ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বেঁচে ফিরেছিলো ‘মালালা’ - ‘হাদী’ও কি ফিরবেন?


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বেঁচে ফিরেছিলো ‘মালালা’ - ‘হাদী’ও কি ফিরবেন?

বিপদ এবং হুমকির মধ্যেও মানুষের সাহস, আশা ও লড়াই থেমে থাকে না—যার প্রমাণ ২০১২ সালের একটি ঘটনা। পাকিস্তানের স্বাত উপত্যকার এক ছোট্ট শহরে জন্ম নেওয়া মালালা ইউসুফজাই ২০১২ সালে স্কুল থেকে ফেরার পথে তালেবান বন্দুকধারীর গুলির শিকার হন। মাথার এক পাশে লেগে যাওয়া গুলি মুহূর্তে জীবন বিপন্ন করে। চিকিৎসকরা “প্রায় অসম্ভবভাবে জীবন রক্ষাযোগ্য অবস্থা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবুও মালালা বেঁচে যান। এরপর তিনি নারী শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “মালালা ফান্ড” বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিশু ও কিশোরীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ায়। ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন।

মালালার সাহসিকতা ও প্রতিরোধের গল্প আজ যেন বাংলাদেশে ঢাকার ঢেউ তুলেছে, যেখানে সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হামলার মুহূর্তও ছিল জীবন-মৃত্যুর সংঘর্ষের মতো, এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছে, হাদী অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন এবং তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাঁর অবস্থাকে “অত্যন্ত গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছেন, এবং এখনও কোন ধরণের দৃঢ় আশাব্যঞ্জক চিকিৎসাগত ঘোষণা দেওয়া যাচ্ছে না।

ওসমান হাদীর এই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আশা, একতা ও প্রতিবাদের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। ঢাকাসহ সমগ্র দেশে মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালাচ্ছে, প্রশাসন সাঁড়াশি অভিযান ও তদন্ত চালাচ্ছে, এবং সাধারণ মানুষ থেকে দেশের প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত সকলে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন।

মালালার সাহসের মতো, হাদীও আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে নির্ভীকতা, প্রত্যয় ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক। বিপদের মুখেও জনগণ প্রত্যাশা রাখছে, যে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এবং আবার গণতান্ত্রিক ও সামাজিক লড়াইয়ে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বেঁচে ফিরেছিলো ‘মালালা’ - ‘হাদী’ও কি ফিরবেন?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বিপদ এবং হুমকির মধ্যেও মানুষের সাহস, আশা ও লড়াই থেমে থাকে না—যার প্রমাণ ২০১২ সালের একটি ঘটনা। পাকিস্তানের স্বাত উপত্যকার এক ছোট্ট শহরে জন্ম নেওয়া মালালা ইউসুফজাই ২০১২ সালে স্কুল থেকে ফেরার পথে তালেবান বন্দুকধারীর গুলির শিকার হন। মাথার এক পাশে লেগে যাওয়া গুলি মুহূর্তে জীবন বিপন্ন করে। চিকিৎসকরা “প্রায় অসম্ভবভাবে জীবন রক্ষাযোগ্য অবস্থা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবুও মালালা বেঁচে যান। এরপর তিনি নারী শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “মালালা ফান্ড” বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিশু ও কিশোরীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ায়। ২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন।

মালালার সাহসিকতা ও প্রতিরোধের গল্প আজ যেন বাংলাদেশে ঢাকার ঢেউ তুলেছে, যেখানে সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হামলার মুহূর্তও ছিল জীবন-মৃত্যুর সংঘর্ষের মতো, এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছে, হাদী অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন এবং তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তাঁর অবস্থাকে “অত্যন্ত গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছেন, এবং এখনও কোন ধরণের দৃঢ় আশাব্যঞ্জক চিকিৎসাগত ঘোষণা দেওয়া যাচ্ছে না।

ওসমান হাদীর এই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আশা, একতা ও প্রতিবাদের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। ঢাকাসহ সমগ্র দেশে মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালাচ্ছে, প্রশাসন সাঁড়াশি অভিযান ও তদন্ত চালাচ্ছে, এবং সাধারণ মানুষ থেকে দেশের প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত সকলে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন।

মালালার সাহসের মতো, হাদীও আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে নির্ভীকতা, প্রত্যয় ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক। বিপদের মুখেও জনগণ প্রত্যাশা রাখছে, যে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এবং আবার গণতান্ত্রিক ও সামাজিক লড়াইয়ে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ