ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হাদি হত্যাকাণ্ডে নাটকীয় মোড়: কি সেই বিশাল ষড়যন্ত্র!


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬

হাদি হত্যাকাণ্ডে নাটকীয় মোড়: কি সেই বিশাল ষড়যন্ত্র!
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে চলা গুঞ্জন আর টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার সন্দেহে প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশের পর বাংলাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি দেশের রাজনীতিতে এক সংকটময় পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল, যা এখন নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যখন রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও নির্বাচনী প্রার্থী ওসমান হাদি নির্মমভাবে আক্রান্ত হন। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তিনি তখন টকশো ও মাঠের রাজনীতিতে বেশ আলোচিত মুখ ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ সিঙ্গাপুর থেকে আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শাহবাগে লাগাতার অবস্থান থেকে শুরু করে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী ও ছায়ানটে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যাপক ইউনূস জনগণকে বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের কাছে এই তথ্য থাকলেও বিগত সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে তা গুরুত্ব পায়নি। সরকারের ভেতর ও বাইরে একটি শক্তিশালী মহলের নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টায় এই তথ্যগুলো আড়ালে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তৎকালীন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের ব্যাপারে অবিচল থাকায় শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থমকে যায়নি।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে বড় ভূমিকা রেখেছেন বর্তমান প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি ভারত সফরে যান এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের আদান-প্রদান হয়, যার ভিত্তিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বনগাঁ থেকে দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করে। বাংলাদেশ-ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কনস্যুলার অ্যাক্সেস দাবি করেছে।

এই গ্রেপ্তারকাণ্ডে ঢাকার রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের অনেকের মধ্যেই এখন চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তের মূল লক্ষ্য এখন হাদি হত্যার নেপথ্যের কারিগরদের খুঁজে বের করা। বিশেষ করে কারা নির্বাচনকে অনিশ্চিত করতে চেয়েছিল এবং এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিল, তাদের মুখোশ উন্মোচনের অপেক্ষায় এখন দেশবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


হাদি হত্যাকাণ্ডে নাটকীয় মোড়: কি সেই বিশাল ষড়যন্ত্র!

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে চলা গুঞ্জন আর টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার সন্দেহে প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশের পর বাংলাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি দেশের রাজনীতিতে এক সংকটময় পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল, যা এখন নতুন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর যখন রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও নির্বাচনী প্রার্থী ওসমান হাদি নির্মমভাবে আক্রান্ত হন। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তিনি তখন টকশো ও মাঠের রাজনীতিতে বেশ আলোচিত মুখ ছিলেন। তার মৃত্যু সংবাদ সিঙ্গাপুর থেকে আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শাহবাগে লাগাতার অবস্থান থেকে শুরু করে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী ও ছায়ানটে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধ্যাপক ইউনূস জনগণকে বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের কাছে এই তথ্য থাকলেও বিগত সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে তা গুরুত্ব পায়নি। সরকারের ভেতর ও বাইরে একটি শক্তিশালী মহলের নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টায় এই তথ্যগুলো আড়ালে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তৎকালীন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের ব্যাপারে অবিচল থাকায় শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থমকে যায়নি।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে বড় ভূমিকা রেখেছেন বর্তমান প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি ভারত সফরে যান এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের আদান-প্রদান হয়, যার ভিত্তিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বনগাঁ থেকে দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করে। বাংলাদেশ-ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশ ইতোমধ্যে কনস্যুলার অ্যাক্সেস দাবি করেছে।

এই গ্রেপ্তারকাণ্ডে ঢাকার রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের অনেকের মধ্যেই এখন চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্তের মূল লক্ষ্য এখন হাদি হত্যার নেপথ্যের কারিগরদের খুঁজে বের করা। বিশেষ করে কারা নির্বাচনকে অনিশ্চিত করতে চেয়েছিল এবং এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিল, তাদের মুখোশ উন্মোচনের অপেক্ষায় এখন দেশবাসী।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ