ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মেগা প্রকল্পের ঋণের বোঝা: নতুন অর্থমন্ত্রীর সামনে কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মেগা প্রকল্পের ঋণের বোঝা: নতুন অর্থমন্ত্রীর সামনে কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

গত এক দশকে বৈদেশিক ঋণে পরিচালিত মেগা প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের অবকাঠামোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনলেও এখন তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পদ্মা রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে কিস্তি পরিশোধের চাপ। নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্রমবর্ধমান এই ঋণের বোঝা সামাল দেওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে অনেক প্রকল্পের কিস্তির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে, যা জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে।

মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয়-স্ফীতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অনেক প্রকল্পের ব্যয় প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যেমন, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে মেট্রোরেলের ব্যয় ২১ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল ব্যয় এবং এর ঋণের কিস্তি শোধের প্রক্রিয়া ২০২৮ সাল থেকে পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে তা সরাসরি রিজার্ভের ওপর বড় আঘাত হানবে বলে মনে করা হচ্ছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেল এবং কর্ণফুলী টানেল ইতিমধ্যে অপারেশনাল লসে থাকায় সরকার বাজেট থেকে ভর্তুকি দিয়ে এগুলোর ঋণের কিস্তি শোধ করছে।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দাবি ছিল এই প্রকল্পগুলো নিজেরাই নিজেদের আয় দিয়ে ঋণের দায় মেটাবে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। মেট্রোরেল ও রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় এতটাই বেশি যে, যাত্রী থেকে প্রাপ্ত আয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে রূপপুর প্রকল্পের বিদ্যুতের দাম বাজারমূল্যের নিচে হওয়ায় সেখান থেকেও মুনাফার আশা ক্ষীণ। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, রাজস্ব সংগ্রহ না বাড়লে এবং ঋণের পুনর্বিন্যাস করা না গেলে অর্থনীতি একটি ‘টিকটিক করা টাইম বোমার’ মতো ঝুঁকিতে পড়বে। অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলামের মতে, নতুন অর্থমন্ত্রীকে এখনই ভর্তুকি কমানো, প্রকল্প পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর নীতি নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


মেগা প্রকল্পের ঋণের বোঝা: নতুন অর্থমন্ত্রীর সামনে কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গত এক দশকে বৈদেশিক ঋণে পরিচালিত মেগা প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের অবকাঠামোতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনলেও এখন তা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পদ্মা রেল সংযোগ, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কর্ণফুলী টানেলের মতো বড় প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে কিস্তি পরিশোধের চাপ। নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্রমবর্ধমান এই ঋণের বোঝা সামাল দেওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে অনেক প্রকল্পের কিস্তির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে, যা জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে।

মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয়-স্ফীতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অনেক প্রকল্পের ব্যয় প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যেমন, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে মেট্রোরেলের ব্যয় ২১ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশাল ব্যয় এবং এর ঋণের কিস্তি শোধের প্রক্রিয়া ২০২৮ সাল থেকে পূর্ণমাত্রায় শুরু হলে তা সরাসরি রিজার্ভের ওপর বড় আঘাত হানবে বলে মনে করা হচ্ছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেল এবং কর্ণফুলী টানেল ইতিমধ্যে অপারেশনাল লসে থাকায় সরকার বাজেট থেকে ভর্তুকি দিয়ে এগুলোর ঋণের কিস্তি শোধ করছে।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দাবি ছিল এই প্রকল্পগুলো নিজেরাই নিজেদের আয় দিয়ে ঋণের দায় মেটাবে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। মেট্রোরেল ও রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় এতটাই বেশি যে, যাত্রী থেকে প্রাপ্ত আয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে রূপপুর প্রকল্পের বিদ্যুতের দাম বাজারমূল্যের নিচে হওয়ায় সেখান থেকেও মুনাফার আশা ক্ষীণ। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, রাজস্ব সংগ্রহ না বাড়লে এবং ঋণের পুনর্বিন্যাস করা না গেলে অর্থনীতি একটি ‘টিকটিক করা টাইম বোমার’ মতো ঝুঁকিতে পড়বে। অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলামের মতে, নতুন অর্থমন্ত্রীকে এখনই ভর্তুকি কমানো, প্রকল্প পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর নীতি নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ