ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রীকে ‘খাইয়া ফেলার’ হুমকি, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রীকে ‘খাইয়া ফেলার’ হুমকি, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের স্ত্রী ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোসা. নার্গিস আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল কর্মীদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে বসে থাকা নার্গিস আক্তারকে উদ্দেশ্য করে এক যুবক মারমুখী ভঙ্গিতে বলছেন, “এই এরিয়াতে ঢুকছেন কেন? এদিকে আর ঢুকবেন না। একেবারে খাইয়া লামু শালারা, যাহ!” এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপন করতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সমর্থকরা বাধা প্রদান করেন। এর কিছুক্ষণ পর, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে পুনরায় বাধার মুখে পড়েন নার্গিস আক্তার।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির ও যুবদল কর্মী সজীবের নেতৃত্বে একদল যুবক সন্ত্রাসী কায়দায় প্রচারণায় বাধা দেয় এবং লিফলেট কেড়ে নেয়। ভিডিওতে হুমায়ূন কবির ও সজীবকে সরাসরি হুমকি দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন অভিযোগ করেন, তার সমর্থকদের নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “বিলবোর্ড লাগাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং গণসংযোগে অংশ নেওয়া কর্মীদের ওপর চড়াও হচ্ছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এমনকি ভবিষ্যতে এলাকায় না ঢোকার জন্যও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাউসার আশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাকসুদ হোসেন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ছিলেন। তার ওপর স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ রয়েছে। ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানি সরকার জানান, তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঊর্ধ্বতন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নারায়ণগঞ্জ-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থীর স্ত্রীকে ‘খাইয়া ফেলার’ হুমকি, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের স্ত্রী ও প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোসা. নার্গিস আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল কর্মীদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে বসে থাকা নার্গিস আক্তারকে উদ্দেশ্য করে এক যুবক মারমুখী ভঙ্গিতে বলছেন, “এই এরিয়াতে ঢুকছেন কেন? এদিকে আর ঢুকবেন না। একেবারে খাইয়া লামু শালারা, যাহ!” এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তার এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপন করতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সমর্থকরা বাধা প্রদান করেন। এর কিছুক্ষণ পর, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকায় গণসংযোগ করতে গেলে পুনরায় বাধার মুখে পড়েন নার্গিস আক্তার।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির ও যুবদল কর্মী সজীবের নেতৃত্বে একদল যুবক সন্ত্রাসী কায়দায় প্রচারণায় বাধা দেয় এবং লিফলেট কেড়ে নেয়। ভিডিওতে হুমায়ূন কবির ও সজীবকে সরাসরি হুমকি দিতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন অভিযোগ করেন, তার সমর্থকদের নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “বিলবোর্ড লাগাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং গণসংযোগে অংশ নেওয়া কর্মীদের ওপর চড়াও হচ্ছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এমনকি ভবিষ্যতে এলাকায় না ঢোকার জন্যও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাউসার আশা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মাকসুদ হোসেন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ছিলেন। তার ওপর স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ রয়েছে। ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এর সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানি সরকার জানান, তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঊর্ধ্বতন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ