ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মুহসিন মহিলা কলেজে কোটি টাকার দু/র্নী/তি; বেতন স্থগিতের প্রতিবাদে মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

মুহসিন মহিলা কলেজে কোটি টাকার দু/র্নী/তি; বেতন স্থগিতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

খুলনার মুহসিন মহিলা কলেজের বরখাস্তকৃত সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফের প্রায় সোয়া কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বর্তমান অবৈধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষসহ ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন অন্যায়ভাবে স্থগিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলেজের সামনে যশোর-খুলনা মহাসড়কে অভিভাবক সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রশাসনিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ জুলাই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ওই দিনই কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মাহফুজার রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক নওরোজী কবির ১৪ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১০ সেপ্টেম্বর অবহিত করে যে নওরোজী কবিরের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ নেই এবং মো. মাহফুজার রহমানই বিধি সম্মত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবুও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন ও নওরোজী কবির জোর করে গত ১৭ নভেম্বর তার ভূতাপেক্ষা নিয়োগ অনুমোদন করেন, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও কমিটির সদস্যদের মতামতের পরিপন্থী। বিধি বহির্ভূত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবির উপাধ্যক্ষ মো. মাহফুজার রহমানসহ ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর এমপিও সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের বেতন কোনো কারণ ছাড়াই স্থগিত করে অন্যদের বেতন ইএফটিতে সাবমিট করেছেন। এই হঠকারী পদক্ষেপে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ৭ জনের বেতন বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞেস করায় শিক্ষক প্রতিনিধি মো. জগলুল আলমকে শোকজও করা হয়েছে।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন জানান, নিয়ম অনুযায়ী সকল বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করার কথা থাকলেও সদস্য সচিব নওরোজী কবির তা না করে নিজের মতো করেই সবকিছু করছেন। তিনি স্বীকার করেন, বিধি মোতাবেক যাদের বেতন এসেছে, তা বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দৌলতপুর বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা চলমান (নং-সিআর ২৩৯/২৫)। এছাড়াও, সাবেক অধ্যক্ষ তাঁর দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কৌশলে নিয়োগ নিয়ে মিথ্যা রটনা প্রচার করতে থাকেন, যদিও পূর্বের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি কোনো সত্যতা পায়নি এবং আদালত নিয়োগ স্থগিতের আবেদন নামঞ্জুর করে নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

অন্যদিকে, নিয়োগ বিতর্ক নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় তৎকালীন সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন (নং-১৫১৩০/২০২৫), যার ফলে হাইকোর্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত স্থগিত করেন এবং অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের তদন্ত করার সুযোগ নেই বলে আদেশ দেন। মহামান্য হাইকোর্টের স্থগিত আদেশ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং প্রোক্টর গত ৭/১১/২৫ তারিখে কলেজে এসে তদন্ত করেন এবং আদালতের আদেশ ব্যতিত লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সাথে করে নিয়ে যান।

কলেজের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা সকলেই আশু সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অন্যথায় মুহসিন মহিলা কলেজটিতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়াসহ বড় ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মুহসিন মহিলা কলেজে কোটি টাকার দু/র্নী/তি; বেতন স্থগিতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

খুলনার মুহসিন মহিলা কলেজের বরখাস্তকৃত সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফের প্রায় সোয়া কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বর্তমান অবৈধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষসহ ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন অন্যায়ভাবে স্থগিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলেজের সামনে যশোর-খুলনা মহাসড়কে অভিভাবক সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিটে সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রশাসনিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় পরিচালনা পর্ষদ গত ৩১ জুলাই তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ওই দিনই কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মাহফুজার রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক নওরোজী কবির ১৪ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গত ১০ সেপ্টেম্বর অবহিত করে যে নওরোজী কবিরের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ নেই এবং মো. মাহফুজার রহমানই বিধি সম্মত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তবুও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন ও নওরোজী কবির জোর করে গত ১৭ নভেম্বর তার ভূতাপেক্ষা নিয়োগ অনুমোদন করেন, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও কমিটির সদস্যদের মতামতের পরিপন্থী। বিধি বহির্ভূত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবির উপাধ্যক্ষ মো. মাহফুজার রহমানসহ ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর এমপিও সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের বেতন কোনো কারণ ছাড়াই স্থগিত করে অন্যদের বেতন ইএফটিতে সাবমিট করেছেন। এই হঠকারী পদক্ষেপে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ৭ জনের বেতন বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞেস করায় শিক্ষক প্রতিনিধি মো. জগলুল আলমকে শোকজও করা হয়েছে।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন জানান, নিয়ম অনুযায়ী সকল বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে পরামর্শ করার কথা থাকলেও সদস্য সচিব নওরোজী কবির তা না করে নিজের মতো করেই সবকিছু করছেন। তিনি স্বীকার করেন, বিধি মোতাবেক যাদের বেতন এসেছে, তা বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। উল্লেখ্য, সাবেক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দৌলতপুর বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা চলমান (নং-সিআর ২৩৯/২৫)। এছাড়াও, সাবেক অধ্যক্ষ তাঁর দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কৌশলে নিয়োগ নিয়ে মিথ্যা রটনা প্রচার করতে থাকেন, যদিও পূর্বের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি কোনো সত্যতা পায়নি এবং আদালত নিয়োগ স্থগিতের আবেদন নামঞ্জুর করে নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

অন্যদিকে, নিয়োগ বিতর্ক নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় তৎকালীন সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন (নং-১৫১৩০/২০২৫), যার ফলে হাইকোর্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত স্থগিত করেন এবং অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের তদন্ত করার সুযোগ নেই বলে আদেশ দেন। মহামান্য হাইকোর্টের স্থগিত আদেশ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং প্রোক্টর গত ৭/১১/২৫ তারিখে কলেজে এসে তদন্ত করেন এবং আদালতের আদেশ ব্যতিত লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সাথে করে নিয়ে যান।

কলেজের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা সকলেই আশু সমাধানের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অন্যথায় মুহসিন মহিলা কলেজটিতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়াসহ বড় ধরনের বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ