ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঝিনাইগাতীতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি : পুরনো গরম কাপড় কেনায় নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড়


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ঝিনাইগাতীতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি : পুরনো গরম কাপড় কেনায় নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড়

গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীতে শীতের তীব্রতা দেশের সমতল এলাকার তুলনায় অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। যার ঠিক ওপারেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। উচ্চভূমির ঠান্ডা বাতাস সরাসরি নেমে আসায় মেঘালয়ের শীতল আবহাওয়া প্রতিদিনের মতোই ভেসে এসে ঝিনাইগাতীর মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও শীতল ও কাঁপুনিধরা করে তুলেছে।

এদিকে বাড়তি শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ। উষ্ণতার খোঁজে তাঁরা জোর দিচ্ছেন পুরোনো গরম কাপড়ের দিকে। শেরপুর সদর, ঝিনাইগাতীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে—পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। ফুটপাতজুড়ে সাজানো সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল, মাফলার, গরম টুপি, শিশুদের পোশাক—সবকিছুতেই ক্রেতাদের আগ্রহ চোখে পড়ে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষেরাই এসব কাপড়ের প্রধান ক্রেতা।

নতুন পোশাক কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে তাঁরা পুরোনো কাপড়েই ভরসা রাখছেন। শীত কাটানোর জন্য কাপড়ের ডিজাইন বা ব্র্যান্ডের গুরুত্ব নেই; কম টাকায় উষ্ণতা মিললেই হলো। ধানহাট মোড়, থানা মোড়, মার্কেটের সামনে এসব পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকান বেশি দেখা যায়। দামও কম—জ্যাকেট ১০০–৪০০ টাকা, সোয়েটার–গেঞ্জি–চাদর ১০০–২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান ও রিপন জানালেন, তাঁরা রাজধানী ও বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে এসব কাপড় সংগ্রহ করে ধুয়ে-ঝেড়ে বিক্রি করেন। তাঁদের ভাষায়, "আয় কম যাদের, তাদের জন্য এসব কাপড়ই বেশি কাজে দেয়। পুরোনো হলেও পরতে আরাম।" রিকশাচালক ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, "সস্তায় এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়া যায় না। উষ্ণ রাখলেই হলো।" ঝিনাইগাতী থানা মোড়ের বিক্রেতা আব্দুস ছালাম জানান, "প্রতি পিস ৫০–১০০ টাকা খরচ পড়ে। আমরা ২০–৫০ টাকা লাভ করি। অনেক সময় নিজেরাই ধুয়ে পরিপাটি করতে হয়।"

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা এসব পুরোনো গরম কাপড় শীত মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের যেমন শীত নিবারণের সুযোগ হয়, তেমনি ব্যবসায়ীরাও মৌসুমি আয় করতে পারেন। সীমান্তঘেঁষা ঝিনাইগাতীর কনকনে শীত মোকাবিলায় তাই পুরোনো গরম কাপড়ই নিম্নবিত্ত মানুষের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ঝিনাইগাতীতে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি : পুরনো গরম কাপড় কেনায় নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড়

প্রকাশের তারিখ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীতে শীতের তীব্রতা দেশের সমতল এলাকার তুলনায় অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। যার ঠিক ওপারেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। উচ্চভূমির ঠান্ডা বাতাস সরাসরি নেমে আসায় মেঘালয়ের শীতল আবহাওয়া প্রতিদিনের মতোই ভেসে এসে ঝিনাইগাতীর মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও শীতল ও কাঁপুনিধরা করে তুলেছে।

এদিকে বাড়তি শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ। উষ্ণতার খোঁজে তাঁরা জোর দিচ্ছেন পুরোনো গরম কাপড়ের দিকে। শেরপুর সদর, ঝিনাইগাতীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে—পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। ফুটপাতজুড়ে সাজানো সোয়েটার, জ্যাকেট, কম্বল, মাফলার, গরম টুপি, শিশুদের পোশাক—সবকিছুতেই ক্রেতাদের আগ্রহ চোখে পড়ে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষেরাই এসব কাপড়ের প্রধান ক্রেতা।

নতুন পোশাক কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে তাঁরা পুরোনো কাপড়েই ভরসা রাখছেন। শীত কাটানোর জন্য কাপড়ের ডিজাইন বা ব্র্যান্ডের গুরুত্ব নেই; কম টাকায় উষ্ণতা মিললেই হলো। ধানহাট মোড়, থানা মোড়, মার্কেটের সামনে এসব পুরোনো শীতবস্ত্রের দোকান বেশি দেখা যায়। দামও কম—জ্যাকেট ১০০–৪০০ টাকা, সোয়েটার–গেঞ্জি–চাদর ১০০–২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান ও রিপন জানালেন, তাঁরা রাজধানী ও বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে এসব কাপড় সংগ্রহ করে ধুয়ে-ঝেড়ে বিক্রি করেন। তাঁদের ভাষায়, "আয় কম যাদের, তাদের জন্য এসব কাপড়ই বেশি কাজে দেয়। পুরোনো হলেও পরতে আরাম।" রিকশাচালক ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, "সস্তায় এর চেয়ে ভালো কিছু পাওয়া যায় না। উষ্ণ রাখলেই হলো।" ঝিনাইগাতী থানা মোড়ের বিক্রেতা আব্দুস ছালাম জানান, "প্রতি পিস ৫০–১০০ টাকা খরচ পড়ে। আমরা ২০–৫০ টাকা লাভ করি। অনেক সময় নিজেরাই ধুয়ে পরিপাটি করতে হয়।"

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা এসব পুরোনো গরম কাপড় শীত মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের যেমন শীত নিবারণের সুযোগ হয়, তেমনি ব্যবসায়ীরাও মৌসুমি আয় করতে পারেন। সীমান্তঘেঁষা ঝিনাইগাতীর কনকনে শীত মোকাবিলায় তাই পুরোনো গরম কাপড়ই নিম্নবিত্ত মানুষের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ