ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর: মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর: মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন সিকদার। ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও তা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সিকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদ ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নির্মল দাস। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে নির্মল দাস জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুবিদখালী বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। গত কয়েক মাস ধরেই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন সিকদার তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পশ্চিম সুবিদখালী এলাকায় নিজ বাসা থেকে দোকানে যাওয়ার পথে সুজন সিকদার ফের চাঁদা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে সুজন সিকদারের নেতৃত্বে আব্বাস সিকদার, ইব্রাহীমসহ ৭ থেকে ৮ জন মিলে তাকে বেদম মারধর করেন। এসময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নির্মল দাস আক্ষেপ করে বলেন, "আমি ও আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।" ঘটনার দিন রাতেই তিনি সুজন সিকদারকে প্রধান আসামি করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা সুজন সিকদার। তিনি দাবি করেন, "চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট। নির্মল দাসের ছেলে মাদকসেবীদের সঙ্গে মেলামেশা করে; এ বিষয়ে তাকে সতর্ক করায় তিনি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।" মারধরের ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সামান্য হাতাহাতি হয়েছে মাত্র।

দলীয় নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, "দলের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হবে না। আমরা পুলিশকে অনুরোধ করেছি আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।"

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস ছালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর: মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও তা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সিকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধরের প্রতিবাদ ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নির্মল দাস। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে নির্মল দাস জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুবিদখালী বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। গত কয়েক মাস ধরেই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুজন সিকদার তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পশ্চিম সুবিদখালী এলাকায় নিজ বাসা থেকে দোকানে যাওয়ার পথে সুজন সিকদার ফের চাঁদা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে সুজন সিকদারের নেতৃত্বে আব্বাস সিকদার, ইব্রাহীমসহ ৭ থেকে ৮ জন মিলে তাকে বেদম মারধর করেন। এসময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নির্মল দাস আক্ষেপ করে বলেন, "আমি ও আমার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।" ঘটনার দিন রাতেই তিনি সুজন সিকদারকে প্রধান আসামি করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা সুজন সিকদার। তিনি দাবি করেন, "চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট। নির্মল দাসের ছেলে মাদকসেবীদের সঙ্গে মেলামেশা করে; এ বিষয়ে তাকে সতর্ক করায় তিনি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।" মারধরের ঘটনাটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সামান্য হাতাহাতি হয়েছে মাত্র।

দলীয় নেতার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন নান্নু বলেন, "দলের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হবে না। আমরা পুলিশকে অনুরোধ করেছি আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।"

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস ছালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ