উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং শিল্প-সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত পাবনার শিল্প খাত বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের লাভজনক টেক্সটাইল, হোসিয়ারি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো এখন ঋণের বোঝা আর লোকসানের ভারে জর্জরিত। ক্রমাগত লোকসানের কারণে অনেক কলকারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, আর যেগুলো সচল আছে সেগুলোও খুঁড়িয়ে চলছে।
পাবনার বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে লোকসানের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং কাঁচামালের চড়া দামের কারণে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় পণ্যের বাজারমূল্য না বাড়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসান গুণতে হচ্ছে মালিকদের।
আমদানিকৃত বিদেশি পণ্যের সহজলভ্যতা এবং বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না পাবনার স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো।
অনেক কারখানায় এখনো মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং দক্ষ শ্রমিকের সংকটে পণ্যের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে অনেক উদ্যোক্তা এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। নতুন করে বিনিয়োগ করার মতো পুঁজি অধিকাংশ মালিকের হাতে নেই।পাবনার আতাইকুলা, সুজানগর ও চাটমোহরের বিখ্যাত তাঁত শিল্প এবং ঈশ্বরদীর হোসিয়ারি পল্লীগুলো এখন নীরব। স্থানীয় কারিগরদের মতে, সুতার আকাশচুম্বী দাম আর দালালি চক্রের কারণে প্রান্তিক তাঁতিরা কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিনিধি জানান, "পাবনার শিল্পকে বাঁচাতে হলে এখনই বিশেষ প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায়, জেলাটি তার শিল্প-ঐতিহ্য হারিয়ে বেকারত্বের এক বিশাল কেন্দ্রে পরিণত হবে।"
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো জরুরি
শিল্পের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস ট্যারিফ নির্ধারণ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা। পণ্য বিপণনের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রদর্শনী কেন্দ্রের ব্যবস্থা। পাবনার এই শিল্প বিপ্লবকে পুনরায় চাঙ্গা করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলার ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং শিল্প-সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত পাবনার শিল্প খাত বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের লাভজনক টেক্সটাইল, হোসিয়ারি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো এখন ঋণের বোঝা আর লোকসানের ভারে জর্জরিত। ক্রমাগত লোকসানের কারণে অনেক কলকারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, আর যেগুলো সচল আছে সেগুলোও খুঁড়িয়ে চলছে।
পাবনার বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে লোকসানের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উঠে এসেছে
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং কাঁচামালের চড়া দামের কারণে উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় পণ্যের বাজারমূল্য না বাড়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসান গুণতে হচ্ছে মালিকদের।
আমদানিকৃত বিদেশি পণ্যের সহজলভ্যতা এবং বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না পাবনার স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো।
অনেক কারখানায় এখনো মান্ধাতা আমলের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং দক্ষ শ্রমিকের সংকটে পণ্যের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে অনেক উদ্যোক্তা এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে। নতুন করে বিনিয়োগ করার মতো পুঁজি অধিকাংশ মালিকের হাতে নেই।পাবনার আতাইকুলা, সুজানগর ও চাটমোহরের বিখ্যাত তাঁত শিল্প এবং ঈশ্বরদীর হোসিয়ারি পল্লীগুলো এখন নীরব। স্থানীয় কারিগরদের মতে, সুতার আকাশচুম্বী দাম আর দালালি চক্রের কারণে প্রান্তিক তাঁতিরা কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন প্রতিনিধি জানান, "পাবনার শিল্পকে বাঁচাতে হলে এখনই বিশেষ প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায়, জেলাটি তার শিল্প-ঐতিহ্য হারিয়ে বেকারত্বের এক বিশাল কেন্দ্রে পরিণত হবে।"
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো জরুরি
শিল্পের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস ট্যারিফ নির্ধারণ। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা। পণ্য বিপণনের জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রদর্শনী কেন্দ্রের ব্যবস্থা। পাবনার এই শিল্প বিপ্লবকে পুনরায় চাঙ্গা করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জেলার ব্যবসায়ী ও সাধারণ শ্রমিকরা।

আপনার মতামত লিখুন