সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁর সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী, সরকার কিংবা দলের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইশরাক জানান, মন্ত্রিসভার দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর কার্যক্রম বন্ধ হবে না। বরং ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রীও তাঁকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বলেছেন বলে দাবি করেন ইশরাক।
পদত্যাগের পেছনে সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর অংশগ্রহণের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় তাঁর হাতে অস্ত্র দেখা যায়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
অস্ত্র বহনের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইশরাক দাবি করেন, আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে রেখেছিলেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেই মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে বিতর্কের কারণে মাদক কারবারের মূল সমস্যাটি আলোচনার বাইরে চলে যাচ্ছে।
এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ওই সময় ইশরাকের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খবরটি অস্বীকার করা হয়েছিল। পরদিন সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। দলের অনুমতি সাপেক্ষে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে চান তিনি। পাশাপাশি মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও স্থানীয় জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এই বিএনপি নেতা।








