কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন—এই পাঁচটি লক্ষ্য একযোগে অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে কৃষি পর্যটন বা অ্যাগ্রো-ট্যুরিজমকে বাংলাদেশের আগামীর সমন্বিত উন্নয়ন মডেল হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত একটি উপসম্পাদকীয়তে পোলট্রি প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ অঞ্জন মজুমদার এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
লেখক বলেন, কৃষি পর্যটন কেবল বিনোদননির্ভর পর্যটন নয়; এটি উৎপাদন, ভোগ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত সংযোগ। খামার, মৎস্যঘের, চা-বাগান, হাওর, সুন্দরবনের নদীকেন্দ্রিক কৃষি অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমুদ্র উপকূলীয় তটভূমিগুলো যখন পর্যটনের গন্তব্যে পরিণত হবে, তখন কৃষক কেবল উৎপাদক হয়ে থাকবেন না; তিনি হয়ে উঠবেন উদ্যোক্তা ও সেবাদাতা।
সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাকে কৃষি পর্যটন মডেলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করে লেখক বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এককভাবে বাজারে টিকে থাকতে পারেন না। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি পর্যটনকেন্দ্র ও হোমস্টে পরিচালিত হলে ঝুঁকি কমে এবং মুনাফার ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়। ইতালির 'Agriturismo' মডেল ও জাপানের গ্রামীণ কৃষি সমবায় এর সফল দৃষ্টান্ত।
রপ্তানি সম্ভাবনার দিক থেকে লেখক মনে করেন, কৃষি পর্যটনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। জৈব খাদ্য, ঐতিহ্যবাহী চাল, মধু, দুগ্ধজাত পণ্য ও মৌসুমি ফল পর্যটনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'বাংলাদেশ ব্র্যান্ড' হিসেবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে এই পথে সফলতা দেখিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃষি পর্যটনের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে লেখক বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। শুধু ফসলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আয়ের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করলে কৃষকের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়বে। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের উপকূলীয় কৃষি পর্যটন প্রকল্প এ ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য উদাহরণ।
তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কৃষি, পর্যটন, সমবায়, মৎস্য, পরিকল্পনা, পরিবেশ ও যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন লেখক। সহজ ঋণ, সমবায়বান্ধব নীতি, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া কৃষি পর্যটন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন—এই পাঁচটি লক্ষ্য একযোগে অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে কৃষি পর্যটন বা অ্যাগ্রো-ট্যুরিজমকে বাংলাদেশের আগামীর সমন্বিত উন্নয়ন মডেল হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত একটি উপসম্পাদকীয়তে পোলট্রি প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ অঞ্জন মজুমদার এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
লেখক বলেন, কৃষি পর্যটন কেবল বিনোদননির্ভর পর্যটন নয়; এটি উৎপাদন, ভোগ, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত সংযোগ। খামার, মৎস্যঘের, চা-বাগান, হাওর, সুন্দরবনের নদীকেন্দ্রিক কৃষি অঞ্চল, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমুদ্র উপকূলীয় তটভূমিগুলো যখন পর্যটনের গন্তব্যে পরিণত হবে, তখন কৃষক কেবল উৎপাদক হয়ে থাকবেন না; তিনি হয়ে উঠবেন উদ্যোক্তা ও সেবাদাতা।
সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাকে কৃষি পর্যটন মডেলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করে লেখক বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এককভাবে বাজারে টিকে থাকতে পারেন না। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষি পর্যটনকেন্দ্র ও হোমস্টে পরিচালিত হলে ঝুঁকি কমে এবং মুনাফার ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়। ইতালির 'Agriturismo' মডেল ও জাপানের গ্রামীণ কৃষি সমবায় এর সফল দৃষ্টান্ত।
রপ্তানি সম্ভাবনার দিক থেকে লেখক মনে করেন, কৃষি পর্যটনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। জৈব খাদ্য, ঐতিহ্যবাহী চাল, মধু, দুগ্ধজাত পণ্য ও মৌসুমি ফল পর্যটনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে 'বাংলাদেশ ব্র্যান্ড' হিসেবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে এই পথে সফলতা দেখিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃষি পর্যটনের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে লেখক বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। শুধু ফসলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আয়ের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করলে কৃষকের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়বে। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের উপকূলীয় কৃষি পর্যটন প্রকল্প এ ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য উদাহরণ।
তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কৃষি, পর্যটন, সমবায়, মৎস্য, পরিকল্পনা, পরিবেশ ও যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন লেখক। সহজ ঋণ, সমবায়বান্ধব নীতি, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া কৃষি পর্যটন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আপনার মতামত লিখুন