ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শীতের ঐতিহ্য মানিকগঞ্জের খেজুরের রস


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতের ঐতিহ্য মানিকগঞ্জের খেজুরের রস

পাখিদের কিচির মিচির শব্দে সকালের ঘুম ভাঙার পর এক গ্লাস খেজুরের রস যেন শীতের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। শীতের মৌসুমে খেজুরের জনপদে এই সুস্বাদু রস সংগ্রহের ধুম পড়ে যায়। শীত যত তীব্র হয়, রসের মিষ্টিও তত বাড়ে। এ রস আগুনে জ্বাল দিয়ে বানানো হয় নলের গুড়, ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালি গুড়। খেজুরের গুড়ের মিষ্টি গন্ধে যেন অর্ধভোজন সম্পন্ন হয়। ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে একসময় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল, যার এক-তৃতীয়াংশই ছিল মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। সেখানে প্রতি একরে পনেরোটি খেজুর গাছ দেখা যেত।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইটভাটার জ্বালানিতে খেজুর গাছ ব্যবহৃত হওয়ায় এর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গাছিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে গাছ ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ায় এখন দূর থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতে খরচ ও পরিশ্রম বেড়ে যায়। একারণে গুড়ের দামও বেশি। ঘিওর উপজেলা থেকে রস কিনতে আসা আবুল মিয়া বলেন, খেজুরের রস আমার কাছে খুবই পছন্দের। সব বয়সি মানুষ এটি পছন্দ করে। বাড়ির পাশে না থাকায় সকালে ঘুম থেকে উঠেই রস খেতে আসি এবং পরিবারের অন্যদের জন্যও কিনে নিয়ে যাই। এছাড়া হরিরামপুরের বিভিন্ন গ্রামে এক নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় এই এলাকাতেই তৈরি হয়ে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহকারীরা প্রতিদিন বিকালে গাছি দা, নলি ও কলস কাঁধে নিয়ে রাস্তার পাশে ও মাঠের ভেতরের খেজুর গাছের চাচ দেওয়া অংশ কেটে ছোট-বড় ভাড় (কলসি) বেঁধে রাখেন রসের জন্য। পরদিন ভোরে সেই রস সংগ্রহ করা হয়। ঝিটকা গ্রামের রস সংগ্রহকারী মামুদ আলি জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রসের পরিমাণ বেড়েছে। সংগৃহীত রস তাপালে (বড় পাত্র) জ্বাল দিয়ে গুড় বানানো হয়। তিনি প্রতিদিন ১০-১২ কেজি গুড় ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি করেন। অন্যদিকে রাজশাহী থেকে আসা গাছি আলম বলেন, তিনি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কোমরে রশি বেঁধে ৪০টি খেজুর গাছ লিজ নিয়েছেন এবং তিন দিন পরপর রস সংগ্রহ করেন।

খেজুরের রস খাওয়ার সবচেয়ে আদর্শ সময় হলো ভোরবেলা, কারণ সারারাত ধরে রস জমে এবং এই সময় এটি টাটকা ও সুস্বাদু থাকে। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে মাথার অংশ পরিষ্কার করে বিশেষ কায়দায় কলসি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। খেজুরের রস কাঁচা খাওয়া যায়, আবার জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও খাওয়া যায়। খেজুরের গুড় আখের গুড় থেকেও বেশি মিষ্টি, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এতে প্রচুর আয়রন বা লৌহ থাকে, যা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। যারা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন, খেজুরের রস তাঁদের জন্য খুবই উপকারী, কারণ এতে প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণ এবং ১৫-২০% দ্রবীভূত শর্করা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শীতের ঐতিহ্য মানিকগঞ্জের খেজুরের রস

প্রকাশের তারিখ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

পাখিদের কিচির মিচির শব্দে সকালের ঘুম ভাঙার পর এক গ্লাস খেজুরের রস যেন শীতের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। শীতের মৌসুমে খেজুরের জনপদে এই সুস্বাদু রস সংগ্রহের ধুম পড়ে যায়। শীত যত তীব্র হয়, রসের মিষ্টিও তত বাড়ে। এ রস আগুনে জ্বাল দিয়ে বানানো হয় নলের গুড়, ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালি গুড়। খেজুরের গুড়ের মিষ্টি গন্ধে যেন অর্ধভোজন সম্পন্ন হয়। ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে একসময় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল, যার এক-তৃতীয়াংশই ছিল মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে। সেখানে প্রতি একরে পনেরোটি খেজুর গাছ দেখা যেত।

তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইটভাটার জ্বালানিতে খেজুর গাছ ব্যবহৃত হওয়ায় এর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জ জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গাছিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে গাছ ইটভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ায় এখন দূর থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতে খরচ ও পরিশ্রম বেড়ে যায়। একারণে গুড়ের দামও বেশি। ঘিওর উপজেলা থেকে রস কিনতে আসা আবুল মিয়া বলেন, খেজুরের রস আমার কাছে খুবই পছন্দের। সব বয়সি মানুষ এটি পছন্দ করে। বাড়ির পাশে না থাকায় সকালে ঘুম থেকে উঠেই রস খেতে আসি এবং পরিবারের অন্যদের জন্যও কিনে নিয়ে যাই। এছাড়া হরিরামপুরের বিভিন্ন গ্রামে এক নামে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় এই এলাকাতেই তৈরি হয়ে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহকারীরা প্রতিদিন বিকালে গাছি দা, নলি ও কলস কাঁধে নিয়ে রাস্তার পাশে ও মাঠের ভেতরের খেজুর গাছের চাচ দেওয়া অংশ কেটে ছোট-বড় ভাড় (কলসি) বেঁধে রাখেন রসের জন্য। পরদিন ভোরে সেই রস সংগ্রহ করা হয়। ঝিটকা গ্রামের রস সংগ্রহকারী মামুদ আলি জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রসের পরিমাণ বেড়েছে। সংগৃহীত রস তাপালে (বড় পাত্র) জ্বাল দিয়ে গুড় বানানো হয়। তিনি প্রতিদিন ১০-১২ কেজি গুড় ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি করেন। অন্যদিকে রাজশাহী থেকে আসা গাছি আলম বলেন, তিনি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কোমরে রশি বেঁধে ৪০টি খেজুর গাছ লিজ নিয়েছেন এবং তিন দিন পরপর রস সংগ্রহ করেন।

খেজুরের রস খাওয়ার সবচেয়ে আদর্শ সময় হলো ভোরবেলা, কারণ সারারাত ধরে রস জমে এবং এই সময় এটি টাটকা ও সুস্বাদু থাকে। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে মাথার অংশ পরিষ্কার করে বিশেষ কায়দায় কলসি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। খেজুরের রস কাঁচা খাওয়া যায়, আবার জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেও খাওয়া যায়। খেজুরের গুড় আখের গুড় থেকেও বেশি মিষ্টি, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এতে প্রচুর আয়রন বা লৌহ থাকে, যা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। যারা শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন, খেজুরের রস তাঁদের জন্য খুবই উপকারী, কারণ এতে প্রচুর খনিজ ও পুষ্টিগুণ এবং ১৫-২০% দ্রবীভূত শর্করা রয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ