শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে। জনগণের শান্তি বিনষ্ট হয়—এমন কোনো কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে পুলিশকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশবাসী জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বাহিনীর সক্ষমতা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব শক্তির সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কিছু পুলিশ সদস্য গোপনে তথ্য সরবরাহ বা অন্যভাবে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সহযোগিতা করছেন—এমন তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও আছে। এসব বিষয়ে ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবার কাছে সরকারের বার্তা একটাই—সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। অতীতে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
এবার সাহসিকতা, অসামান্য সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলা সমাধানে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম, বিপিএম-সেবা, পিপিএম ও পিপিএম-সেবা পদক দেওয়া হয়েছে।








