ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল এর প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়নের একদফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন



বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল এর প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়নের একদফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন
৯ম পে-স্কেল দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন

সরকার ঘোষিত নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ চুয়াডাঙ্গা শাখা। রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারী) সকল ১০টা ৩০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামেন এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চুয়াডাঙ্গা জেলা কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের বিপুলসংখ্যক কর্মচারী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান বেতনে পরিবারের ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন না হলে কর্মচারীরা আরো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।

একজন বক্তা বলেন, ‍"কারো জীবন যাত্রার মান থেমে নেই, আগে একজন রিশকা চালক যেখানে আগে ৫ টাকা ভাড়া নিতো  এখন তার ভাড়া ২০ টাকা, কিন্ত আমরা সেই  আগের  ৮ হাজার দুই শত টাকার পে-স্কেলে থেমে আছি" আমারা জীবন ধারণের ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছি।"তিনি আরো বলেন যেখানে চালের কেজি ছিল ২০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বেতন দিয়ে পরিবার চালানো অত্যন্ত দুষ্কর। তাই আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের কাছে আমাদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। সরকার এটি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের রেকর্ড কিপার বলেন "আমাদের কোন আন্দোলন ছাড়া সরকার যে নবম পে-স্কেল ঘোষণা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে কিন্তু হটাৎ কি হলো যে সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করছেনা? তিনি আরো বলেন সরকার যদি পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করে তাহলে আমাদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে।"

আরেকজন বক্তা বলেন সরকার পে-স্কেলের নামে আমাদের সামনে মুলা ঝুলিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন আমরা স্বৈরাচার সরকার দেখেছি, ফ্যাসিবাদী সরকার দেখেছি কিন্তু বর্তমানে আপনারা যে ভাবে মিথ্যাচার করছেন আমরা আপনাদের মিথ্যাবাদী বলতে চাই না, আমরা পে-স্কেলের টাকা দিয়ে জমি কিনবো না, বাড়ি করবো না, স্ত্রীর গহনা কিনবো না, ছেলে মেয়েদের আমেরিকা-লন্ডন পড়াতে চাইনা আমরা পে-স্কেলের টাকা দিয়ে চাল, ডাল কিনতে চাই।  তাই আমাদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। 

মানববন্ধনে বক্তরা আরো বলেন প্রতি ৫ বছর পর পর আমাদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করতে হবে এটি আমাদের অধিকার আমরা সর্বশেষ ১০ বছর আগে পে-স্কেল পেয়েছি কিন্তু তখনকার সাথে এখনকার আয়-ব্যায়ের আকাশ পাতাল তফাত আমরা যে টাকা বেতন পাই সেই বেতনের টাকা দিয়ে আমাদের জীবনযাপন করা কষ্টসাধ্য

বক্তারা আরো বলেন, ২০১৫ সালের ৮ম পে-স্কেলের প্রায় ১০ বছর পূর্ণহতে চলেছে। বর্তমান বাজারের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকায় একজন কর্মচারীর পক্ষে পরিবার নিয়ে মানবিক ও সামাজিক মর্যাদা সহকারে জীবনধারণ করা অসম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হোসেন। যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক তৈহিদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আবু সায়েম সহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। 

এ সময় বাংলাদেশ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার ব্যানারে আরো স্থানীয় বিভিন্ন অফিসের কর্মচারীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানান  আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নবম পে স্কেল কার্যকর করতে হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল এর প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়নের একদফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সরকার ঘোষিত নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ চুয়াডাঙ্গা শাখা। রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারী) সকল ১০টা ৩০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামেন এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চুয়াডাঙ্গা জেলা কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের বিপুলসংখ্যক কর্মচারী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান বেতনে পরিবারের ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন না হলে কর্মচারীরা আরো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।

একজন বক্তা বলেন, ‍"কারো জীবন যাত্রার মান থেমে নেই, আগে একজন রিশকা চালক যেখানে আগে ৫ টাকা ভাড়া নিতো  এখন তার ভাড়া ২০ টাকা, কিন্ত আমরা সেই  আগের  ৮ হাজার দুই শত টাকার পে-স্কেলে থেমে আছি" আমারা জীবন ধারণের ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছি।"তিনি আরো বলেন যেখানে চালের কেজি ছিল ২০ টাকা, এখন তা বেড়ে ৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বর্তমান বেতন দিয়ে পরিবার চালানো অত্যন্ত দুষ্কর। তাই আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের কাছে আমাদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। সরকার এটি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের রেকর্ড কিপার বলেন "আমাদের কোন আন্দোলন ছাড়া সরকার যে নবম পে-স্কেল ঘোষণা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে কিন্তু হটাৎ কি হলো যে সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করছেনা? তিনি আরো বলেন সরকার যদি পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করে তাহলে আমাদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হবে।"

আরেকজন বক্তা বলেন সরকার পে-স্কেলের নামে আমাদের সামনে মুলা ঝুলিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন আমরা স্বৈরাচার সরকার দেখেছি, ফ্যাসিবাদী সরকার দেখেছি কিন্তু বর্তমানে আপনারা যে ভাবে মিথ্যাচার করছেন আমরা আপনাদের মিথ্যাবাদী বলতে চাই না, আমরা পে-স্কেলের টাকা দিয়ে জমি কিনবো না, বাড়ি করবো না, স্ত্রীর গহনা কিনবো না, ছেলে মেয়েদের আমেরিকা-লন্ডন পড়াতে চাইনা আমরা পে-স্কেলের টাকা দিয়ে চাল, ডাল কিনতে চাই।  তাই আমাদের নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। 

মানববন্ধনে বক্তরা আরো বলেন প্রতি ৫ বছর পর পর আমাদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করতে হবে এটি আমাদের অধিকার আমরা সর্বশেষ ১০ বছর আগে পে-স্কেল পেয়েছি কিন্তু তখনকার সাথে এখনকার আয়-ব্যায়ের আকাশ পাতাল তফাত আমরা যে টাকা বেতন পাই সেই বেতনের টাকা দিয়ে আমাদের জীবনযাপন করা কষ্টসাধ্য

বক্তারা আরো বলেন, ২০১৫ সালের ৮ম পে-স্কেলের প্রায় ১০ বছর পূর্ণহতে চলেছে। বর্তমান বাজারের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার দুইশত পঞ্চাশ টাকায় একজন কর্মচারীর পক্ষে পরিবার নিয়ে মানবিক ও সামাজিক মর্যাদা সহকারে জীবনধারণ করা অসম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হোসেন। যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক তৈহিদুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আবু সায়েম সহ সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। 

এ সময় বাংলাদেশ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার ব্যানারে আরো স্থানীয় বিভিন্ন অফিসের কর্মচারীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানান  আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নবম পে স্কেল কার্যকর করতে হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ