কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে প্রায় দুই বছর আত্মগোপনে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. বাহাদুর মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৭ (এসআরবি-৭)। নগরীর আকবরশাহ থানার ফয়’স লেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআরবি-৭-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এর আগে শুক্রবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে বাহাদুর মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাহাদুর মিয়া চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চন নগর বাদামতলা কাজীবাড়ি এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে। তিনি একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
এসআরবি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যান বাহাদুর মিয়া। ওই ঘটনার পর গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানায় একই বছরের ১৫ আগস্ট একটি মামলা করা হয়। সেই মামলায় বাহাদুর মিয়াকে পলাতক আসামি হিসেবে দেখানো হয়।
কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে এসআরবি-৭ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এই আসামি চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ থানা এলাকায় অবস্থান করছেন। তথ্যটি পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয় বাহিনীটি।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে ফয়’স লেক এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-৭-এর একটি দল। অভিযানের একপর্যায়ে বাহাদুর মিয়াকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় দুই বছর পলাতক থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।
গ্রেপ্তারের পর বাহাদুর মিয়ার পরিচয় ও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য যাচাই করা হয়। এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
তবে কারাগার থেকে পালানোর পর এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কোথায় কোথায় অবস্থান করেছিলেন কিংবা কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন, সে বিষয়ে এসআরবির প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তাকে কেউ আশ্রয় বা সহযোগিতা করেছিল কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযান শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাহাদুর মিয়াকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট মামলার আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এসআরবি।








