের পাঁচটি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর দেশটির বিমান চলাচলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইট স্থগিত, বাতিল অথবা বিকল্প রুটে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
এরই মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯ ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ফ্লাইটটি মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটটির পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি সম্পর্কে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা নাগাদ তথ্য জানানো হবে।
এদিকে সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে কিংবা নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাঁরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কিছু যাত্রীকে বিকল্প পথে সৌদি আরবে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে সব যাত্রীর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।




