শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। সংক্ষিপ্ত এই ট্রানজিটের সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভুটানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে ভুটানের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ও জনগণের সম্মিলিত স্বার্থে আঞ্চলিক সহযোগিতার এই প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি প্রকল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানানো হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর মাধ্যমে এই প্রকল্পে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশ ছিল ভুটান। স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে। বিমানবন্দরের আলোচনায় সেই দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকতা ও সৌজন্য বিনিময়ের পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে কিছু সময় অবস্থান করেন। পরে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস তার অবস্থানের সময় প্রায় এক ঘণ্টা বলে জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভুটানের শীর্ষ নেতৃত্বের এটি দ্বিতীয় ঢাকা যাত্রাবিরতি।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন। সে সময় বিমানবন্দরে তার সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এবারের ঢাকা অবস্থান পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সফর না হলেও সংক্ষিপ্ত ট্রানজিটের মধ্যেই দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, সার্ক পুনরুজ্জীবন, জনশক্তি এবং ভুটানের উন্নয়ন প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।








