চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে কোনো মোটরসাইকেলে ৩ লিটারের বেশি তেল থাকা অবস্থায় পাম্পে পুনরায় তেল নিতে এলে সেই বাইক আটক করা হবে। পাশাপাশি রাতের বেলা ফিলিং স্টেশনে অবস্থানকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধেও মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের এজেন্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক জানান, কৃষকদের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে ‘ভুয়া কৃষক’ শনাক্তে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ ভুয়া কৃষক শনাক্ত করতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তার মতে, কিছু ভুয়া ক্রেতা শনাক্ত হলেই পাম্পে অযথা চাপ কমে যাবে এবং প্রকৃত কৃষকরা সহজে জ্বালানি পাবে।
অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, বাসাবাড়ি বা গুদামে তেল মজুদ রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গরমের মধ্যে সামান্য আগুনের স্ফুলিঙ্গ বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তিনি মজুদদারদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় তেল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম তারিকউজ জামান জানান, জেলায় বর্তমানে ২২টি ফিলিং স্টেশন ও ৪৬টি এজেন্সির মাধ্যমে তেল সরবরাহ চলছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি কৃষকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সরবরাহ না করার নির্দেশও দেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলায় সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। রাতের বেলা পাম্পে মোটরসাইকেল অবস্থান করলে তা জব্দ করে মামলা দায়ের করা হবে। একইসঙ্গে জ্বালানির সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার বলেন, “জ্বালানি তেল একটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা। জনভোগান্তি কমাতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।”
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, জীবননগর ও দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জগণ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি এবং বিভিন্ন তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে কোনো মোটরসাইকেলে ৩ লিটারের বেশি তেল থাকা অবস্থায় পাম্পে পুনরায় তেল নিতে এলে সেই বাইক আটক করা হবে। পাশাপাশি রাতের বেলা ফিলিং স্টেশনে অবস্থানকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধেও মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের এজেন্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক জানান, কৃষকদের দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমাতে ‘ভুয়া কৃষক’ শনাক্তে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ ভুয়া কৃষক শনাক্ত করতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তার মতে, কিছু ভুয়া ক্রেতা শনাক্ত হলেই পাম্পে অযথা চাপ কমে যাবে এবং প্রকৃত কৃষকরা সহজে জ্বালানি পাবে।
অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, বাসাবাড়ি বা গুদামে তেল মজুদ রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গরমের মধ্যে সামান্য আগুনের স্ফুলিঙ্গ বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তিনি মজুদদারদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় তেল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম তারিকউজ জামান জানান, জেলায় বর্তমানে ২২টি ফিলিং স্টেশন ও ৪৬টি এজেন্সির মাধ্যমে তেল সরবরাহ চলছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি কৃষকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সরবরাহ না করার নির্দেশও দেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আলমডাঙ্গা ও জীবননগর উপজেলায় সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। রাতের বেলা পাম্পে মোটরসাইকেল অবস্থান করলে তা জব্দ করে মামলা দায়ের করা হবে। একইসঙ্গে জ্বালানির সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহার বলেন, “জ্বালানি তেল একটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা। জনভোগান্তি কমাতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।”
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, জীবননগর ও দামুড়হুদা থানার অফিসার ইনচার্জগণ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি এবং বিভিন্ন তেল বিপণন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন