ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জ্বালানি কাঠের চড়া দাম: সুন্দরগঞ্জে আয়ের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে গোবরের লাকড়ি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

জ্বালানি কাঠের চড়া দাম: সুন্দরগঞ্জে আয়ের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে গোবরের লাকড়ি


জ্বালানি কাঠের আকাশচুম্বী দাম ও দুষ্প্রাপ্যতার প্রেক্ষাপটে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গোবরের লাকড়ি এখন গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে এখন দৃশ্যমান হচ্ছে গোবরের লাকড়ি তৈরির ব্যস্ততা। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামগঞ্জের প্রতিটি কাঁচা-পাকা রাস্তার ধারে সারি সারি লাকড়ি শুকানোর ধুম পড়েছে। এক সময় কেবল নিজেদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই লাকড়ি বিক্রি করে অনেক ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিক গোয়াল পদ্ধতিতে গরু লালন-পালনের ফলে গোবর সংগ্রহ এখন আগের চেয়ে সহজতর হয়েছে। নদী ভাঙনকবলিত বা প্রান্তিক পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন খামার থেকে শ্রমের বিনিময়ে কিংবা নামমাত্র মূল্যে গোবর সংগ্রহ করেন। এরপর পাটকাঠি, বাঁশের কঞ্চি বা ভুট্টার ডাঁটার ওপর গোবরের প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ লাকড়ি। অনেকে মান বাড়াতে এর সঙ্গে কাঠের গুঁড়াও মিশ্রণ করেন।

দহবন্দ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের শুকলাল বালা জানান, প্রতিটি লাকড়ি তৈরিতে প্রায় ২ টাকা খরচ হলেও বাজারে বা স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে তা ৪ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রান্নার খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি এটি এখন তার সংসারের বাড়তি আয়ের পথ। অন্যদিকে, চরাঞ্চলের গৃহিণী রাশেদা খাতুন জানান, শীতকালে এই লাকড়ি শুকাতে সময় বেশি লাগলেও বর্ষা মৌসুমের জ্বালানি সংকট মেটাতে এটি আগাম মজুত করে রাখা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দে এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, গোবর থেকে বায়োগ্যাস ও জৈব সার তৈরির পাশাপাশি লাকড়ি হিসেবে এর ব্যবহার গ্রামীণ জ্বালানি সংকট মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল কবিরের মতে, জ্বালানির পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি করতে পারলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন।

অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে শিশু সাহিত্যিক কঙ্কন সরকার বলেন, আগে কেবল মশা তাড়াতে বা গোয়ালঘর উষ্ণ রাখতে গোবরের ব্যবহার হতো, কিন্তু এখন তা বাণিজ্যিক গুরুত্ব পাওয়ায় সাধারণ মানুষের অভাব দূর হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়ায় সুন্দরগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়ির রান্নাঘরে এখন কাঠের বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে এই গোবরের লাকড়ি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জ্বালানি কাঠের চড়া দাম: সুন্দরগঞ্জে আয়ের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে গোবরের লাকড়ি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


জ্বালানি কাঠের আকাশচুম্বী দাম ও দুষ্প্রাপ্যতার প্রেক্ষাপটে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গোবরের লাকড়ি এখন গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা জুড়ে এখন দৃশ্যমান হচ্ছে গোবরের লাকড়ি তৈরির ব্যস্ততা। বিশেষ করে শীত মৌসুমে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামগঞ্জের প্রতিটি কাঁচা-পাকা রাস্তার ধারে সারি সারি লাকড়ি শুকানোর ধুম পড়েছে। এক সময় কেবল নিজেদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই লাকড়ি বিক্রি করে অনেক ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিক গোয়াল পদ্ধতিতে গরু লালন-পালনের ফলে গোবর সংগ্রহ এখন আগের চেয়ে সহজতর হয়েছে। নদী ভাঙনকবলিত বা প্রান্তিক পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন খামার থেকে শ্রমের বিনিময়ে কিংবা নামমাত্র মূল্যে গোবর সংগ্রহ করেন। এরপর পাটকাঠি, বাঁশের কঞ্চি বা ভুট্টার ডাঁটার ওপর গোবরের প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ লাকড়ি। অনেকে মান বাড়াতে এর সঙ্গে কাঠের গুঁড়াও মিশ্রণ করেন।

দহবন্দ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের শুকলাল বালা জানান, প্রতিটি লাকড়ি তৈরিতে প্রায় ২ টাকা খরচ হলেও বাজারে বা স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে তা ৪ থেকে ৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রান্নার খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি এটি এখন তার সংসারের বাড়তি আয়ের পথ। অন্যদিকে, চরাঞ্চলের গৃহিণী রাশেদা খাতুন জানান, শীতকালে এই লাকড়ি শুকাতে সময় বেশি লাগলেও বর্ষা মৌসুমের জ্বালানি সংকট মেটাতে এটি আগাম মজুত করে রাখা হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দে এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, গোবর থেকে বায়োগ্যাস ও জৈব সার তৈরির পাশাপাশি লাকড়ি হিসেবে এর ব্যবহার গ্রামীণ জ্বালানি সংকট মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশিদুল কবিরের মতে, জ্বালানির পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি করতে পারলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন।

অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে শিশু সাহিত্যিক কঙ্কন সরকার বলেন, আগে কেবল মশা তাড়াতে বা গোয়ালঘর উষ্ণ রাখতে গোবরের ব্যবহার হতো, কিন্তু এখন তা বাণিজ্যিক গুরুত্ব পাওয়ায় সাধারণ মানুষের অভাব দূর হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হওয়ায় সুন্দরগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বসতবাড়ির রান্নাঘরে এখন কাঠের বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে এই গোবরের লাকড়ি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ