ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রামগঞ্জে ঠিকাদারের অবহেলায় খালে ধসে পড়ছে মাদরাসা ভবন, বিপাকে শতাধিক শিক্ষার্থী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

রামগঞ্জে ঠিকাদারের অবহেলায় খালে ধসে পড়ছে মাদরাসা ভবন, বিপাকে শতাধিক শিক্ষার্থী


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এলজিইডির একটি কালভার্ট নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতির কারণে একটি মাদরাসা ভবন ধসে পড়েছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইকরা ইন্টারন্যাশনাল মহিলা মাদরাসাটি এখন পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী। এর ফলে শতাধিক শিক্ষার্থীর নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের জামতলি বাজার সংলগ্ন এলাকায় লন্ডন প্রবাসী নিজাম উদ্দীনের অর্থায়নে ২০২৩ সালে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই টিনশেড পাকা ভবনটি নির্মিত হয়। সম্প্রতি এলজিইডির অর্থায়নে মাদরাসা ঘেঁষে একটি পুরাতন কালভার্ট ভাঙার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’।

অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে গভীর গর্ত করায় মাদরাসা ভবনটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়। ভবন মালিক ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শুরুতে ঝুঁকির কথা জানিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বললেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কাজী বেলাল কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু খননকাজ চলাকালীন ভবনের চারপাশের দেওয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয় এবং ফ্লোর দেবে যায়।

মাদরাসার সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বারবার বারণ করা সত্ত্বেও ঠিকাদারের লোকজন আমাদের কথায় কান দেয়নি। শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী তখন ক্লাসে ছিল। ভবন কাঁপতে শুরু করলে আতঙ্কিত শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে আসে। বর্তমানে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মসজিদে বসে পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।”

মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা নূর হোসেন জানান, ঠিকাদারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই আজ এই ভবনটি ধ্বংসের মুখে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় এবং ভবন মালিকের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশনেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারা ভবনটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

অভিযুক্ত ঠিকাদার কাজী বেলাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমি কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং তাদের আশ্বস্ত করেছি। এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।”

এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ মাহমুদ খান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার প্রক্রিয়া চলছে। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে ভবনটি সংস্কার বা পুনরায় নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রামগঞ্জে ঠিকাদারের অবহেলায় খালে ধসে পড়ছে মাদরাসা ভবন, বিপাকে শতাধিক শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এলজিইডির একটি কালভার্ট নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতির কারণে একটি মাদরাসা ভবন ধসে পড়েছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইকরা ইন্টারন্যাশনাল মহিলা মাদরাসাটি এখন পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী। এর ফলে শতাধিক শিক্ষার্থীর নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের জামতলি বাজার সংলগ্ন এলাকায় লন্ডন প্রবাসী নিজাম উদ্দীনের অর্থায়নে ২০২৩ সালে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই টিনশেড পাকা ভবনটি নির্মিত হয়। সম্প্রতি এলজিইডির অর্থায়নে মাদরাসা ঘেঁষে একটি পুরাতন কালভার্ট ভাঙার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’।

অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে গভীর গর্ত করায় মাদরাসা ভবনটি ধসে পড়ার উপক্রম হয়। ভবন মালিক ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শুরুতে ঝুঁকির কথা জানিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে বললেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কাজী বেলাল কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু খননকাজ চলাকালীন ভবনের চারপাশের দেওয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয় এবং ফ্লোর দেবে যায়।

মাদরাসার সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বারবার বারণ করা সত্ত্বেও ঠিকাদারের লোকজন আমাদের কথায় কান দেয়নি। শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী তখন ক্লাসে ছিল। ভবন কাঁপতে শুরু করলে আতঙ্কিত শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে আসে। বর্তমানে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মসজিদে বসে পাঠগ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।”

মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা নূর হোসেন জানান, ঠিকাদারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণেই আজ এই ভবনটি ধ্বংসের মুখে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় এবং ভবন মালিকের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশনেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারা ভবনটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

অভিযুক্ত ঠিকাদার কাজী বেলাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আমি কয়েকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং তাদের আশ্বস্ত করেছি। এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।”

এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ মাহমুদ খান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার প্রক্রিয়া চলছে। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে ভবনটি সংস্কার বা পুনরায় নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ