ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

“ফ্যা/সি/বাদ আর দু/র্নী/তির যুগ শেষ, ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিজয় চাই : ডা. শফিকুর রহমান”


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

“ফ্যা/সি/বাদ আর দু/র্নী/তির যুগ শেষ, ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিজয় চাই : ডা. শফিকুর রহমান”

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "ফ্যাসিবাদ আর দুর্নীতির যুগ শেষ হয়েছে, এখন আমরা কোনো বিশেষ দলের নয়, বরং বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিজয় চাই।" তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সেই আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে কোরআনের আইনের মাধ্যমে, যা ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে এর বাইরে গিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে আন্দোলনরত ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, "৫ আগস্টের বিপ্লবের পরদিন থেকেই একটি গোষ্ঠী জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছে, এমনকি ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে এবং প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।"

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চরম সতর্কতা জারি করে জামায়াত আমির আরও বলেন, "যারা আবার ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলবে বা আচরণ করবে—তাদের জন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না। দেশের তরুণ, ছাত্র-জনতা আর মেহনতি মানুষ ফ্যাসিবাদ বরদাশত করবে না। অতীতে আল্লাহর ওপর ভরসা করে রুখে দিয়েছিলাম, ভবিষ্যতেও কেউ মাথা তুললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।" তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত মানুষ স্বস্তিতে কথা বলতে পারেনি। বিচারহীনতা, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনে দেশ বিপর্যস্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, "২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রডের বদলে বাঁশ দিয়ে উন্নয়নের নামে প্রহসন চলেছে।" এই প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, "এরা উন্নয়নের গল্প শোনাত, বলত বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, কানাডা। হ্যাঁ, বাংলাদেশ কানাডা হয়েছে—তবে কেবল তাদের জন্যই।"

ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, আলেম-ওলামারাও ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছেন। "হেফাজতের নেতারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল এবং পরে সেই রক্ত নিয়েও উপহাস করা হয়েছে—এটাই ছিল তাদের চরিত্র।" তিনি বলেন, "এরা রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছিল এবং রক্তাক্ত হাতে বিদায় নিয়েছে। পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিল। জুলাই-আগস্টে আমাদের সন্তানদের হত্যার পরও ধৃষ্টতার সঙ্গে মন্তব্য করেছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানকেই তারা সঠিকভাবে দাঁড়াতে দেয়নি; বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন—সবই তারা ধ্বংস করেছে।"

সমাবেশস্থলে বেলা ১২টা থেকেই মানুষের ঢল নামে এবং জুমার নামাজ আদায় শেষে দুপুর পৌনে ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম (শায়েখে চরমোনাই), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ৮ দলের শীর্ষ নেতারা।

৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত পাঁচ দফা দাবি হলো—১. জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন; ২. জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালু; ৩. অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা; ৪. বিগত সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা; এবং ৫. স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


“ফ্যা/সি/বাদ আর দু/র্নী/তির যুগ শেষ, ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিজয় চাই : ডা. শফিকুর রহমান”

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "ফ্যাসিবাদ আর দুর্নীতির যুগ শেষ হয়েছে, এখন আমরা কোনো বিশেষ দলের নয়, বরং বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিজয় চাই।" তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সেই আকাঙ্ক্ষার বিজয় হবে কোরআনের আইনের মাধ্যমে, যা ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে এর বাইরে গিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে আন্দোলনরত ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, "৫ আগস্টের বিপ্লবের পরদিন থেকেই একটি গোষ্ঠী জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছে, এমনকি ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে এবং প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে।"

ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চরম সতর্কতা জারি করে জামায়াত আমির আরও বলেন, "যারা আবার ফ্যাসিবাদের ভাষায় কথা বলবে বা আচরণ করবে—তাদের জন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না। দেশের তরুণ, ছাত্র-জনতা আর মেহনতি মানুষ ফ্যাসিবাদ বরদাশত করবে না। অতীতে আল্লাহর ওপর ভরসা করে রুখে দিয়েছিলাম, ভবিষ্যতেও কেউ মাথা তুললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।" তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত মানুষ স্বস্তিতে কথা বলতে পারেনি। বিচারহীনতা, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুণ্ঠনে দেশ বিপর্যস্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, "২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রডের বদলে বাঁশ দিয়ে উন্নয়নের নামে প্রহসন চলেছে।" এই প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, "এরা উন্নয়নের গল্প শোনাত, বলত বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, কানাডা। হ্যাঁ, বাংলাদেশ কানাডা হয়েছে—তবে কেবল তাদের জন্যই।"

ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, আলেম-ওলামারাও ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছেন। "হেফাজতের নেতারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের হত্যা করা হয়েছিল এবং পরে সেই রক্ত নিয়েও উপহাস করা হয়েছে—এটাই ছিল তাদের চরিত্র।" তিনি বলেন, "এরা রক্তাক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছিল এবং রক্তাক্ত হাতে বিদায় নিয়েছে। পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিল। জুলাই-আগস্টে আমাদের সন্তানদের হত্যার পরও ধৃষ্টতার সঙ্গে মন্তব্য করেছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানকেই তারা সঠিকভাবে দাঁড়াতে দেয়নি; বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন—সবই তারা ধ্বংস করেছে।"

সমাবেশস্থলে বেলা ১২টা থেকেই মানুষের ঢল নামে এবং জুমার নামাজ আদায় শেষে দুপুর পৌনে ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম (শায়েখে চরমোনাই), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ৮ দলের শীর্ষ নেতারা।

৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ঘোষিত পাঁচ দফা দাবি হলো—১. জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন; ২. জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালু; ৩. অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা; ৪. বিগত সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা; এবং ৫. স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ